জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার সঠিক গাইড লাইন

আপনি কি জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে চাচ্ছেন? বর্তমানে টাকা আয় করা খুব একটা কঠিন না। আপনার মেধা, দক্ষতা এবং কিছু কৌশল অবলম্বন করলে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব।  

জিরো-থেকে-মাসে-৩০-হাজার-টাকা-আয়-করার-সঠিক-গাইড-লাইন

তাই এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা জানতে পারবেন? কি ভাবে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা যায়। অনলাইনে কোন প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করলে এবং কোন ধরণের কাজ করলে প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘন্টা সময় দিয়ে জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার আয় করার সঠিক গাইড লাইন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।     

পেজ সূচিপত্রঃ জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার সঠিক গাইড লাইন 

জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার সঠিক গাইড লাইন 

আমাদের মনে সবার একটা প্রশ্ন জাগে কিভাবে জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আমি মনে করি সম্ভব এর জন্য চাই আপনার সঠিক পরিকল্পনা, ধৈর্য, মানসিক শক্তি, কিছু কৌশল অবলম্বন এবং এর পাশাপাশি চাই সঠিক গাইড লাইন। তাহলে আপনি মাসে ৩০ হাজার টাকা বা তার বেশি আয় করতে পারবেন। 
জিরো-থেকে-মাসে-৩০-হাজার-টাকা-আয়-করার-সঠিক-গাইড-লাইন
প্রথমে হয় তো অনেকেই মনে করবে আয়ের উৎস তৈরি করা খুব কঠিন। এই মনোভাব থাকলে আপনি কখনো আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন না। নিজেকে কখনো অন্যের থেকে কম মনে করতে হবে না। এজন্য চাই আপনার সঠিক গাইড লাইন যার মাধ্যমে আপনি প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। সঠিক গাইড লাইন এমন এক মাধ্যম যা আপনি ঘরে বসে দিনে ১০০০ হাজার টাকা ইনকাম করা কোন ব্যাপার নয়। তাহলে চলুন এসম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করি। 

১। সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করুন- 
  • প্রথমে আপনাকে পরিকল্পনা নিশ্চিত করতে হবে। আপনি কোন ধরণের কাজ করতে চান বা কোন ধরণের কাজ করতে ভালোবাসেন, এ কাজের জন্য কত সময় দিবে পারবেন এর জন্য চাই সঠিক পরিকল্পনা। আপনার পরিকল্পনা যত বেশি সঠিক ও শক্তিশালী হবে, সফলতা তত তাড়াতাড়ি আসবে। 
  • সঠিক পরিকল্পনা নিশ্চিত করে যেকোন ছোট লক্ষ্য স্থির করতে পারেন। কথায় আছে মানুষ ছোট থেকে বড় হয়। প্রথমে আপনার আয়ের পরিমাণ ১০-১৫ হাজার টাকা হতে পারে, এর পরে আস্তে আস্তে এটি বৃদ্ধি করে আপনি মাসে ৩০ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারবেন। সঠিক পরিকল্পনা ও লক্ষ্য স্থির রাখলে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা অসম্ভব নয়।    
২। ধৈর্য ও দক্ষতা অর্জন-
  • মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য ধৈর্য এর পাশাপাশি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। জিরো থেকে আয়ের পথ তৈরির জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ হলো আয়ের প্রয়োজনীয় স্কিল শিখে নেওয়া। বর্তমান সময়ে এখন Digital Marketing, Freelancing, Blogging করে মাসে হাজার হাজার টাকা আয় করছে। তাই আপনার ধৈর্য ও দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে Freelancing এর মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে আয় করতে পারেন। 
  • অনলাইন জগতে যত বেশি দক্ষ হবেন, আয়ের পরিমাণ তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। যেমন Graphic Design, Digital Marketing, Content Writing, Blogging এসব বিষয়ে বর্তমানে চাহিদা অনেক বেশি। আপনার ব্যবসা বা ব্যক্তিগত যেকোন ব্র্যান্ড ধরে রাখতে ডিজিটাল মার্কেটিং প্রয়োজন।  
৩। আয়ের পথ নির্বাচন-
  • ধৈর্য ও দক্ষতা অর্জনের পরে আয়ের পথ নির্বাচন করতে হবে। অনলাইনে কোন প্ল্যাটফর্ম থেকে কাজ শুরু করবেন। যেমন- Freelancing, Digital Marketing, Facebook Page, Youtube, SEO ইত্যাদি এসব থেকে যেটা আপনার কাছে সুবিধা মনে হয় সে কাজ টা বেছে নিন। তবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে একাধিক আয়ের পথ থাকা। অনলাইনে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে একসাথে সব কাজ একসাথে করার দরকার নেই। প্রথমে ১-২ টি কাজ ভালোভাবে বেছে নিয়ে কাজ শুরু করা উচিত হবে। 
৪। কৌশল অবলম্বন করা-
  • মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। কাজের জন্য আপনাকে রুটিন তৈরি করতে হবে, কোন সময় কোন করা দরকার। সঠিকভাবে কৌশল অবলম্বন করলে যে কোন কঠিন কাজ সহজ হয়ে যায়। প্রতিদিনের কাজ রুটিন মাফিক করলে ছোট থেকে আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। 
৫। কাজের প্রতি আগ্রহ-
  • জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য কাজের প্রতি আগ্রহ থাকতে হবে। কাজের প্রতি আগ্রহ না থাকলে জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা কখনোই সম্ভব নয়। কাজ করার জন্য সবকিছু আছে কিন্তু আপনার কোন আগ্রহ নেই, কাজের প্রতি অবহেলা তাহলে আয় করা কঠিন হয়ে যাবে। যেকোন কাজের প্রতি আগ্রহ থাকা লাগবে, তাহলে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। 
৬। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা-
  • জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা আসলেই অনেক কঠিন। কাজ শুরু করার সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। কারণ এ সময় কাজে ব্যর্থতা আসবে, কাজে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা যাবে। তাই এ সময় ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। নিজেকে শক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং করে আয়ের পথ তৈরির জন্য নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই দরকার।  
৭। সঠিক গাইড লাইন-
  • সঠিক গাইড লাইনের মাধ্যমে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তাই আপনাকে জিরো থেকে আয়ের পথ তৈরির জন্য সঠিক গাইড লাইন বেছে নিতে হবে। এলোমেলো ভাবে যেকোন কাজ শুরু করলে কখনো সফলতা অর্জন করা সম্ভব নয়। জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য চাই সঠিক গাইড লাইন। 

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করুন 

বর্তমানে বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা বেড়েই চলছে। আধুনিক প্রযুক্তি ছোঁয়াই এখন প্রায় বাংলাদেশে ৬-৭ লক্ষ মানুষ ফ্রিল্যান্সিং করছে। অনেকেই এখন ফ্রিল্যান্সিং কে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে হাজার হাজার টাকা ইনকাম করছে। এই ফ্রিল্যান্সিংয়ের চাহিদা কখনো কমবে না, কারণ বর্তমান বিশ্ব বাজারে প্রকৃত ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা অনেক কম। 

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য আপনাকে কাজের প্রতি দক্ষতা অর্জন করতে হবে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রচুর কাজ রয়েছে, আপনি যদি কাজের প্রতি দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন। নিয়ম মেনে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ শুরু করেন, ধীরে ধীরে কাজের দক্ষতা তৈরি হলে আপনি মাসে লাখ টাকা আয় করতে সক্ষম হবেন।  


ফ্রিল্যান্সিং সেক্টর বা মার্কেটপ্লেস এত বড় যে আপনি কাজ করে শেষ করতে পারবেন না। ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে একটি উন্মুক্ত পেশা, এখানে আপনার স্বাধীনতা আছে। ফ্রিল্যান্সিংয়ে কম সময়ে ভালো আয় করার সুযোগ রয়েছে। যারা নতুন তাদের জন্য এটা খুব কঠিন বিষয় নয়। নিয়মিত কাজ করে অনেকেই লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছে ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরের মাধ্যমে। 

