ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে বেশি কিছু পার্থক্য রয়েছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার পাশাপাশি একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আমরা অনেকেই ল্যাপটপ বা কম্পিউটার কেনার সময় চিন্তায় পড়ে যায়।
ল্যাপটপ না কম্পিউটার কোনটি কেনা আমাদের জন্য সঠিক হবে সেটি আমরা অনেকেই বুঝতে
পারিনা। মূলত আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের মধ্যে কী কী
পার্থক্য রয়েছে এবং কাদের জন্য কোনটি কেনা সঠিক হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করবো।
পোস্ট সূচীপত্রঃ ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
- ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
- কম্পিউটার কী এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- ল্যাপটপ কী এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের মধ্যে যন্ত্রাংশের পার্থক্য
- ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের মধ্যে পারফরমেন্সের পার্থক্য
- কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে আপগ্রেড করার পার্থক্য
- কম্পিউটারের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
- ল্যাপটপের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
- ল্যাপটপ নাকি কম্পিউটার কোনটি কেনা উচিত
- শেষ কথাঃ ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
এখন আমরা ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি সে সম্পর্কে
বিস্তারিত আলোচনা করবো। বর্তমানে আমরা অনেকেই আমাদের দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে
ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ব্যবহার করে থাকি। তবে কোনটি আমাদের জন্য অধিক
সুবিধাজনক সেটি অনেকেই আমরা বুঝতে পারি না। আমাদের মধ্যে অনেকের ভুল ধারণা
আছে যে কম্পিউটারের মধ্যে যে কাজগুলো করা যায় ল্যাপটপে সে কাজগুলো করা যায়
না। এই সকল ভুল ধারণার পাশাপাশি কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কেনার সময় কোনটি
কাদের জন্য কেনা উচিত সেই সম্পর্কে এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমরা
বিস্তারিত জানানোর চেষ্টা করবো।
কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে সবথেকে বড় পার্থক্য হলো আকারে। কম্পিউটার
সাধারণত আকারে অনেক বড় হয়ে থাকে এবং ল্যাপটপ তার তুলনায় অনেক ছোট হয়।
কম্পিউটার মূলত মনিটর, কিবোর্ড মাউস এবং একটি পিসির সমন্বয়ে গঠিত
অর্থাৎ কম্পিউটারে কাজ করার জন্য আমাদের আলাদাভাবে একটি মনিটর, কিবোর্ড, মাউস
এবং পিসির প্রয়োজন হয়। যেগুলো আকারে অনেক বড় কিন্তু পাশাপাশি অন্যদিকে
ল্যাপটপ আকারে অনেক ছোট এবং এটিকে যেখানে সেখানে বহন করা
যায়। ল্যাপটপের সাথে সাধারণত কিবোর্ড, মনিটর হিসেবে স্ক্রিন এবং
টাচ প্যাড যুক্ত থাকে।
এই সমস্ত জিনিস একসাথে ল্যাপটপে পাওয়া যাওয়ায় এবং এটি আকারে অনেক ছোট
হওয়ায় যেখানে সেখানে বহন করা যায়। পাশাপাশি কম্পিউটারে কাজ করতে হলে
