অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন এই নিয়ে আমাদের অনেকের
আগ্রহ রয়েছে। বর্তমানে আমরা স্মার্টফোনে অসংখ্য অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি। এত
অ্যাপের ভিড়ে আমাদের প্রিয় অ্যাপগুলো খুঁজে পেতে আমাদের কিছুটা সময় নষ্ট হয়।
তাই এই সমস্যার সহজ সমাধান হলো কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট। এর মাধ্যমে আমাদের সময়
বাঁচে, কাজের গতি বাড়ে এবং ফোন ব্যবহার আরো স্মার্ট হয়। কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট
তৈরি করা এখন খুব সহজ সুতরাং অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি
করবেন চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।
পোস্ট সূচীপত্রঃ অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন
- অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন
- কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে কাজ করে এবং এর নানান সুবিধা
- হোম স্ক্রিন থেকে সরাসরি শর্টকাট তৈরি করার উপায়
- বিভিন্ন শর্টকাট মেকার অ্যাপ ব্যবহার করে কাস্টম শর্টকাট তৈরি করার উপায়
- বিভিন্ন কাস্টম লঞ্চার ব্যবহার করে যেভাবে শর্টকাট তৈরি করা যায়
- নির্দিষ্ট অ্যাকশনের জন্য যেভাবে শর্টকাট তৈরি করা যায়
- অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন অনুযায়ী কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি করার কিছু পার্থক্য
- কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট ব্যবহার করার সময় কিছু সতর্কতা
- কোনো কারণে কাস্টম শর্টকাট মুছে ফেলবেন যেভাবে
- শেষ কথাঃ অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন এই বিষয়ে বিস্তারিত
বলতে গেলে প্রথমেই জানতে হবে অ্যান্ড্রয়েড শর্টকাট কি। অ্যান্ড্রয়েডে
শর্টকাট হলো এমন একটি দ্রুত প্রবেশ পথ যার মাধ্যমে আমরা সরাসরি কোনো অ্যাপ বা
অ্যাপের নির্দিষ্ট অংশে প্রবেশ করতে পারি। সহজভাবে বলতে গেলে অ্যান্ড্রয়েড
শর্টকাট হলো এমন একটি স্মার্ট ফিচার যা প্রতিনিয়ত আপনার সময় বাঁচাতে সাহায্য
করে। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি হোয়াটসঅ্যাপে নির্দিষ্ট মানুষের সাথে চ্যাট
করার জন্য অথবা গুগল ম্যাপে নির্দিষ্ট লোকেশন এর জন্য নির্দিষ্ট শর্টকাট
তৈরি করতে পারি।
শর্টকাট একবার তৈরি করা হয়ে গেলে হোম স্ক্রিনে থাকা সেই শর্টকাট আইকনে ট্যাপ
করলেই সরাসরি সেই অ্যাপের নির্দিষ্ট অংশটি চালু হয়ে যাবে। নতুন করে বার
বার অ্যাপ খুলে নির্দিষ্ট জায়গায় যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি করার জন্য সবচেয়ে সহজ
উপায় হলো হোম স্ক্রিন উইজেট ব্যবহার করা। হোম স্ক্রিন উইজেট অপশনটি
পাওয়ার জন্য হোম স্ক্রিনে লং প্রেস করতে হয়। হোম স্ক্রিনে লং প্রেস
করলে উইজেট নামে একটি অপশনটি আসে তারপর যে অ্যাপের জন্য শর্টকাট বানাতে
চাই সেটি সিলেক্ট করতে হয়। যেমনঃ কন্টাক্ট অ্যাপ এর জন্য
উইজেট বানাতে চাইলে নির্দিষ্ট কন্টাক্ট সিলেক্ট করে তারপর উইজেট
বানাতে হয়। আবার সেটিং শর্টকাট দিয়ে সরাসরি ওয়াই ফাই খোলার শর্টকাট ও
তৈরি করা যায়।
আরো উন্নতভাবে কাস্টম শর্টকাট তৈরি করতে চাইলে বিভিন্ন শর্টকাট মেকার