ফ্রিল্যান্সিং হচ্ছে এমন একটি সেক্টর শুধু ছাত্র বা বেকার তাঁরাই কাজ করবে এমনতা নয়। অনেক চাকুরীজীবি অবসর সময়ে ফ্রিল্যান্সিং কাজ করে মাসে ২০-৩০ হাজার টাকা ইনকাম করছে। ফ্রিল্যান্সিং উন্মুক্ত পেশা হওয়ায় সকল শ্রেনির মানুষ কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং শব্দটা শুধু একটি কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফ্রিল্যান্সিং মানে হচ্ছে Graphic Design, Web development, Web Design, Article Writing, Blogging ইত্যাদি। যারা প্রকৃত পক্ষে এই সেক্টরে প্রবেশ করেছে, তারাই সফলতা অর্জন করতে পেরেছে।    

ফ্রিল্যান্সিং যেভাবে শুরু করবেন 

  • আমরা সবাই জানি ফ্রিল্যান্সিং একটি স্বাধীন পেশা। এখানে আপনি নিজের সময় অনুযায়ী কাজ করতে পারেন। প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণে আপনার হাতের স্মার্ট মোবাইল দিয়ে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে পারবেন। তাই মোবাইল শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আয়ের উৎস হিসাবে ব্যবহ্রত হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং করার জন্য মোবাইলের পাশাপাশি কম্পিউটার থাকা জরুরি।  
  • ফ্রিল্যান্সিং শুরু করার জন্য প্রথমে আপনাকে কাজের দক্ষতা অর্জন করতে হবে। হতে পারে সেটা Digital Marketing, Graphic Design, Article Writing, Web Design, Blogging ইত্যাদি। বর্তমান সময়ে যেসব স্কিলের চাহিদা বেশি সেসব কাজের উপর গুরুত্ব দেওয়া দরকার। এসব কাজ শেখার জন্য আপনি ইউটিউব টিউটোরিয়াল বা কোন দক্ষ প্রতিষ্ঠান থেকে ট্রেনিং নিতে পারেন। বর্তমান সময়ে ৩-৬ মাসের মধ্যে অনলাইন বা অফলাইন কোর্সের মাধ্যমে ট্রেনিং নিয়ে নিজেকে কাজের জন্য দক্ষ করে তুলতে পারেন। 
  • জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন Freelancer, Upwork বা Fiverr নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। প্রথম অবস্থায় ছোট প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন। এর পরে অভিজ্ঞতা বাড়ার সাথে সাথে আপনার আয় মাসে ৩০-৫০ হাজার টাকা বা আরো বেশি হতে পারে।  

বর্তমানে ইউটিউব থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করুন 

বর্তমানে ইউটিউব থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য প্রথমে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করুন। আমরা অনেকেই অধিকাংশ অবসর সময় সোশ্যাল মিডিয়া বা ইউটিউবে ভিডিও দেখে সময় পার করি। তাই ইউটিউব থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য মানসম্মত ভিডিও বানিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে নিয়মিত আপলোড করতে থাকুন।  

অনলাইন ইনকামের জন্য ইউটিউব জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হিসাবে পরিচিত। এখন অনেকেই কাজের ফাঁকে ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও চালিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধি করছে। এতে করে পরিচিতি বৃদ্ধি সাথে সাথে আয়ের পথ তৈরি হচ্ছে। আপনি যদি ইউটিউব থেকে স্থায়ীভাবে আয়ের পথ তৈরি করতে চান? তাহলে ধারাবাহিকভাবে ভিডিও আপলোড করতে পারেন। এখান থেকে আপনার জন্য স্থায়ী আয়ের পথ তৈরি হবে।  

যেভাবে শুরু করবেন 

  • বর্তমানে এখন সবার হাতে স্মার্টফোন রয়েছে, এই স্মার্টফোন কে ব্যবহার আপনি খবু সহজে আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন। কোন কিছু জানতে বা দেখতে সবাই এখন ইউটিউবে ভিডিও দেখি। তাই আপনার মোবাইল দিয়ে তথ্য মূলক ভিডিও, বিনোদন, শিক্ষা বা বিশেষ কোন টিউটোরিয়াল বানিয়ে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করে আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব।  
  • আপনি যে কাজ ভালো পারেন তাই নিয়ে ভিডিও বানাতে পারেন। যদি আপনি গৃহিনী হন রান্না করতে ভালো পারেন তাহলে রান্নার ভিডিও তৈরি করে আপলোড করতে পারেন। এছাড়া শিক্ষামূলক, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, বিভিন্ন হাতের কারুকাজ ইত্যাদি ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে আপলোড করার মাধ্যমে আয়ের পথ তৈরি করতে পারেন। 
  • ইউটিউব থেকে ইনকামের জন্য গুগল এডসেন্সের কিছু নীতিমালা রয়েছে এগুলো পূরণ করতে কিছু সময় লাগতে পারে। সাধারণত ৬-১২ মাসের মধ্যে আয় শুরু করার জন্য শর্টস ভিডিও ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও যদি ভাইরাল হয় তাহলে আপনার ইনকাম তাড়াতাড়ি শুরু হয়ে যাবে। 