আমাদের অনেক জায়গার প্রয়োজন হয় এবং চেয়ারে বসে কাজ করতে হয়। কিন্তু
অন্যদিকে ল্যাপটপে আমরা চাইলে বিছানায় শুয়ে শুয়ে বা বসেও কাজ করতে পারি।
তবে কম্পিউটারের কোনো পার্টস যদি আমাদের আপগ্রেড করার প্রয়োজন
হয় তাহলে সেটি আমরা সহজেই করতে পারবো কিন্তু ল্যাপটপের ক্ষেত্রে সেটি
করা সম্ভব নয়। মূলত এগুলো ছাড়াও কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে
বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
কম্পিউটার কী এবং এটি কিভাবে কাজ করে
চলুন প্রথমে জেনে নেওয়া যাক কম্পিউটার কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে সে
সম্পর্কে। কম্পিউটার হলো মূলত একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র সর্বপ্রথম কম্পিউটার
তৈরি করা হয়েছিল একটি গণনাকারী যন্ত্র হিসেবে। বর্তমানে এই কম্পিউটার
প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত কম্পিউটার সাধারণত গ্রাহকের দেওয়া নির্দেশ
ইনপুট হিসেবে গ্রহণ করে এবং গ্রাহকদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন
কাজ প্রসেস বা বিশ্লেষণ করে ফলাফল দেয়। এটি মূলত ইনপুট, প্রসেস,
স্টোরেজ এবং আউটপুট এই চারটি ধাপে কাজ করে থাকে।
কম্পিউটার সাধারণত সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার এই দুইটির সমন্বয়ে
পরিচালিত হয়। কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার হলো সেগুলো যেগুলো সাধারণত
ধরা যায় অর্থাৎ অস্তিত্ব আছে এমন বস্তু। যেমন কম্পিউটার পরিচালনা করতে
আমাদের প্রসেসর লাগে, মাদারবোর্ড লাগে, র্যাম লাগে, হার্ডডিস্ক লাগে,
মনিটর লাগে এবং মাউস বা কিবোর্ড ইত্যাদি লাগে এই সকল জিনিস হলো মূলত
হার্ডওয়্যার। অন্যদিকে সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের সেই জিনিস
যেটাকে বাস্তবে ধরা যায় না এটি ডেটা বা প্রোগ্রামের সমন্বয়ে গঠিত
এবং কম্পিউটারকে একটি নির্দিষ্ট কাজ করার জন্য নির্দেশ দেয়। উইন্ডোজ
অপারেটিং সিস্টেমও একটি সফটওয়্যার যার মাধ্যমে সকল কাজ পরিচালনা হয়। নিম্নে আকারের দিক থেকে কম্পিউটার বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে যেমন-
- ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা মাইক্রো কম্পিউটার
- মিনি কম্পিউটার (মধ্যম সারির কম্পিউটার)
- মেইনফ্রেম কম্পিউটার
- সুপার কম্পিউটার
এছাড়া ব্যক্তিগত কম্পিউটারের মধ্যে কয়েকপ্রকার কম্পিউটার রয়েছে যেমন-
- ডেক্সটপ কম্পিউটার
- গেম কনসোল
- কার কম্পিউটার মধ্যে (কারপুটার্স)
- ল্যাপটপ এবং নোটবুক কম্পিউটার
- ট্যাবলেট কম্পিউটার
- স্মার্টফোন, স্মার্টবুক, পিডিএ এবং পালমটপ
- প্রোগ্রাম সক্ষম ক্যালকুলেটর
- হ্যান্ডহেল্ড গেম কনসোল
ল্যাপটপ কী এবং এটি কিভাবে কাজ করে
আমরা তো এতক্ষণ কম্পিউটার সম্পর্কে জানলাম। কম্পিউটার মূলত অনেক আগে
আবিষ্কার হয়েছে এবং সেই সময় কম্পিউটারগুলো আকারে অনেক বড় হতো
সময়ের সাথে সাথে প্রযুক্তির উন্নতির মাধ্যমে বর্তমানে কম্পিউটারের
আকার ছোট করে এই ল্যাপটপে পরিণত করা হয়েছে। কম্পিউটারে সাধারণত যে