অ্যাপ অথবা লঞ্চার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই
অ্যাপগুলোর মাধ্যমে আমরা শর্টকাটের নাম, আইকন এমনকি ব্যাকগ্রাউন্ডও নিজের
মতো কাস্টমাইজ করতে পারব। সবশেষে শর্টকাটটি হোম স্ক্রিনে যোগ করলেই এক ট্যাপে
আমাদের নির্দিষ্ট কাজটি চালু হবে। এতে যেমন সময় বাঁচবে তেমনি ফোন ব্যবহার হবে
আরো সহজ।
কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে কাজ করে এবং এর নানান সুবিধা
অ্যান্ড্রয়েডে শর্টকাট যেভাবে কাজ করে সে সিস্টেমের নাম হলো ইনটেন্ট
সিস্টেম। এটি হলো এমন এক ধরনের কমান্ড সিস্টেম বা নির্দেশনা যা অপারেটিং
সিস্টেমকে জানায় কোন অ্যাপের কোন ফিচার চালাতে হবে। উদাহরণস্বরূপ আমরা যদি
ক্যামেরার সেলফি অপশনটির জন্য শর্টকাট তৈরি করি তাহলে ফোনের অপারেটিং সিস্টেম
ক্যামেরা অ্যাপ কে বলে দেবে সরাসরি ফ্রন্ট ক্যামেরা চালু করতে।
অ্যান্ড্রয়েড ৭.১ ভার্সন থেকে অ্যাপ শর্টকাট যুক্ত হয়েছে যা ডেভেলপারদের
অ্যাপের ভেতর থেকে শর্টকাট তৈরি করার সুযোগ দেয়। ফলে ব্যবহারকারীরা এখন
সরাসরি অ্যাপ আইকনে লং প্রেস করে নিউ মেসেজ, সেলফি, নেভিগেট হোম ইত্যাদি অপশন
পেয়ে থাকে। সব মিলিয়ে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ শর্টকাট হলো এমন এক ফিচার যা
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের কাজকে করে তুলেছে আরো সহজ এবং দ্রুত। যা আমাদের
ফোন ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা কে করে আর সমৃদ্ধ।
আরো পড়ুনঃ
মাইক্রোফোন ও লাউড স্পিকার কিভাবে কাজ করে?
কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি করার নানান সুবিধা রয়েছে। প্রথমত এটি
আমাদের সময়কে সাশ্রয় করে প্রিয় অ্যাপ বা ফাংশনে এক ট্যাপে প্রবেশ করা
যায়। ফলে নানান অ্যাপের ভিড়ে আমাদের পছন্দের অ্যাপটি খুঁজে পেতে
সময় নষ্ট হয় না। দ্বিতীয়ত কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি করার
মাধ্যমে আমরা আমাদের পছন্দের মত এবং নিজেদের কাজের ধরন অনুযায়ী শর্টকাট
সাজাতে পারি। আবার প্রতিবার অ্যাপ সার্চ না করেই দ্রুত প্রয়োজনীয়
অ্যাপটি পেয়ে যাওয়ার মাধ্যমে আমাদের প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি
পায়। তৃতীয়ত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ সরিয়ে কেবল দরকারি শর্টকাট রাখার
ফলে ফোনের হোম স্ক্রিন থাকে পরিপাটি।
হোম স্ক্রিন থেকে সরাসরি শর্টকাট তৈরি করার উপায়
অ্যান্ড্রয়েডে হোম স্ক্রিন থেকে সরাসরি শর্টকাট তৈরি করা সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি।
এতে কোনো অতিরিক্ত অ্যাপ ইনস্টল করতে হয় না। বরং ফোনের বিল্ট-ইন ফিচার ব্যবহার
করেই আমরা আমাদের প্রিয় অ্যাপ বা ফাংশনের শর্টকাট তৈরি করতে
পারি। হোম স্ক্রিন থেকে সরাসরি শর্টকাট তৈরি করার জন্য প্রথমে হোম
স্ক্রিনে লং প্রেস করতে হবে। তারপর উইজেট অপশন সিলেক্ট করলে আমরা সেখানে আমাদের
ইনস্টল করা সব অ্যাপের লিস্ট দেখতে পাবো। অনেক অ্যাপের ক্ষেত্রে উইজেটের
ভেতরেই শর্টকাট তৈরির ফিচার থাকে।
উদাহরণস্বরূপ কন্টাক্ট অ্যাপের উইজেট ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কন্টাক্টে সরাসরি কল করার শর্টকাট অথবা ম্যাপ ডিরেকশন দিয়ে
নির্দিষ্ট লোকেশনে নেভিগেশনের শর্টকাট তৈরি করা যায়। আমরা যে অ্যাপের