ইউটিউব থেকে আয়ের পথ তৈরি করতে হলে নিয়মনীতি মেনে চ্যানেল খোলা প্রয়োজন। এর পর ধৈর্য সহকারে ভিডিও, কন্টেন্ট, ভিডিও এডিটিং এসব কাজগুলো করতে হবে। এসব কাজ গুলো যদি সঠিক ভাবে করতে পারেন তাহলে এখান থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদী আয়ের পথ তৈরি করা সম্ভব। তাই অবসর সময় অযথা না কাটিয়ে আজই শুরু করুন এবং শক্তিশালী বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করুন।   

বর্তমানে ফেসবুক থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করুন 

বর্তমানে ফেসবুক সম্পর্কে আমাদের সকলের মোটামোটি ধারণা রয়েছে। ফেসবুক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয় এটি একটি আয়ের উৎস হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাওয়ার পরে ইনকাম শুরু করতে পারবেন। আমরা সবাই অধিকাংশ ফেসবুকে সময় পার করে থাকি। তাই বর্তমানে ফেসবুক থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা বা তার চেয়ে ইনকাম করা সম্ভব। তাহলে চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করি।  

যেভাবে শুরু করবেন 

  • ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধি করা যায়। কারণ সবার এখন সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা রয়েছে। আপনি ফেসবুকের একটি পেজ খুলে আপনার পছন্দের যেকোন পণ্য বিক্রি শুরু করতে পারেন। ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে সবাই এখন পছন্দ করে। যেহেতু ফেসবুকে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢোকে, তাই আপনার পণ্য বিক্রয়ের জন্য ক্রেতা খুঁজতে সমস্যা হবে। ফেসবুকে মার্কেটিং করে মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম করা খুব কঠিন নয়।
  • আপনার ফেসবুক পেজে শুধু পন্যের ছবি, মূল্য শেয়ার এবং ভিডিও তৈরি করে রাখতে হবে। এসব পণ্য ছবি, ভিডিও দেখে যার প্রয়োজন হবে সে কিনবে। তাই ফেসবুক ব্যবহারে করে আয়ের উৎস তৈরি করার সহজ হবে।  
  • এছাড়া ফেসবুকে মনিটাইজেশন পাওয়ার পরে সেখান থেকে আয় করতে পারবেন। যেকোন ভিডিও বানিয়ে আপনি ফেসবুকে আপলোড করতে পারেন। এই ভিডিও তে অ্যাড বসানো হলে সেখান থেকে আয় শুরু করতে পারবেন। দিন দিন আপনার আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। 

বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করুন 

বর্তমানে অনলাইন থেকে ইনকামের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যমগুলো মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটি। ডিজিটাল মার্কেটিং এর মাধ্যমে আপনার ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধি করা সম্ভব। ডিজটাল মার্কেটিং এর চাহিদা কেমন তা বলে শেষ করা যাবে না। ছোট বড় সকল প্রতিষ্ঠান এখন ডিজটাল মার্কেটিং প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে। ডিজিটাল মার্কেটিং বর্তমানে এমন একটি ক্ষেত্র হিসাবে দাঁড়িয়েছে যা আপনার সৃজনশীলতা, কাজের ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা কঠিন বিষয় নয়। 

ডিজিটাল মার্কেটিং শুধু ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে সাথে যুক্ত নয়। এটি বিভিন্ন কাজের সাথে যুক্ত রয়েছে যেমন: Content Marketing, Email Marketing, Social Media Marketing, SEO, SEM, Affiliate Marketing ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় কথা হলো একজন দক্ষ ফ্রিল্যান্সার সোশ্যাল মিডিয়া ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে মাসে ২৫-৩০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারে। অন্য দিকে একজন ব্লগার বা ইউটিউবার Affiliate Link ব্যবহার করে বা Content Marketing এর চেয়ে বেশি ইনকাম সুয়োগ রয়েছে।   