কাজগুলো করা যায় ল্যাপটপেও সে কাজগুলো খুব সহজেই করা যায়। দুটি
যন্ত্রতেই আমরা একই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারি এবং একই ধরনের কাজ
করতে পারি। বর্তমানে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় আবিষ্কারের মাধ্যমে এক সময়ের
বড় বড় কম্পিউটার এখন ছোট ল্যাপটপে পরিণত হয়েছে।
ল্যাপটপ মূলত হলো একটি বহনযোগ্য কম্পিউটার। ল্যাপটপের মাধ্যমে
কম্পিউটারের সকল কাজ করা যায় এবং এটি যেখানে সেখানে বহন করে নেওয়া
যায় মূলত এটাই ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় সুবিধা। এটিতে কম্পিউটারের মতোই
মনিটর, কিবোর্ড, টাচ প্যাড এবং স্পিকার সহ সকল উপকরণ থাকে।পাশাপাশি যেকোনো
জায়গায় ব্যবহার করার জন্য ল্যাপটপে একটি ব্যাটারিও যুক্ত করা থাকে।
১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম এই ল্যাপটপ আবিষ্কার করা হয়। বর্তমানে ল্যাপটপের
মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বা যেকোনো কাজ সহজে করার পাশাপাশি এটি
এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করতে পারছে। ল্যাপটপ যেহেতু একটি
কম্প্যাক্ট ডিভাইস তাই এখানেও কম্পিউটারের মতো সিপিও, র্যাম,
হার্ডডিস্ক ইত্যাদি থাকলেও তা ডেস্কটপ বা কম্পিউটারের তুলনায় আকারে অনেক
ছোট হয়। বর্তমানে প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে এটি সম্ভব
হয়েছে।
ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের মধ্যে যন্ত্রাংশের পার্থক্য
আমরা যেহেতু ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি সে
সম্পর্কে আলোচনা করছি। তাই এই বিষয়ে আমাদের দুটি ডিভাইসের যন্ত্রাংশের
মধ্যে কি পার্থক্য রয়েছে সে সম্পর্কে আলোচনা করা দরকার। প্রথমে আসা
যাক কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ নিয়ে মূলত কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ উভয় ডিভাইসে
একই যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয় কিন্তু সেগুলোর আকার এবং ক্ষমতা ভিন্ন। আমরা
আগেই বলেছি ল্যাপটপের তুলনায় কম্পিউটার আকারে অনেক বড় হয় এবং
কম্পিউটারের পিসিতে যে হার্ডওয়্যারগুলো লাগানো থাকে সেগুলোর আকার
ল্যাপটপের তুলনায় অনেক বড় হয়। সাধারণত কম্পিউটারে র্যাম, সিপিইউ,
জিপিইউ, হার্ডডিস্ক, এসএসডি, সিডি রম, মাদারবোর্ড ইত্যাদি হার্ডওয়্যার বা
যন্ত্রাংশ থাকে। মূলত কম্পিউটারে এরকম বড় বড় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করার ফলে
এই যন্ত্রনাংশ কম্পিউটারের কর্মদক্ষতা ল্যাপটপের তুলনায় বেশি হয়।
এবার আসা যাক ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ল্যাপটপ যেহেতু একটি
কম্প্যাক্ট ডিভাইস। তাই কম্পিউটারের মতো ল্যাপটপেও সকল ধরনের হার্ডওয়্যার
থাকলেও সেগুলো থাকে কমপ্যাক্ট ভাবে অর্থাৎ ল্যাপটপেও সিপিইউ, মাদারবোর্ড,
র্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড থাকার পাশাপাশি বিল্ট ইন কিবোর্ড, টাচ প্যাড
এবং এটি মনিটর থাকে মূলত অল্প জায়গার মধ্যে সকল জিনিস কে একসাথে রাখার