জন্য শর্টকাট বানাবো সেই অ্যাপের পছন্দের উইজেটটি ধরে হোম
স্ক্রিনে নিয়ে আসবো এবং এরপর প্রয়োজনমতো অ্যাকশন নির্বাচন করলেই শর্টকাট তৈরি
হয়ে যাবে। চাইলে আমরা শর্টকাট আইকনের নাম বা অবস্থান নিজেদের প্রয়োজন
অনুযায়ী পরিবর্তন করতে পারি। এই সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করার মাধ্যমে কোনো
থার্ড পার্টি অ্যাপ ব্যবহার করা ছাড়াই নিজের
ফোনকে নিজের প্রয়োজনমতো সাজানো যায়।
বিভিন্ন শর্টকাট মেকার অ্যাপ ব্যবহার করে কাস্টম শর্টকাট তৈরি করার উপায়
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি করার জন্য আমরা বিভিন্ন শর্টকাট
মেকার ব্যবহার করতে পারি। এইসব শর্টকাট বেকার ব্যবহার করার বেশি
সুবিধা রয়েছে শর্টকাট মেকার অ্যাপ দিয়ে আমরা কেবল অ্যাপের শর্টকাটই নয়
বরং নির্দিষ্ট ফাংশন, সেটিংস, এমনকি হিডেন বিভিন্ন ফিচারের জন্যও শর্টকাট তৈরি
করতে পারবো। বিভিন্ন শর্টকাট মেকার অ্যাপের মধ্যে শর্টকাট
মেকার, কুইক শর্টকাট মেকার, সেসেমি শর্টকাট এবং স্মার্ট
শর্টকাট এগুলো অধিক জনপ্রিয়।
শর্টকাট মেকার নামের এই অ্যাপটি ব্যবহার করে যেভাবে শর্টকাট বানানো যায়
সে সম্পর্কে আমরা বিস্তারিত জানব। শর্টকাট মেকার অ্যাপটি গুগল
প্লে স্টোরে ফ্রিতে পাওয়া যায় সেখান থেকে আমাদের প্রথমে
অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করতে হবে। তারপর অ্যাপের ভিতর প্রবেশ
করে অ্যাপ একটিভিটি, ইনটেন্ট বা ফোল্ডার সেকশন থেকে আমরা আমাদের
কাঙ্ক্ষিত অ্যাপ বা ফিচার সিলেক্ট করব। এরপর শর্টকাটের নাম, আইকন,
এবং ব্যাকগ্রাউন্ড নিজের মতো কাস্টমাইজ করে সবশেষে ক্রিয়েট শর্টকাট অপশনে
ট্যাপ করলেই শর্টকাটটি হোম স্ক্রিনে তৈরি হয়ে যাবে। এভাবে খুব সহজেই আমরা
শর্টকাট মেকার অ্যাপ ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজন মতো শর্টকাট তৈরি করতে
পারবো।
বিভিন্ন কাস্টম লঞ্চার ব্যবহার করে যেভাবে শর্টকাট তৈরি করা যায়
অ্যান্ড্রয়েড ফোনের অন্যতম একটি দিক হলো কাস্টমাইজেশনের স্বাধীনতা। এই
স্বাধীনতাকে আরো বাড়িয়ে দেয় বিভিন্ন কাস্টম লঞ্চার অ্যাপগুলো যেগুলোর
সাহায্যে আমরা শুধু থিম ও আইকন নয় বরং কাস্টম শর্টকাটও তৈরি করতে
পারি। বর্তমানে বেশ কিছু জনপ্রিয় কাস্টম লঞ্চার
অ্যাপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে নোভা লঞ্চার, মাইক্রোসফট
লঞ্চার, স্মার্ট লঞ্চার এবং অ্যাকশন লঞ্চার অধিক জনপ্রিয়।এখন আমরা
এগুলোর মধ্যে নোভা লঞ্চার এবং মাইক্রোসফট লঞ্চারে কিভাবে কাস্টম অ্যাপ
শর্টকাট তৈরি করা যায় তা দেখব।
বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় কাস্টম লঞ্চারগুলোর একটি হলো নোভা
লঞ্চার। এটি ব্যবহার করে আমরা যেকোনো অ্যাপের জন্য শর্টকাট তৈরি করতে
পারবো। প্রথমে গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে আমাদের সার্চ করতে হবে নোভা
লঞ্চার। এরপর যে অ্যাপটি আসবে সেটিকে আমাদের ডাউনলোড করে ইন্সটল করে
নিতে হবে। ইন্সটল হয়ে যাওয়ার পর আমাদের অ্যাপটি ওপেন করতে হবে
এবং ডিফল্ট লঞ্চার হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। ডিফল্ট লঞ্চার হিসেবে নির্বাচন
করার পর হোম স্ক্রিনে লং প্রেস করলে উইজেট নির্বাচনের একটি জায়গা
আসবে এখানে আমাদের নোভা অ্যাকশন সিলেক্ট করতে হবে। এখন এখান থেকে
