ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করার পাশাপাশি একটি স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করবো। আমরা অনেকেই
ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে কোনটি কাদের জন্য উপযোগী সেটি আসলে বুঝতে পারিনা।
বর্তমান সময়ে নোটবুকগুলো এত অ্যাডভান্স এবং উন্নত যে নোটবুক এবং ল্যাপটপের মধ্যে
পার্থক্য খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। তাই অনেকেই আমরা ল্যাপটপ বা নোটবুক কেনার সময়
বেশ চিন্তায় পড়ে যাই। এখন আমরা এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো তো চলুন শুরু
করা যাক।
পোস্ট সূচীপত্রঃ ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য
- ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য
- ল্যাপটপ কী এবং এটি কিভাবে কাজ করে
- নোটবুক কী এবং এটির এর কাজ কি
- ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে যন্ত্রাংশের পার্থক্য
- ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে পারফরমেন্সের পার্থক্য
- নোটবুকের এবং ল্যাপটপ মধ্যে আপগ্রেড পার্থক্য
- ল্যাপটপের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
- নোটবুকের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
- কোনটি কাদের জন্য কেনা উচিত
- শেষ কথাঃ ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য
ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য
এখন আমরা ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করবো। আমরা অনেকেই আমাদের দৈনন্দিন কাজ করার জন্য ল্যাপটপ বা
নোটবুক ব্যবহার করে থাকি? তবে অনেকেই বুঝি না ল্যাপটপ আর নোটবুকের
মধ্যে আসলে পার্থক্য কি। এছাড়াও অনেকে ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে
কোনটি কাদের জন্য কেনা উপযোগী হবে সেটি আসলে বুঝতে পারেনা। সাধারণত ল্যাপটপ
এবং নোটবুক দুইটি ডিভাইসের অপারেটিং সিস্টেম একই হলেও তাদের কাজের ভিন্নতা
রয়েছে। ল্যাপটপ অনেক ভারী কাজ করতে পারলেও নোটবুক তা পারে
না। এছাড়াও ল্যাপটপ এবং নোটবুকের যন্ত্রাংশ এবং পারফরম্যান্সের
পার্থক্য রয়েছে ল্যাপটপে যেমন উন্নত প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক বা
গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি থাকে নোটবুকে এগুলো থাকে না তাই ভারী কাজ করা যায়
না।
ল্যাপটপ সাধারণত অনেক বড় হয়ে থাকে ল্যাপটপের সাথে আলাদা
একটি স্ক্রিন বা মনিটর যুক্ত থাকে পাশাপাশি ল্যাপটপের সাথে কিবোর্ড
এবং টাচপ্যাড যুক্ত থাকে। যার মাধ্যমে ভারী কাজ করার পাশাপাশি অফিসের সকল
অফিসিয়াল কাজ করা যায় একটি কম্পিউটারে যে সকল কাজ করা যায় একটি
ল্যাপটপেও সে সকল কাজ করা যায়। কিন্তু নোটবুক কম্পিউটার বা ল্যাপটপ
থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। নোটবুক সাধারণত পাতলা এবং একটি বড় স্ক্রিন যুক্ত হয়
এখানে আলাদাভাবে কোনো কিবোর্ড বা মাউস থাকে না স্ক্রিনে টাচ করে কাজ
করতে হয়। নোটবুককে সাধারণত মানুষ বিভিন্ন ডিজাইন বা টুকটাক কাজ
করতে ব্যবহার করে। ভারী বা অনেক জটিল কাজ নোটবুক দিয়ে করা যায়
না। কাজের পাশাপাশি নোটবুক এবং ল্যাপটপের পারফরম্যান্স
এবং যন্ত্রাংশের পার্থক্য থাকে। ল্যাপটপে অনেক ভারী কাজ করার জন্য
উন্নত প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিক্স, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি ব্যবহার করা
হয় যা নোটবুকে কখনোই থাকে না। মূলত এগুলো ছাড়াও নোটবুক এবং ল্যাপটপের
মধ্যে আরও বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।
ল্যাপটপ কী এবং এটি কিভাবে কাজ করে
বর্তমানে কম্পিউটারের আকার ছোট করে এই ল্যাপটপে পরিণত করা হয়েছে।