জন্য ল্যাপটপের সকল হার্ডওয়্যার গুলো খুবই কমপ্যাক্ট ভাবে লাগানো
থাকে। মূলত ল্যাপটপ দ্বারা কম্পিউটারের সকল কাজ করা গেলেও ল্যাপটপের
হার্ডওয়্যার গুলো কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারের তুলনায় কম কর্মদক্ষতা
সম্পন্ন হওয়ায় ল্যাপটপে ভারী কাজ করতে গেলে সাধারণত নানা ধরনের সমস্যায়
পড়তে হয়।
ল্যাপটপ এবং কম্পিউটারের মধ্যে পারফরমেন্সের পার্থক্য
আমরা যেহেতু এতক্ষণ যন্ত্রাংশের পার্থক্য নিয়ে কথা বললাম এবার সেই
যন্ত্রাংশের কারণে পারফরমেন্সে কেমন ধরণের পার্থক্য হয় সে বিষয় নিয়ে
আলোচনা করা যাক। কম্পিউটার এবং ল্যাপটপ এর মধ্যে পারফরমেন্সের অবশ্যই
পার্থক্য রয়েছে দুটো ডিভাইসে একই প্রসেসর একই র্যাম যুক্ত করা থাকলেও
ডেস্কটপের র্যাম, প্রসেসর, হার্ডডিস্ক পাওয়ার সাপ্লাই এগুলো থাকে অনেক
বড় এবং অধিক কর্মদক্ষতা সম্পন্ন পাশাপাশি এগুলোর কুলিং সিস্টেম থাকে অনেক
ভালো। তাই ডেক্সটপে যেকোনো ধরনের ভারী কাজ করা যায় যা ল্যাপটপে করা যায়
না।
অন্যদিকে ল্যাপটপ সাধারণত অফিশিয়াল কাজে ব্যবহার করা হয় সাধারণত ভারী কাজ
এবং ভারী গেমিং করার জন্য আলাদাভাবে গেমিং ল্যাপটপ পাওয়া যায়। ল্যাপটপের
হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশ গুলো কম্প্যাক্ট ভাবে থাকায় সেগুলোর উপর অধিক
চাপ পড়লে সঠিকভাবে সামলাতে পারে না। পাশাপাশি ল্যাপটপের কুলিং
সিস্টেম কম্পিউটারের কুলিং সিস্টেমের থেকে কম উন্নত এবং ল্যাপটপের বডি
ম্যাটেরিয়াল গুলো সাধারণত খুবই দুর্বল হয়। তবে কম্পিউটারের সাথে
আলাদাভাবে কিবোর্ড, মাউস এবং মনিটর ইত্যাদি যুক্ত করতে হয় কিন্তু
ল্যাপটপে এগুলো একসাথে যুক্ত থাকায় কাজ করতে অধিক স্বাচ্ছন্দ বোধ হয়।
কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে আপগ্রেড করার পার্থক্য
ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি সে বিষয় নিয়ে বলতে গেলে
আরেকটি পার্থক্যের কথা বলতে হয় আর সেটা হলো আপগ্রেড করার সুবিধা এবং
অসুবিধা নিয়ে। কম্পিউটার যেহেতু অনেক বড় হয় এবং সেখানে আমরা চাইলে
ইচ্ছামতো আমাদের হার্ডওয়্যারগুলোকে আমরা আপগ্রেড করতে পারবো
যেমন আমরা যদি গ্রাফিক্সের কাজ করতে চাই তাহলে আমরা সে ক্ষেত্রে
আমাদের কম্পিউটারে একটি গ্রাফিক্স কার্ড লাগিয়ে নিতে পারবো পাশাপাশি
গ্রাফিক্স কার্ড সহ যেকোনো ধরনের হার্ডওয়্যার আমরা কম্পিউটারে প্রয়োজন
মতো যুক্ত করতে পারবো। এতে করে আমাদের নতুন করে কম্পিউটার কেনার প্রয়োজন
পড়ছে না।
কিন্তু অন্যদিকে ল্যাপটপের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটি পাওয়া যায় না।
ল্যাপটপ কম্প্যাক্ট ডিভাইস হওয়ায় সকল হার্ডওয়্যার এর মধ্যে যুক্ত
থাকে এবং এটাকে খুলে নতুন কিছু যুক্ত করার সুবিধা থাকে না। তাই এইদিক
দিয়ে কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য রয়েছে। তবে
বর্তমানে কিছু গেমিং ল্যাপটপ রয়েছে যেগুলোতে এক্সট্রা ভাবে গ্রাফিক্স
কার্ড বা র্যাম যুক্ত করার সুবিধা থাকে। সেজন্য আপনাকে আলাদা ভাবে
গ্রাফিক্স কার্ড হোল্ডার কিনতে হবে। তারপর সেটি আপনাকে ল্যাপটপের সাথে