বিভিন্ন অ্যাপের শর্টকাট তৈরি করার পাশাপাশি আমরা আইকন এবং নামও
পরিবর্তন করতে পারবো এবং একদম নিজেদের মনের মতো করে সাজাতে পারব।
আমরা যদি একটি প্রফেশনাল লুক চায় তবে মাইক্রোসফট লঞ্চার হবে আমাদের জন্য একটি
দারুণ বিকল্প। প্রথমে আমাদের গুগল প্লে স্টোর থেকে মাইক্রোসফট লঞ্চার
ডাউনলোড করে সেটাকে ইনস্টল করতে হবে। ইন্সটল করা হয়ে গেলে সেটাকে
আমাদের ফোনের ডিফল্ট লাঞ্চার হিসেবে সিলেক্ট করতে হবে। ডিফল্ট লঞ্চার
হিসেবে সিলেক্ট করার পর হোমস্ক্রিনে এসে ফাঁকা কোন স্থানে লং প্রেস
করতে হবে। লং প্রেস করলে সেখানে একটি মেনু আসবে যেখানে
আমাদের উইজেট অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে এবং স্ক্রল করে নিচে গেলে
মাইক্রোসফট লাঞ্চার শর্টকাট বা অ্যাকশন দেখা যাবে। সেখান
থেকে নির্দিষ্ট অ্যাকশন বা শর্টকাট বেছে নিয়ে সেটি হোম স্ক্রিনে
ড্র্যাগ করলেই শর্টকাট তৈরি হয়ে যাবে।
আরো পড়ুনঃ
উইন্ডোজ ১১ আপডেটের সুবিধা বিস্তারিত জানুন
এবার আসা যাক স্মার্ট লঞ্চারের ব্যাপারে স্মার্ট লঞ্চারের
নিয়মগুলো উপরে থাকা বাকি লঞ্চার গুলোর মত হলেও রয়েছে কিছুটা ভিন্নতা।
স্মার্ট লঞ্চার অ্যান্ড্রয়েডের অন্যতম জনপ্রিয় কাস্টম লঞ্চারগুলোর একটি। যা
আমাদের ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে আরো সহজ ও দ্রুত করে তোলে। এর অন্যতম
আকর্ষণীয় ফিচার হলো কাস্টম শর্টকাট তৈরি করার সুবিধা। স্মার্ট লঞ্চার ব্যবহার
করে আমরা শুধু অ্যাপ নয়, নির্দিষ্ট অ্যাকশন বা সেটিংসের জন্যও শর্টকাট তৈরি
করতে পারব।
শর্টকাট তৈরির জন্য প্রথমে হোম স্ক্রিনে লং প্রেস করে অ্যাড আইটেম বা
অ্যাড শর্টকাট অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। এরপর তালিকা থেকে পছন্দের অ্যাপ
বা নির্দিষ্ট অ্যাকশন যেমন কল করা, ওয়েবসাইট খোলা বা কোনো সেটিংস চালু করা
বেছে নিতে হবে। চাইলে আমরা শর্টকাটের নাম ও আইকনও পরিবর্তন করে নিজেদের মতো
করে সাজাতে পারি। সবশেষে শর্টকাটটি হোম স্ক্রিনে যোগ করতে হবে। স্মার্ট
লঞ্চারের বিশেষত্ব হলো এটি শর্টকাটগুলোকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্রেণিবদ্ধ করে
রাখে এবং মিনিমাল ডিজাইনে ব্যবহার করা যায়। ফলে আমরা সহজেই প্রয়োজনীয় কাজ
এক ট্যাপেই সম্পন্ন করতে পারি। এইভাবে স্মার্ট লঞ্চার শুধু ফোনের লুকই
পরিবর্তন করে না বরং ফোন ব্যবহারের গতিও বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।
নির্দিষ্ট অ্যাকশনের জন্য যেভাবে শর্টকাট তৈরি করা যায়
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আমরা প্রতিদিন একই কাজগুলো বারবার করি যেমন
ওয়াইফাই অন করা, প্রিয় কন্টাক্টে কল করা, নোট খোলা বা ক্যামেরা চালু করা
ইত্যাদি। কিন্তু প্রতিবার এই কাজগুলো করার জন্য অ্যাপ খুলা
সময়সাপেক্ষ। তাই এসব কাজের জন্য আমরা বিভিন্ন শর্টকাট ব্যবহার করতে
পারি। একটি নির্দিষ্ট অ্যাকশন বা কাজের জন্য নির্দিষ্ট শর্টকাট তৈরি
করলে আমরা মাত্র এক ট্যাপে সেই কাজটি সম্পন্ন করতে পারবো। আমরা বিভিন্ন কাজের
জন্য সেটিংস শর্টকাট তৈরি করতে পারি। এর জন্য আমাদের প্রথমে
- হোম স্ক্রিনে লং প্রেস করে উইজেট অপশন নির্বাচন করতে হবে।
- তারপর স্ক্রল করে সেটিং শর্টকাট অপশন খুঁজে বের করতে হবে।
