অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় জানুন বিস্তারিত
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় জানতে আপনি কি আগ্রহী। তাহলে আজকের আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ আর্টিকেলটি আপনার জন্যই। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার বিভিন্ন কার্যকরী পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের মধ্যে অনলাইন থেকে ইনকাম করার অনেক পথ আছে, কিন্তু তাদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়, সহজ এবং কার্যকরী পথ হচ্ছে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং। তো চলুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।
পোস্ট সূচীপত্রঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায়।
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায়
- আফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে কি
- ফোন ব্লাটফর্মা থেকে আফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবো
- আফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য নিস নির্বাচন
- আফিলিয়েট মার্কেটিস কি কি প্রয়োজন হয়
- ফেসবুকে কি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ইনকাম কত করা যার
- বর্তমান সমরে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চাহিদা কেমন
- নতুনদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার কিছু টিপস
- লেখকের শেষ কথা
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করায় উপায়
বর্তমান সারা বিশ্বে অনলাইন থেকে ইনকাম করার বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে, অসংখ্য পদ্ধতি
আছে যেগুলো অবলম্বন করে আপনি অনলাইন থেকে ইনকাম করতে পারবেন। বর্তমান সময়ে অনলাইন
থেকে ইনকামের এই মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম কার্যকরী একটি হলো অ্যাফিলিয়েটন
মার্কেটিং। আপনি এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং যদি ভালোভাবে শুরু করতে পারেন, ভালো
ইনকামের পাশাপাশি আপনার ভবিষ্যতে ক্যারিয়ার সাফল্যে সহজ ভাবে পৌঁছাতে
পারবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর বিশেষত্ব হল, এটি শুরু করতে নিজের কোন প্রোডাক্ট এর
প্রয়োজন হয় না, নির্দিষ্ট জায়গা বা অসংখ্য লোকজন নিয়েও করতে হয় না। শুধুমাত্র
ইন্টারনেট কানেকশন আরেকটি ব্যবহারযোগ্য ডিভাইস আর কিছুটা সময় দিয়েই, আপনি শুরু
করতে পারবেন। এখন হয়তো আপনার নিজের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, যে আমি তো অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং সম্পর্কে কোন কিছুই জানিনা। আমার জন্য হয়তোবা এটি শুরু করা অনেক কঠিন
হবে।
সাধারণভাবে বলতে গেলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা বা এখানে সাফল্য অর্জন করা
অনেক যে কঠিন ব্যাপারটা মোটেই এমন না। পরিকল্পনা, পরিশ্রম আর সঠিক গাইডলাইন
থাকলে, সহজভাবেই ধাপে ধাপে এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা যায়। আজকের এই
আর্টিকেলো আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায়, কোন প্লাটফর্মে কাজ করলে
ভাল হবে এবং কিভাবে দ্রুত সাফল্যে পৌঁছানো যাবে এই বিষয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করব। তো এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানতে এবং কিভাবে শুরু করবেন এ বিষয়ে বুঝতে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেল জুড়ে আমাদের সাথেই থাকুন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং আসলে কি
সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলতে বোঝায়, অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পণ্য
বা সার্ভিসকে প্রচার করে সেখান থেকে কমিশন আদায় করাকেই। আমি আপনাকে আরো সহজ ভাবে
বুঝিয়ে বলি, ধরুন আপনার কোন ভাইয়ের একটি জুতার দোকান আছে, এখন আপনি সেই জুতার
বিষয়ে আপনার বন্ধুদের কাছে শেয়ার করলেন এরপর আপনার ভাইয়ের দোকানের পণ্যের মান,
এবং দাম সম্পর্কে জেনে আপনার বন্ধুরা জুতা ক্রয় করল।
এখন আপনার মাধ্যমে যখন জুতা সম্পর্কে জেনেছে এবং ক্রয় করেছে। তাহলে এই জুতার