যুক্ত করতে হবে। এগুলো ছাড়াও ল্যাপটপের হার্ডওয়্যার সাধারণত
কম্পিউটারের তুলনায় অধিক দামি হয়ে থাকে।
কম্পিউটারের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
এবার আসা যাক কম্পিউটারের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা নিয়ে
প্রথমে কম্পিউটারের সুবিধাগুলো নিয়ে আলোচনা করা যাক। কম্পিউটারের
প্রথম সুবিধা হলো কম্পিউটারে কাজ করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ বোধ হয় এবং কাজের
গতি কয়েকগুন বেড়ে যায় পাশাপাশি কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার যেমন
সিপিইউ, জিপিইউ র্যাম, হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড ইত্যাদি অনেক বেশি
কর্মদক্ষতা সম্পূর্ণ হয় এবং এগুলোর কুলিং সিস্টেম অনেক উন্নত হয়। তাই
কম্পিউটারে বেশিক্ষণ ধরে ভারী কাজ করলেও সাধারণত তেমন কোনো সমস্যা হয়
না। পাশাপাশি কম্পিউটারের পার্টসগুলো আমরা নিজেদের প্রয়োজন মতো আপগ্রেড
করতে পারি এবং কম্পিউটারের দাম তুলনামূলক ল্যাপটপের তুলনায় অনেক কম
হয়।
এবার কিছু অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করা যাক কম্পিউটারের সবচেয়ে বড় অসুবিধা
হলো এটি আকারে বড় হওয়ায় যেখানে সেখানে সহজে বহন করা যায় না এবং
এটি ব্যবহার করার জন্য আমাদের অনেক তার এবং জায়গার প্রয়োজন হয়।
কম্পিউটার ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমাদের পাওয়ার কেবল, মনিটরের কেবল,
কিবোর্ড, মাউস ইত্যাদি বিভিন্ন ক্যাবল বা তার যুক্ত করতে হয় যা দেখতে খুব
একটা ভালো লাগে না পাশাপাশি এটি অনেক জায়গা দখল করে এবং সহজে বহন করা যায়
না। কম্পিউটারের আরও একটু অসুবিধা হলো এটির সাথে কোনো ব্যাটারি সুবিধা থাকে
না। ফলে কারেন্ট চলে গেলে কম্পিউটার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে
যায়। এছাড়াও কম্পিউটার ব্যবহার করতে হলে শুধু আমাদের কম্পিউটার
কিনলে হয় না বরং কম্পিউটারের সাথে আলাদাভাবে মনিটর, মাউস, কিবোর্ড
ইত্যাদি সকল যন্ত্রাংশ কিনতে হয়।
ল্যাপটপের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
ল্যাপটপের সুবিধাগুলো হলো ল্যাপটপ একটি কম্প্যাক্ট ডিভাইস হাওয়ায়
যেকোনো জায়গায় এটাকে বহন করা যায় এবং এটি ব্যবহার করতে তেমন কোনো ঝামেলা
পোহাতে হয় না। আমরা চাইলে এটিকে যেকোনো জায়গায় যেকোনভাবে ব্যবহার করতে
পারি। পাশাপাশি ল্যাপটপের সাথে ব্যাটারি থাকায় আমরা চাইলে ল্যাপটপ নিয়ে
বিছানায় শুয়ে বা বসেও কাজ করতে পারি এবং কারেন্ট চলে গেলেও আমাদের
ল্যাপটপটি সাথে সাথে বন্ধ হবে না।
এবার আসা যাক এর কিছু অসুবিধার দিক নিয়ে ল্যাপটপের সর্বপ্রথম অসুবিধা হলো
এটির দাম ডেস্কটপ বা কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে। পাশাপাশি
এটি কম্প্যাক্ট ডিভাইস হওয়ায় কম্পিউটারের সকল জিনিস এখানে কম্প্যাক্ট ভাবে
যুক্ত করা থাকে। সে কারণে কম্পিউটারের মতো কর্মদক্ষতা পাওয়া যায় না এবং
ভারী কাজের ক্ষেত্রে ল্যাপটপ খুব একটা উপকার দিতে পারে না। ল্যাপটপের নানা