- এখানে ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, ডাটা ইউজ ,ডিসপ্লে বা ব্যাটারির মতো যেকোনো সেটিংস বেছে নিয়ে শর্টকাট বানাতে হবে।
এখন শর্টকাট আইকনে ট্যাপ করলেই সরাসরি আমাদের সেই সেটিংস পেজ ওপেন
হয়ে যাবে ফলে বারবার অ্যাপ খুঁজে ওপেন করার প্রয়োজন হবে
না।
আবার আমরা যদি নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তি কে এক ট্যাপের সাহায্যে কল বা
মেসেজ করতে চাই থাহলে আমরা কন্টাক্টস অ্যাপে গিয়ে সেখানে পছন্দের কন্টাক্টে
ট্যাপ করে মেনু থেকে অ্যাড টু হোম সিলেক্ট করতে পারি থাহলে আমাদের
পছন্দের কন্টাক্টের শর্টকাট হোম স্ক্রিনে ছলে আসবে এবং আমরা এক
ট্যাপে কল বা মেসেজ পাঠাতে পারবো। এছাড়ও আমরা কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি
করে মাধ্যমে পছন্দের অ্যাপের নির্দিষ্ট অংশে সরাসরি যেতে
পারি যেমন ইউটিউবে সাবস্ক্রিপশন পেজে বা জিমেইলে কম্পোজ মেইল পেজে।
এই কাজের জন্য আমরা শর্টকাট মেকার বা কুইক শর্টকাট মেকার অ্যাপ ব্যবহার
করতে পারি।
আমরা যদি আরো উন্নতভাবে এটি ব্যবহার করতে চাই তাহলে টাক্সকার বা
ম্যাক্রোড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করতে পারি। এই অ্যাপগুলো দিয়ে আমরা অটোমেটিক
অ্যাকশন শর্টকাট তৈরি করতে পারবো যেমন: ওয়াইফাই অন হলে ব্লুটুথ বন্ধ হবে বা
একটি নির্দিষ্ট লোকেশনে পৌঁছালে গুগল ম্যাপ খুলবে ইত্যাদি।
অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন অনুযায়ী কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট তৈরি করার কিছু পার্থক্য
অ্যান্ড্রয়েডের একটি আকর্ষণীয় দিক হলো এর ধারাবাহিক উন্নয়ন। প্রতিটি নতুন
ভার্সনের সঙ্গে গুগল ব্যবহারকারীদের উন্নত নানান ফিচার ও কাস্টমাইজেশনেএ
সুবিধা দেয়। তারই অংশ হিসেবে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট বা অ্যাপ শর্টকাট এই
ব্যবস্থাতেও সময়ের সঙ্গে এসেছে অনেক পরিবর্তন এবং যুক্ত হয়েছে নানা নতুন
ফিচার। নিচে আমরা দেখব বিভিন্ন অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন অনুযায়ী শর্টকাট তৈরির
মূল পার্থক্যগুলো।
- অ্যান্ড্রয়েড ৫ ললিপপ ও অ্যান্ড্রয়েড ৬ মার্শম্যালো: অ্যান্ড্রয়েডের এই ভার্সনগুলোতে শর্টকাট তৈরির জন্য কোনো বিল্ট-ইন সিস্টেম ফিচার ছিল না। ব্যবহারকারীরা মূলত থার্ড পার্টি বিভিন্ন অ্যাপ যেমন কুইক শর্টকাট মেকার বলা নোভা লঞ্চার ইত্যাদি ব্যবহার করে শর্টকাট তৈরি করত।
- অ্যান্ড্রয়েড 7 নৌগাট এবং ডায়নামিক শর্টকাটের সূচনা: অ্যান্ড্রয়েড ৭.১ এ প্রথমবারের মতো গুগল ডায়নামিক শর্টকাটের সূচনা করে। যেখানে প্রতিটি অ্যাপ চাইলে নিজস্ব শর্টকাট কোডের মাধ্যমে তৈরি করতে পারত যেমন জিমেইলে কম্পোজ অপশন অথবা অথবা হোয়াটসঅ্যাপে নিউ চ্যাট অপশন ইত্যাদি। এক্ষেত্রে কোন থার্ড পার্টি অ্যাপের প্রয়োজন হতো না।
- অ্যান্ড্রয়েড ৮ ওরিও: অ্যান্ড্রয়েড ৮ থেকে স্থায়ী ও কাস্টম শর্টকাটের সূচনা হয়। অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন ৮ এ ব্যবহারকারীরা স্ট্যাটিক শর্টকাট এবং ডাইনামিক শর্টকাট উভয়ই ব্যবহার করতে পারতো। এছাড়াও পিন শর্টকাট চালু হওয়ার ফলে শর্টকাটগুলো সরাসরি হোমো স্কিনে অ্যাড করা যেত।