মার্কেটের হলেন আপনি। এখন আপনি যদি আপনার ভাইয়ের সাথে আগে থেকেই চুক্তি দিয়ে
রাখতেন, যে আমার মাধ্যমে তোমার দোকানের যে পণ্যগুলো বিক্রি হবে, তা থেকে আমাকে
কিছু কমিশন বা লাভ দিতে হবে। তাহলেই দেখা যেত, আপনার মাধ্যমে যে সকল পণ্য বিক্রয়
হতো, সেগুলো থেকে আপনি লাভের একটা অংশ পেতেন। আর এই অংশটাই হলো অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং এর আয়।
ঠিক এখানে যেমন আপনি আপনার ভাইয়ের পণ্য প্রচার করে কমিশন আয় করলেন, অনলাইনে
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর কার্যকলাপ ঠিক একই রকম। তথা আপনি আপনার ডিভাইস ব্যবহার
করে বিভিন্ন কোম্পানির প্রচার-প্রচারণা চালাবেন। আর আপনার প্রচারের মাধ্যমেই যে
সকল গ্রাহকগণ ওইসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য সার্ভিস গ্রহণ করবে, সেখান থেকে আপনি কমিশন
পাবেন। এই ধারাটি মূলত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং নামে পরিচিত।
অনলাইনে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য, প্রথমে আপনাকে অ্যাফিলিয়েট লিংক
শেয়ার করে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে তাদের অ্যাফিলিয়েট লিংকটি নিতে হবে।
তাদের দেওয়া এই লিঙ্কটি প্রচার করাই হবে আপনার কাজ। পরবর্তীতে আপনার মার্কেটিং
করা লিংক থেকে গ্রাহকরা যখন ওই প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবা গ্রহণ করা শুরু করবে,
তখন আপনার একটা কমিশন আদায় হবে। আর এটাই হবে আপনার অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয়।
কোন প্লাটফর্ম থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবো
বর্তমান সারা বিশ্বে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হাজার হাজার প্লাটফর্ম আছে, তবে
এগুলোর মধ্য থেকে আমাদেরকে নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক সময়ে পেমেন্ট করে এমন বিশ্বস্ত
প্ল্যাটফর্ম খুঁজে বের করতে হবে। তাহলে আমাদের অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে
ইনকাম এবং সাফল্য দুটি অনেক সহজ হবে। তো চলুন অ্যাফিলিয়েট শেয়ার করে এমন কয়েকটা
বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে জেনে নেই।
- অ্যামাজন: বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামর হলো amazon, এই amazon এর প্রায় ১০ মিলিয়ন ডিলার রয়েছে। অ্যামাজনের বিভিন্ন পণ্য মার্কেটিং করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তারা বিশ্বস্ততার সাথে সঠিক সময়ে পেমেন্ট করে। অর্থাৎ আপনি যদি আমাজনের কোন পণ্যের মার্কেটিং করে যে অ্যাফিলিয়েট কমিশন পাবেন, তা খুব সহজেই আপনার নিজের কাছে নিয়ে আসতে পারবেন। তাই নতুনদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে অ্যামাজন হল সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম।
- Clink Bank: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ক্লিক ব্যাংক একটি অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। সাধারণত ক্লিক ব্যাংক বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল প্রোডাক্টের অ্যাফিলিয়েট শেয়ার করে থাকে, এবং প্রত্যেকটা প্রোডাক্টের পর্যাপ্ত কমিশন ও বিশ্বস্ততার সাথে সঠিক সময়ে প্রদান করে। যেহেতু ক্লিক ব্যাংক ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর জন্য বিখ্যাত। তাই এখান থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা আপনার জন্য অনেক সহজ হবে। এমনকি অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য ক্লিক ব্যাংকের রেজিস্ট্রেশন করা অনেক সহজ।
- Share Sale: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে Share Sale হতে পারে আপনার জন্য দারুন একটা প্ল্যাটফর্ম। কারণ এখানে হাজারো ব্র্যান্ডের টেক, ফ্যাশন, হোম ডেকর এবং বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার সহ নানা ক্যাটাগরির প্রোডাক্ট থাকে। এ সকল প্রোডাক্ট এর মধ্যে থেকে আপনার পছন্দ অনুযায়ী প্রোডাক্টগুলোর অ্যাফিলিয়েট লিংক নিয়ে মার্কেটিং করতে পারবেন। এবং আপনার জন্য কমিশন আদায় করাও অনেক সহজ হবে। যে সকল প্লাটফর্ম গুলো অ্যাফিলিয়েট লিংক শেয়ার করে তাদের থেকে তুলনামূলকভাবে Share Sale প্লাটফর্ম নতুনদের জন্য খুব সহজ। তাই যারা নির্দিষ্ট কোন বিষয় নিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সাফল্য অর্জন করতে চান তাদের জন্য Share Sale একটি দারুণ প্লাটফর্ম।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার জন্য নিস নির্বাচন