ধরনের জিনিস প্রায় নষ্ট হয়ে থাকে যেমন ল্যাপটপের কিবোর্ড। আবার
নষ্ট হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করতেও অধিক দাম দিতে হয় অন্যদিকে কম্পিউটারে
এরকম কোনো ঝামেলা থাকে না। এছাড়াও এর সবথেকে বড় অসুবিধা হলো প্রয়োজন
মতো যেকোনো পার্টস আপগ্রেড করা যায় না।
ল্যাপটপ নাকি কম্পিউটার কোনটি কেনা উচিত
ল্যাপটপ নাকি কম্পিউটার কোনটি কেনা উচিত সেটি আসলে আমাদের এক এক জনার কাজের
উপর নির্ভর করে। আমরা যারা সাধারণত ঘরে বসে ভারী কাজ করতে চাই তাদের জন্য
কম্পিউটার উপযুক্ত একটি ডিভাইস কারণ কম্পিউটার সাধারণত অধিক কর্মদক্ষতা
সম্পন্ন হওয়ায় যেকোনো ধরনের ভারী কাজ খুব সহজে করা যায় এবং এটির কুলিং
সিস্টেম ভালো হওয়ায় ভারী কাজের সময় চাপ পড়ে না। তাই গ্রাফিক্স অথবা
ভিডিও এডিটিং এর মতো ভারী কাজ করতে চাইলে কম্পিউটার কেনা
উচিত।
অন্যদিকে যাদের তেমন কোনো ভারী কাজ থাকে না অফিসের বিভিন্ন অফিসিয়াল কাজ
থাকে। তাদের জন্য অবশ্যই ল্যাপটপ একটি উপযুক্ত ডিভাইস কারণ ল্যাপটপ
তারা অফিসসহ যেকোনো জায়গায় সহজে বহন করতে পারবে এবং নিজেদের প্রয়োজন মতো
কাজ করতে পারবে। যারা খুব ভারী কাজ করবে না এবং অফিসিয়াল কাজ করবে তারা
ল্যাপটপ নিতে পারে। ভারী কাজ না করার ফলে ল্যাপটপে তাদের আপগ্রেড করার
প্রয়োজন হবে না এবং অফিসিয়াল যেকোনো কাজ করার সময় ব্যাটারি থাকায়
কাজ করতে অধিক সুবিধা হবে পাশাপাশি এটিতে কম্পিউটারের মতো তারের
ঝামেলা নাই এবং সহজে ব্যাগে যেকোনো জায়গায় বহন করা যায়।
শেষ কথাঃ ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য কি
এতক্ষণ উপরে আমরা এই আর্টিকালে ল্যাপটপ আর কম্পিউটারের মধ্যে পার্থক্য
কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলাম এবং কাদের কম্পিউটার কেনা উচিত
এবং কাদের ল্যাপটপ কেনা উচিত সে সম্পর্কে একটি বিস্তারিত দিক নির্দেশনা
দেওয়ার চেষ্টা করলাম। মূলত কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে বেশ কিছু
পার্থক্য রয়েছে। কম্পিউটার আকারে বড় এবং কম্পিউটার ব্যবহার করতে একটি বড়
জায়গার প্রয়োজন হয় এবং এটি যেকোনো জায়গায় বহন করা যায় না। তবে
ভারী কাজ করার করার জন্য এটি উপযোগী। অন্যদিকে ল্যাপটপে তেমন
কোনো জায়গার প্রয়োজন হয় না এবং সহজে বহন করা যায়
কিন্তু কম্প্যাক্ট হাওয়ায় এটারও বেশকিছু অসুবিধার দিক রয়েছে।
আমার মতে পৃথিবীতে প্রত্যেকটা জিনিসের সুবিধা এবং অসুবিধা এই দুটি দিক
থাকে। তাই কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও কাজের ধরণ
এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক এক মানুষের কাছে এক এক ডিভাইস অধিক উপযোগী।
কম্পিউটারে যেমন কাজ করার সুবিধা রয়েছে, ভারী কাজ করা যায় এবং দাম
কম তেমনি এটি বড় হওয়ায় বেশ জায়গা দখল করে এবং সহজে বহন করা যায়
না। অন্যদিকে ল্যাপটপ যেখানে সেখানে বহন করা যায় এবং কমপ্যাক্ট হলেও
এটির দাম কম্পিউটারের তুলনায় বেশি হয়। মূলত এই সকল কারণে
কম্পিউটার এবং ল্যাপটপের কাজ একই হলেও বিশেষ পার্থক্য রয়েছে।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url