- অ্যান্ড্রয়েড ৯ পাই ও অ্যান্ড্রয়েড ১০: এখানে ব্যবহারকারীরা তাদের ব্যবহার অনুযায়ী সাজেস্টেড শর্টকাট দেখতে পারত। শর্টকাটগুলো গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ডিজিটাল ওয়েলবিং ফিচারের সঙ্গে যুক্ত হয়। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা টাক্সকার বা ম্যাক্রোড্রয়েড অ্যাপ ব্যবহার করে অটোমেশন অ্যাপ দিয়ে নির্দিষ্ট শর্তে শর্টকাট অটোমেটিক চালাতে পারত।
- অ্যান্ড্রয়েড ১১ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ১৪: বর্তমানে এই অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন গুলো সবচেয়ে উন্নত এবং কাস্টমাইজেবল। শর্টকাটের কালার ও স্টাইল পরিবর্তন করা যায়, লঞ্চারগুলোতে জেসচার কন্ট্রোল যুক্ত হয়েছে, যেমন সোয়াইপ বা ডাবল ট্যাপে নির্দিষ্ট অ্যাকশন চালানো ইত্যাদি। আবার এছাড়া কিছু অ্যাপে এখন অ্যাডাপ্টিভ শর্টকাট ফিচার রয়েছে যা ব্যবহারকারীর অভ্যাস অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাজানো হয়ে থাকে।
কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট ব্যবহার করার সময় কিছু সতর্কতা
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন এ বিষয়ে আশা করি
আপনারা একটি পূর্ণ ধারণা পেয়েছেন। অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট
ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক দ্রুত ও সহজ করে তুলেছে। তবে এটির
নানান সুবিধা থাকার পাশাপাশি সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে রয়েছে কিছু ঝুঁকির
দিক। তাই কাস্টম শর্টকাট ব্যবহার করার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায়
রাখা জরুরি। প্রথমত বিশ্বস্ত উৎস থেকে শর্টকাট অ্যাপ ডাউনলোড করা অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। গুগল প্লে স্টোরে শর্টকাট মেকার, নোভা লঞ্চার বা মাইক্রোসফট
লাঞ্চারের মতো নিরাপদ অ্যাপ রয়েছে। কিন্তু আমরা সেখান থেকে ডাউনলোড
না করে অচেনা থার্ড পার্টি কোন ওয়েবসাইট থেকে অনিরাপদ এপেক ফাইল ডাউনলোড
বা ইনস্টল করি তাহলে আমাদের ফোনে নানা ম্যালওয়্যার বা ভাইরাস
প্রবেশের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি শর্টকাটের মাধ্যমে এই অ্যাপগুলো
আমাদের পারমিশন বা ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারে যা গোপনীয়তার জন্য খুবই
ক্ষতিকর।
দ্বিতীয়ত আমরা যখন শর্টকাট তৈরি করব তখন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পারমিশন
বা অনুমতি যাচাই করা জরুরি। কিছু শর্টকাট যেমন কল করা, লোকেশন চালু করা
বা সেটিংস পরিবর্তন করার মতো কাজ করতে পারে যদি এগুলোর অপব্যবহার হয়
তাহলে ফোনের নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়বে এমনকি আমাদের
গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশন হ্যাকারদের কাছে চলে গেলে সেটি আরো বড় ঝুঁকির কারণ
হয়ে দাঁড়াবে কারণ আজকাল আমাদের ব্যাংকের যাবতীয় ইনফরমেশন এর
পাশাপাশি ব্যক্তিগত সকল ইনফরমেশন ফোনে থাকে। তাই প্রতিটি শর্টকাট তৈরির
আগে অবশ্যই আমাদের সতর্ক হতে হবে।
তৃতীয়ত অতিরিক্ত শর্টকাট তৈরি করার ফলে ফোনের পারফরম্যান্সে প্রভাব
পড়তে পারে। বিশেষ করে মোবাইল ফোনটি যদি পুরোনো হয়। কারণ
পুরোনো ডিভাইসগুলোতে অনেক বেশি হোম স্ক্রিন শর্টকাট থাকলে র্যাম ও