কম্পিউটারে সাধারণত যে কাজগুলো করা যায় ল্যাপটপেও সে কাজগুলো খুব
সহজেই করা যায়। দুটি যন্ত্রতেই আমরা একই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার
করতে পারি এবং একই ধরনের কাজ করতে পারি। বর্তমানে প্রযুক্তির এই
অভাবনীয় আবিষ্কারের মাধ্যমে এক সময়ের বড় বড় কম্পিউটার এখন ছোট
ল্যাপটপে পরিণত হয়েছে।
ল্যাপটপ মূলত হলো একটি বহনযোগ্য কম্পিউটার। ল্যাপটপের মাধ্যমে
কম্পিউটারের সকল কাজ করা যায় এবং এটি যেখানে সেখানে বহন করে নেওয়া
যায় মূলত এটাই ল্যাপটপের সবচেয়ে বড় সুবিধা। এটিতে কম্পিউটারের মতোই
মনিটর, কিবোর্ড, টাচ প্যাড এবং স্পিকার সহ সকল উপকরণ থাকে।পাশাপাশি
যেকোনো জায়গায় ব্যবহার করার জন্য ল্যাপটপে একটি ব্যাটারিও যুক্ত করা
থাকে। ১৯৮১ সালে সর্বপ্রথম এই ল্যাপটপ আবিষ্কার করা হয়। বর্তমানে
ল্যাপটপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বা যেকোনো কাজ সহজে করার
পাশাপাশি এটি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহন করতে পারছে। ল্যাপটপ
যেহেতু একটি কম্প্যাক্ট ডিভাইস তাই এখানেও কম্পিউটারের মতো সিপিও,
র্যাম, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি থাকলেও তা ডেস্কটপ বা কম্পিউটারের তুলনায়
আকারে অনেক ছোট হয়। বর্তমানে প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির ফলে এটি
সম্ভব হয়েছে।
নোটবুক কী এবং এটির কাজ কি
এইবার জানা যাক নোটবুক কী এবং এটি কি কাজে ব্যবহৃত হয় সে সম্পর্কে
বিস্তারিত। নোটবুক মূলত এক ধরনের ছোট ল্যাপটপ এটি যেখানে সেখানে বহন
করা যায়। তবে ল্যাপটপের মতো এটিতে কোনো ধরনের কিবোর্ড বা টাচপ্যাড
ইত্যাদি যুক্ত থাকে না। এটি পাতলা হালকা এবং বড় স্ক্রিন যুক্ত একটি
ডিভাইস। নোটবুকে সাধারণত ফোনের মতো স্ক্রিনে টাচ করে যেকোনো ধরনের কাজ
করতে হয় পাশাপাশি নোটবুকে কাজ করার জন্য সাথে একটি টাচ পেন দেওয়া
হয়ে থাকে। নোটবুকে ল্যাপটপ এর মতো ভারী কাজ করা যায় না। সাধারণত
হালকা ডিজাইন এবং টুকটাক কাজ করার জন্য নোটবুক ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
নোটবুক বা ল্যাপটপ সাধারণত একই অপারেটিং সিস্টেমের হয়ে থাকলেও
নোটবুকের প্রসেসর, র্যাম, হার্ডডিস্ক ইত্যাদি ল্যাপটপের তুলনায় অনেক
কম হয়ে থাকে।
নোটবুকে বড় স্ক্রিন থাকায় এবং টাচ করার সুবিধা থাকায় এখানে যেকোনো
ধরনের ডিজাইন করা খুবই সহজ পাশাপাশি নোটবুকে বিভিন্ন জিনিস নোট
করা যায়। নোটবুক অনেক হালকা হওয়ায় এটাকে যেকোনো জায়গায় খুব সহজে
বহন করা যায়। ল্যাপটপের তুলনায় এটি অনেক হালকা এবং ছোট হয়।যারা
বিভিন্ন তথ্য নোট করে, ডিজাইনের কাজ করে বা অফিসিয়াল বিভিন্ন কাজ করে
তারা সাধারণত নোটবুক ব্যবহার করে থাকে। তবে নোটবুকের
সম্পূর্ণটা একটি বড় স্কিন হওয়ায় এবং নোটবুকের সাথে একটি টাচপেন
যুক্ত থাকায় এটির সাহায্যে যেকোনো ধরনের ছবি বা গ্রাফিক্সের কাজ
করা অনেক সুবিধাজনক এবং মূলত এই কারণেই মানুষ নোটবুক কিনে থাকে।
ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে যন্ত্রাংশের পার্থক্য
আমরা যেহেতু ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করছি
তাই এক্ষেত্রে ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে যন্ত্রাংশের কি কি পার্থক্য
রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা করা দরকার। ল্যাপটপ এবং
নোটবুকের মধ্যে যন্ত্রাংশের বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে এবং ল্যাপটপ বা
নোটবুকের মূল পার্থক্য তাদের যন্ত্রাংশেই। ল্যাপটপ একটি কম্প্যাক্ট
ডিভাইস তাই কম্পিউটারের মতো ল্যাপটপেও সকল ধরনের হার্ডওয়্যার থাকলেও
সেগুলো থাকে কমপ্যাক্ট ভাবে অর্থাৎ ল্যাপটপেও সিপিইউ, মাদারবোর্ড,
র্যাম, গ্রাফিক্স কার্ড থাকার পাশাপাশি বিল্ট ইন কিবোর্ড, টাচ