ডিজটাল মার্কেটিং থেকে আয় বাড়ানোর জন্য আপনাকে নিয়মিত কাজ করতে হবে। যেমন SEO, Google Ads Update, ফেসবুক অ্যালগরিদম পরিবর্তনের কাজ গুলো আপনাকে নিয়মিত আপডেট করতে হয়। এই কাজগুলো প্রতি আপনি যত বেশি দক্ষ হবেন আপনার আয় তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং ডিজিটাল মার্কেটিং এটি শুধু আয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি আপনার চিন্তাধারা এবং সৃজনশীলতাকে বাস্তব অর্থে রুপান্তর করে। আপনার এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে খুব সহজে মাসে ৩০ হাজার টাকা বা আরো বেশি আয় করতে পারবেন। 

বর্তমানে ব্লগিং করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করুন 

বর্তমানে এখন অনেকেই Blogging করে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করছে। আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন এবং লিখার প্রতি আগ্রহ থাকে তাহলে খুব সহজে আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন। 
জিরো-থেকে-মাসে-৩০-হাজার-টাকা-আয়-করার-সঠিক-গাইড-লাইন
এই লিখার মাধ্যমে নিজের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। তাহলে চলুন Blogging নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করি। 
  • Blogging শুরু করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক নিশ (Niche) নির্বাচন করা। এটি হতে পারে স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষামূলক টিপস, বিভিন্ন খাদ্য ও রান্না এবং স্থানীয় বিষয়ভিত্তিক তথ্য ইত্যাদি। আপনার সাইডে ট্রাফিক আনার জন্য নিশ (Niche) এর প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এমন সব নিশ (Niche) নিয়ে কাজ করা উচিত যেন প্রতিযোগিতা কম থাকে। 
  • আমরা সবাই জানি Blogging মাধ্যমে আয় করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো Google AdSense, কিন্তু একমাত্র আয়ের পথ নয়। আপনি চাইলে Affiliate Marketing, E-Book Sales, Sponsored Post এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কোর্স এর মাধ্যমে আয়ের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। এছাড়াও কিছু লোকাল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটপ্লেস রয়েছে যেমন- Daraz, Pickaboo বা অন্যান্য স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে কাজ করে আয় করতে পারেন। 
Blogging থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা বা আরো বেশি ইনকামের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া কে শক্তি ভাবে ব্যবহার করা। ট্রাফিক আনার জন্য শুধু লিখে থাকলে চলবে না এর জন্য প্রতিটি পোস্টকে ফেসবুকে, লিঙ্কডইন, বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করতে হবে। তাহলে আপনার সাইডে দ্রুত ট্রাফিক বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার ব্লগকে দ্রুত র‍্যাংকিং করে তোলে।  

আমাদের সবার মনে রাখা দরকার Blogging থেকে হঠাৎ করে সফলতা আসে না। এর জন্য চাই নিয়মিত Content Update, SEO Friendly লেখা এবং ইউজারের ইন্টারঅ্যাকশন বাড়ানো এই নিয়মগুলো মেনে কাজ করতে পারলে আপনার মাসিক ইনকাম দ্রুত বৃদ্ধি পাবে। মাসে ৩০ হাজার টাকা ইনকাম নয় এই কাজের অভিজ্ঞতা ও ট্রাফিক বাড়লে লক্ষাধিক টাকা আয় করা সম্ভব।   

জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার সঠিক গাইড লাইন সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন উত্তর - FAQ 

প্রশ্ন ১। জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ অবশ্যই সম্ভব। এর জন্য চাই আপনার ধৈর্য, সঠিক পরিকল্পনা, কাজের প্রতি আগ্রহ এবং সঠিক গাইড লাইন। বর্তমানে ফ্রিল্যান্সিং, ব্লগিং, ইউটিউব, ফেসবুক ইত্যাদি এইগুলোতে নিয়মিত কাজ করলে ২-৩ মাসের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। 