ব্যাটারি ব্যবহার বেড়ে যায় ফলে ফোন স্লো হয়ে যাওয়া সহ নানা
সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই অপ্রয়োজনীয় শর্টকাট তৈরি করা থেকে
আমাদের বিরত থাকা উচিত। আবার সিস্টেম আপডেটের কারণে মাঝে মাঝে অনেক
সময় শর্টকাটগুলো কাজ নাও করতে পারে বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই বড়
ধরণের কোন সফটওয়্যার আপডেটের পর শর্টকাটগুলো রিভিউ করা এবং প্রয়োজনে
নতুন করে তৈরি করা ভালো অভ্যাস।
কোনো কারণে কাস্টম শর্টকাট মুছে ফেলবেন যেভাবে
হোম স্ক্রিন থেকে কাস্টম শর্টকাট মুছে ফেলা সাধারণত অনেক সহজ একটি
কাজ। প্রথমে হোম স্ক্রিনে সেভ করা শর্টকাট আইকনে আঙুল রেখে লম্বা চাপ দিলে
উপরে বা নিচে প্রদর্শিত রিমুভ, ডিলেট বা ট্র্যাশ আইকনে ড্র্যাগ করে
ছেড়ে দিতে হবে। অনেক ডিভাইসে একটি পপ আপ আসতে পারে সেখানে রিমুভ ফ্রম হোম
বা আনইনস্টল অপশন দেখাবে কেবল রিমুভ সিলেক্ট করলেই শর্টকাট শুধু হোম
স্ক্রিন থেকে মুছে যাবে কিন্তু অ্যাপটি থাকবে। আবার যদি শর্টকাট কোনো
উইজেটের মাধ্যমে তৈরি করা হয়ে থাকে তাহলে আইকন ধরে রাখলে রিমুভ বা
ডিলেট উইজেট অপশন আসবে সেটাও একইভাবে ড্র্যাগ করে ছেড়ে
দিলে মুছে যাবে। কাস্টম লঞ্চার যেমন নোভা বা মাইক্রোসফট লাঞ্চার
ব্যবহার করলে লঞ্চারের সেটিংস মেনুতে গিয়ে শর্টকাট বা হোম স্ক্রিন সেকশনে
গিয়ে ম্যানেজ বা রিমুভ অপশনে গিয়ে নির্দিষ্ট শর্টকাট ডিলেট করতে হবে।
কিছু লঞ্চারে শর্টকাট মুছে ফেললেও সেটি লঞ্চারের ডেটাবেস থেকেও মুছে যায়।
যদি আমরা শর্টকাট মেকা্র, কুইক শর্টকাট মেকার বা টাক্সকার মতো থার্ড
পার্টি অ্যাপ দিয়ে শর্টকাট বানিয়ে থাকি। তাহলে ওই অ্যাপটি খুলে ম্যানেজ
শর্টকাট বা মাই শর্টকাট অপশনে গিয়ে সংশ্লিস্ট শর্টকাট নির্বাচন
করে ডিলেট বা রিমুভ করতে হবে। কখনো কখনো অ্যাপের ভেতর থেকে মুছে না
ফেললে হোম স্ক্রিনে থাকা শর্টকাট কাজ করে না বা রিঅ্যাপোরের ফলে আবার ফিরে
আসতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
আরো একটি উপায় হলো অ্যাপ আনইনস্টল করা যদি শর্টকাটটি কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপ
কর্তৃক ক্রিয়েট করা হয়ে থাকে এবং আমাদের সেই অ্যাপটি পুনরায় আর
ব্যবহার করার প্রয়োজন না থাকে তাহলে অ্যাপ আনইনস্টল করলে সংশ্লিষ্ট
শর্টকাটও রিমুভ হয়ে যাবে। যদি কোনো শর্টকাট মুছে দিলেও সেটি হোম স্ক্রিনে
রয়ে যায় বা পুনরায় তৈরী হয় তাহলে ডিভাইস রিস্টার্ট করতে হবে। অনেক সময় কেশ
বা লঞ্চার ক্র্যাশের কারণে অবশিষ্ট আইকন থেকে যায়।
নিরাপত্তার জন্য ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত কন্টেন্টের শর্টকাট মুছে ফেলার পর
সংশ্লিষ্ট অ্যাপের দ্রুত এক্সেস বাতিল করে দেওয়া উচিত। হোম স্ক্রিনে থাকা
ব্যক্তিগত শর্টকাট যদি কারো হাতে পড়ে যায় তা থেকে ডেটা লিক বা চুরি হতে
পারে সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ শর্টকাটগুলো নিরাপদ ফোল্ডারে রাখা এবং
পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা উচিত। বড় সিস্টেম আপডেটের পর যদি শর্টকাটগুলো
অদৃশ্য হয়ে যায় অথবা কাজ না করে তাহলে পুরনো শর্টকাটগুলো রিমুভ করে
প্রয়োজনীয়গুলো নতুন করে বানিয়ে নিতে হবে এভাবে হোম স্ক্রিন পরিপাটি ও