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সঠিকভাবে শুরু করতে হলে সর্বপ্রথমেই আপনাকে একটি নির্দিষ্ট
Nish নির্বাচন করে নিতে হবে। সাধারণত Nish মানে হলো একটি বিষয়, যেমন আপনি
কোন কোন প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করবেন, বর্তমান সময়ে কোন প্রোডাক্টের চাহিদা
রয়েছে এবং কোনগুলো আপনার জন্য সহজ হবে ইত্যাদি বিষয় চিন্তা ভাবনা করে আপনাকে
নির্দিষ্ট পণ্যগুলো বেছে নিতে হবে।
নির্দিষ্ট পণ্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, আপনার
নির্বাচন করা পণ্যগুলোর কোন অ্যাফিলিয়েট আছে কিনা, এবং প্রতিটা পণ্যে কত পারসেন্ট
করে কমিশন দেয়। সব মিলিয়ে বলতে গেলে আপনার পছন্দ, গ্রাহকদের চাহিদা এবং
অ্যাফিলিয়েটের গুরুত্ব বুঝেশুনে যে কোন একটি বিষয় নির্বাচন করে, সেই বিষয়টির উপর
মার্কেটিং দক্ষতা অর্জন করতে হবে। তাই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় এর
মধ্যে Nish নির্বাচন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি কি প্রয়োজন হয়
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করতে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা,
পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে, অর্থাৎ আপনি যে বিষয়গুলো নিয়ে মার্কেটিং ভালো করতে
পারবেন এবং গ্রাহকের চাহিদা বেশি এটি নির্দিষ্ট করে তারপর লক্ষ্য স্থাপন করতে
হবে। পরবর্তীতে আপনার প্রয়োজন হবে একটি ব্লগ সাইট বা অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার
একাউন্ট।
সাধারণত আপনি যে একাউন্ট গুলোতেই আপনার এফিলিয়েট লিংক প্রচার করবেন। এভাবেই আপনি
যদি ভালো এফিলিয়েট প্রোগ্রাম থেকে লিংক নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায়
একটিভ থেকে গ্রাহকদের বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারেন। তাহলে অবশ্যই আপনি
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সাফল্যে পৌঁছাতে পারবেন।
ফেসবুকে কি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করা যায়
বর্তমান সময়ে সারা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হলো ফেসবুক।
এটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্যই নয় বরং মার্কেটিং প্রক্রিয়াকে সফলভাবে বাস্তবায়ন
করার জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। যেহেতু এটি অনেক জনপ্রিয় মাধ্যম তাই এখানে
গ্রাহকদের সংখ্যাও বেশি, ফলে যে কোন বিষয়ের মার্কেটিং ফেসবুকের মধ্যে চালালে,
একটি দ্রুত সময়ে সফল হওয়া সম্ভব। এছাড়াও ফেসবুকের বিভিন্ন টুল শুধুমাত্র
মার্কেটিং করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে, এক কথায় বলতে গেলে ফেসবুক অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং করার জন্য বর্তমান সময়ে সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ইনকাম কত করা যায়
সাধারণত অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে কত টাকা ইনকাম করা যায় এটি মূলত নির্ভর করে
আপনার নিজের ওপর। আপনার নিজের উপর বললাম কারণ, আপনি দিনে কত ঘন্টা কাজ করেন,
আপনার এফিলিয়েট মার্কেটিং এর অভিজ্ঞতা কেমন, এবং আপনি কোন পণ্যের উপর কতটুকু
কমিশন আদায় করেন এগুলোর উপর। তুলনামূলকভাবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে
প্রথমে একটু কষ্টকর হয়। কারণ যেকোনো ক্ষেত্রেই সফল হইতে হলে শুরুতেই ভালো পরিমাণ
টাকা ইনকাম করা যায় না।
তবে আপনি যদি বিশ্বস্ততার সাথে ভালো নিশ নির্বাচন করে সঠিক পরিকল্পনা এবং ধৈর্য
ধারণ করে নিয়মিত কাজ করতে পারেন। তাহলে ১০ হাজার থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকার
উপরে ইনকাম করতে পারবেন। অনেকেই আছেন যারা শুরুতে ১০০ টাকা ইনকাম করতে হিমশিম
খেয়ে যায়। তাই আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করে লেগে থাকতে হবে।