প্রশ্ন ২। SEO কি?
উত্তরঃ SEO এর পূর্ণরুপ হচ্ছে Search Engine Optimization । SEO এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটেকে উচ্চ স্থানে র‍্যাঙ্ক করানো কে বুঝায়। SEO মাধ্যমে আপনি নিশ্চিত করেন যে কেউ নির্দিষ্ট কোন শব্দ দিয়ে সার্চ করলে যেন আপনার ওয়েবসাইট সবার প্রথমে দেখায়। SEO মূলত ০৩ (তিন) ভাগে বিভক্ত: (১) অন পেজ এসইও (২) অফ পেজ এসইও (৩) টেকনিক্যাল এসইও ।

প্রশ্ন ৩। প্যাসিভ ইনকাম কি?
উত্তরঃ প্যাসিভ ইনকাম বলতে আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি আপনি একবার কিছু কাজ বা বিনিয়োগ করে নিয়মিত আয় করাকে বুঝায়। অর্থাৎ আপনাকে সেখানে সবসময় কাজ করতে হয় না। অন্যভাবে বলতে গেলে এটি এমন একটি আয় যা নির্দিষ্ট সময়ের পর আপনাকে কাজের বিনিময়ে অর্থ প্রদান করে থাকে। উদাহরণ:
  • ইউটিউব ভিডিও মনিটাইজেশন
  • অনলাইন কোর্স বিক্রি
  • ব্লগ বা ওয়েবসাইট থেকে AdSense আয়
  • রিয়েল এস্টেট ভাড়া 
প্রশ্ন ৪। ফ্রিল্যান্সিং শিখার জন্য কি কি প্রয়োজন?
উত্তরঃ ফ্রিল্যান্সিং শিখার জন্য ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা মোবাইল, ধৈর্য এবং সময় প্রয়োজন। এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং শিখার জন্য কিছু টাকা খরচ করতে হয়। এখন বর্তমানে বিনামূল্যে ইউটিউব ভিডিও এবং অনলাইন টিউটোরিয়াল দেখে শিখা যায়। 

প্রশ্ন ৫। বর্তমানে ৩০ হাজার টাকা আয় থেকে আরো আয় বাড়ানোর কৌশল কি?
উত্তরঃ বর্তমানে ৩০ হাজার টাকা আয় থেকে আরো আয়ের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আপনাকে নিয়মিত আপডেট থাকতে হবে। আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং সঠিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে হবে। নিয়মিত কন্টেন্ট আপডেট ও ভিডিও আপলোড করতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি ধৈর্য এবং সময় দিয়ে কাজ করতে হবে। 

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার উপায় সম্পর্কে আমার মতামত 

মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার জন্য শুধু স্বপ্ন দেখলে হবে না। এর জন্য আপনাকে একজন উদ্যোক্তা মনের মানুষ হতে হবে। জীবনে চলার পথে বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি আসবে তাই বলে থেমে গেলে চলবে না। সাহস নিয়ে চ্যালেঞ্জে মুখোমুখি হতে হবে এর পাশাপাশি পরিশ্রম ও ধৈর্য রাখতে হবে। মনে রাখবেন ধৈর্য ও পরিশ্রম কখনো বিফলে যায় না। এই ধরণের মানসিকতা ধরে রাখতে পারলে মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করা অসাধ্য ব্যাপার হবে না। 

আপনি যদি মাসে ৩০ হাজার টাকা আয় করার স্বপ্ন দেখেন এবং উপায়গুলো পড়ে বসে থাকলে চলবে না। বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে প্রতিটি কৌশল, প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত কাজ করতে হবে। আপনি যদি সঠিকভাবে প্রচেষ্টা, ধৈর্য এবং কিছু কৌশল অবলম্বন মেনে চলেন তাহলে সফলতা অবশ্যই আসবে। আয় করার জন্য ধৈর্য, দক্ষতা, পরিশ্রম এবং প্রয়োগযোগ্য জ্ঞান থাকলেই আপনি মাসে ৩০ হাজার টাকা নয় এর অনেক বেশি আয় করতে পারবেন। তাই এই ধরণের অনলাইন ইনকামের বিভিন্ন পরামর্শ ও টিপস পেতে আমার ওয়েবসাইট rafikait.com নিয়মিত ভিজিট করুন।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url