নিরাপদ থাকবে।
শেষ কথাঃ অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন
অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট কীভাবে তৈরি করবেন এই বিষয়ে
উপরে এতক্ষন বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো। অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ
শর্টকাট তৈরির সুবিধা আসলে আমাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে এক নতুন
মাত্রায় নিয়ে গেছে।আমরা এতক্ষণে জেনেছি শর্টকাট কী, এটি কীভাবে কাজ
করে এবং কীভাবে হোম স্ক্রিন বা বিভিন্ন কাস্টম লঞ্চারের মাধ্যমে শর্টকাট
তৈরি করা যায়। শুরুতে পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনগুলোতে থার্ড পার্টি
অ্যাপের ওপর নির্ভর করতে হলেও, এখনকার অ্যান্ড্রয়েড ১১ থেকে ১৪ ভার্সনে
বিল্ট-ইন ফিচারের মাধ্যমে খুব সহজেই শর্টকাট তৈরি করা যায়।
এছাড়াও শর্টকাট মেকার, নোভা লঞ্চার, মাইক্রোসফট লঞ্চার এবং কুইক
শর্টকাট মেকারের মতো অ্যাপ ব্যবহার করে এখন যে কেউ নিজের ফোনে নিজের
প্রয়োজন পছন্দ অনুযায়ী শর্টকাট তৈরি করতে পারে। শুধু তাই নয় নির্দিষ্ট
অ্যাকশন যেমন কল করা, মেসেজ পাঠানো, ওয়াইফাই অন করা বা নির্দিষ্ট অ্যাপের
পেজে সরাসরি যাওয়ার জন্যও শর্টকাট বানানো সম্ভব। এসব ফিচার শুধু সময়
বাঁচায় না বরং আমাদের কাজের দক্ষতা বাড়ায়। তবে শর্টকাট ব্যবহারের সময়
কিছু সতর্কতা মেনে চলা খুবই জরুরি বিশ্বস্ত অ্যাপ ব্যবহার করা,
পারমিশন দেওয়ার আগে যাচাই করা এবং ব্যক্তিগত শর্টকাট নিরাপদে
রাখা প্রয়োজন। অ্যান্ড্রয়েড ভার্সনের উন্নয়নের সঙ্গে শর্টকাট
ব্যবস্থাও উন্নত হচ্ছে। যে আমাদের জীবনকে আরও সহজ করে
তুলছে।
আমার মতে, অ্যান্ড্রয়েডের কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট ফিচারটি হলো এক সত্যিকারের
স্মার্ট ইনোভেশন।যা আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজগুলো যেমন ফোনে কল করা,
কোনো অ্যাপ খোলা, বা সেটিংস পরিবর্তন করা ইত্যাদি কাজে যেখানে আগে ৩
থেকে ৪ টা ধাপ পার করা লাগত এখন মাত্র এক ট্যাপেই করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ
করে যারা ব্যস্ত বা দ্রুত অ্যাক্সেস পেতে চায় তাদের জন্য এটি এক
অসাধারণ টুল।
আমি ব্যক্তিগতভাবে শর্টকাট মেকার এবং নোভা লঞ্চার ব্যবহার করি কারণ এগুলো
কেবল কার্যকরই নয় বরং ডিজাইন আইকন ও নাম পরিবর্তনের সুযোগ দিয়ে ফোনকে
সম্পূর্ণ নিজের মতো করে সাজাতে দেয়। তবে আমি মনে করি শর্টকাট ব্যবহারের
সময় ব্যবহারকারীর সচেতন থাকা খুবই জরুরি কারণ শর্টকাট যত সহজ ভুলভাবে
ব্যবহারে তা তত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আমাদের ফোনে আমাদের ব্যাংকিং অ্যাপ,
ব্যক্তিগত ফাইল বা নোটের শর্টকাট হোম স্ক্রিনে রাখলে অন্য কেউ সহজেই
অ্যাক্সেস পেতে পারে। তাই আমাদের উচিত প্রয়োজনীয় শর্টকাট তৈরি করা এবং
অপ্রয়োজনীয়গুলো মুছে ফেলা পাশাপাশি সিকিউরিটি সেটিংস আপডেট রাখা।
সার্বিকভাবে বলতে গেলে অ্যান্ড্রয়েডে কাস্টম অ্যাপ শর্টকাট এমন একটি ফিচার
যা আমাদের সময় বাঁচায় না বরং আমাদের স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরণকেও আরও
প্রোডাকটিভ, ব্যক্তিগত ও আধুনিক করে তোলে।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url