কোন অবস্থাতেই আপনার লক্ষ্য থেকে হাল ছাড়া যাবে না, তাহলেই আপনি এখান থেকে সফল
হতে পারবেন।
বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চাহিদা কেমন
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সাথে সাথে সারা বিশ্বে অনলাইন কেনাকাটার চাহিদা দিন দিন
বাড়ছে। যতই বিশ্ব আধুনিকতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ সরাসরি থেকে অনলাইনে
কেনাকাটার প্রতি বেশি ঝুঁকছে। সেই ক্ষেত্রে দেখা যায় বর্তমান সময়ে তো অ্যাফিলিয়েট
মার্কেটিং এর চাহিদা আছেই পাশাপাশি ভবিষ্যতে এর গুরুত্ব আরো বাড়বে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর চাহিদা যেমন আছে ঠিক তেমনি এটি ঘরে বসেও করা যায়। তাই
প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটরদের সংখ্যা দিন দিন
বাড়ছে। ভবিষ্যতে এফিলিয়েট মার্কেটিং হবে ইনকামের একটি উল্লেখযোগ্য উপায়। যেহেতু
এটির চাহিদা আছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়বে তাই আপনি চাইলে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কে
পেশা হিসেবে নিতে পারেন।
নতুনদের জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার কিছু টিপস
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় বর্তমানে অনেকেই জানে, কিন্তু কিভাবে এই
সেক্টরে দ্রুত সাফল্য অর্জন করা যায় এ বিষয়ে অনেকের ধারণা থাকে না। যার ফলে দেখা
যায় সাফল্যে পৌঁছানোর আগেই ৮০% মানুষ হাল ছেড়ে দেয়। এফিলিয়েট মার্কেটিং করে
সাফল্যের দৌড়ে তারা ব্যর্থ হয়ে যায়। তো আজকে নতুনদের জন্য এমন কয়েকটি টিপস শেয়ার
করব, যা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা
করবে।
- সঠিক পরিকল্পনা করা: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুধুমাত্র শুরু করলেই হবে না আপনার প্রয়োজন হবে একটি স্পষ্ট লক্ষ্য। আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিভাবে করবেন, দিনে কতটুকু সময় ব্যয় করবেন এবং আপনার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য কি এগুলোর উপর সূক্ষ্ম পরিকল্পনা করে এগিয়ে যেতে হবে। তাহলে আপনার জন্য এফিলিয়েট মার্কেটিং সহজ হবে।
আরো পড়ুনঃ
ঘরে বসে বাংলা গল্প লিখে টাকা আয় করুন
- ইনকামের থেকে দক্ষতার দিকে গুরুত্ব দেওয়া: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে শুরুর দিকেই ইনকামের চিন্তা বাদ দিতে হবে, সব সময় এমন পরিকল্পনা রাখতে হবে যে আমি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকামের থেকে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রথম অবস্থায় হয়তো ইনকাম হবে না বা কম হবে, কিন্তু এই সময়ে ইনকামের দিকে না তাকিয়ে নিজের দক্ষতা অর্জনের দিকে তাকাতে হবে।
- ধৈর্যধারণ করা: অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করে ৮০% মানুষ ব্যর্থ হওয়ার একমাত্র কারণ হলো ধৈর্য ধারণ না করা। দেখুন, যেকোনো সেক্টরে কাজ করতে গেলে প্রথম অবস্থাতে শেখানো সফল হওয়া যায় না। দীর্ঘ সময় ব্যয়, পরিশ্রম এবং ধৈর্য ধারণের মাধ্যমে সেখানে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। ঠিক তেমনি, গ্রাহক কম পেলে, কমিশন আদায় কম হলে বা ইনকাম সামান্য পরিমাণ হলেও কোন অবস্থাতেই হাল ছাড়া যাবে না। ধৈর্য ধরে লেগে থাকলে অবশ্যই আপনি একটা সময় এফিলিয়েট মার্কেটিং থেকে ভালো ইনকাম এবং সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।
লেখকের শেষ কথা
প্রিয় পাঠকগণ, আজকের আর্টিকেলে আমরা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করার উপায় নিয়ে
বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশা করি আমাদের এই আর্টিকেলটি সম্পূর্ণ
পড়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করা আপনার জন্য অনেকটাই সহজ হবে। আমাদের
আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার যদি কোন মতামত বা প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট
বক্সে জানাতে ভুলবেন না। আর এই সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য
ধন্যবাদ।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url