প্যাড এবং এটি মনিটর থাকে মূলত অল্প জায়গার মধ্যে সকল জিনিসকে একসাথে
রাখার জন্য ল্যাপটপের সকল হার্ডওয়্যার গুলো খুবই কমপ্যাক্ট ভাবে
লাগানো থাকে এবং ল্যাপটপ দ্বারা কম্পিউটারের সকল কাজ করা।
অন্যদিকে নোটবুক ল্যাপটপ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ল্যাপটপে যেমন উন্নত
মাদারবোর্ড, র্যাম, হার্ডডিস্ক, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি থাকে নোটবুকে
এগুলো থাকলেও ল্যাপটপের মতো উন্নত হয় না। এগুলো সাধারণত নোটবুকে
আরও ছোট এবং কম্প্যাক্ট ভাবে লাগানো থাকে। তাই ল্যাপটপ দিয়ে যে ভারী
কাজগুলো করা যায় নোটবুক দিয়ে সেই ভারী কাজগুলো কখনোই করা যায় না।
পাশাপাশি নোটবুক সম্পূর্ণ একটি স্ক্রিন হওয়ায় স্ক্রিনে টাচ করে কাজ করতে
হয় নোটবুকের সাথে কোনো কিবোর্ড বা মাউস ইত্যাদি থাকে না। তবে নোটবুক কে
ল্যাপটপের মতো ব্যবহার করার জন্য আলাদাভাবে একটি কিবোর্ডসহ টাচপ্যাড সেট
কিনতে হয়। নোটবুক সাধারণত উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের হয়ে
থাকলেও কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর মতো সকল কাজ এটিতে করা যায়
না।
ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে পারফরমেন্সের পার্থক্য
আমরা যেহেতু ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য নিয়ে আলোচনা করছি
এবং এতক্ষণ যন্ত্রাংশের পার্থক্য নিয়ে কথা বললাম এবার সেই
যন্ত্রাংশের কারণে পারফরমেন্সে কেমন ধরণের পার্থক্য হয় সে বিষয় নিয়ে
আলোচনা করা যাক। নোটবুক এবং ল্যাপটপ এর মধ্যে পারফরমেন্সের অবশ্যই
পার্থক্য রয়েছে দুটো ডিভাইসেই প্রসেসর, র্যাম যুক্ত করা
থাকলেও ল্যাপটপের র্যাম, প্রসেসর, হার্ডডিস্ক পাওয়ার সাপ্লাই
এগুলো থাকে অনেক বড় এবং অধিক কর্মদক্ষতা সম্পন্ন পাশাপাশি এগুলোর
কুলিং সিস্টেম থাকে অনেক ভালো। তাই ল্যাপটপে যেকোনো ধরনের ভারী
কাজ করা যায় যা নোটবুকে করা যায় না।
অন্যদিকে ল্যাপটপে সাধারণত হাইএন্ড বা উন্নত প্রসেসর ব্যবহার করা হয়
এবং গ্রাফিক্সের কাজ করার জন্য আলাদাভাবে গ্রাফিক্স কার্ড যুক্ত
করা থাকে কিন্তু নোটবুকে সেগুলো থাকে না। এছাড়াও
ল্যাপটপের স্টোরেজ সাধারণত নোটবুকের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে
থাকে। ল্যাপটপে উচ্চ পারফরমেন্স পাওয়ার জন্য যেই অধিক
শক্তিশালী প্রসেসর বা গ্রাফিক্স কার্ড ব্যবহার করা হয়। সেগুলোকে
সঠিকভাবে চালানোর জন্য ল্যাপটপের কুলিং সিস্টেম কেউ অনেক উন্নত করা হয়
কিন্তু নোটবুকে তেমন কোনো সিস্টেম থাকে না। পাশাপাশি ল্যাপটপের
ব্যাটারি অনেক বেশি এম্পায়ারের হলেও নোটবুকের ব্যাটারি অত বেশি
এম্পিয়ারের হয় না মূলত এই সকল কারণে ল্যাপটপের তুলনায়
নোটবুকের পারফরমেন্স অনেক কম হয়ে থাকে।
নোটবুকের এবং ল্যাপটপ মধ্যে আপগ্রেড পার্থক্য
নোটবুক বা ল্যাপটপের মধ্যে কোনো ডিভাইসেই পার্টস আপগ্রেড করার
ক্ষেত্রে তেমন কোনো সুবিধা ভালোভাবে পাওয়া না গেলেও ল্যাপটপের
ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা রয়েছে না। ল্যাপটপ কম্প্যাক্ট ডিভাইস হওয়ায়
সকল হার্ডওয়্যার এর মধ্যে যুক্ত থাকে এবং এটাকে খুলে নতুন কিছু যুক্ত
করার সুবিধা থাকে না। তবে বর্তমানে কিছু গেমিং ল্যাপটপ রয়েছে যেগুলোতে
এক্সট্রা ভাবে গ্রাফিক্স কার্ড এবং র্যাম যুক্ত করার সুবিধা থাকে
সেজন্য আপনাকে আলাদা ভাবে গ্রাফিক্স কার্ড হোল্ডার কিনতে হবে তারপর
সেটি আপনাকে ল্যাপটপের সাথে যুক্ত করতে হবে।
অন্যদিকে নোটবুকে এই সুবিধাটি একদমই নেই। নোটবুকের কোনো পার্টস
কেনার পর আপগ্রেড করা যায় না কোম্পানি যেটা বানিয়ে দিয়েছে
আমাদের সেটিই ব্যবহার করতে হয়। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী
আমরা পার্টস আপগ্রেড করতে পারি না। নোটবুক সাধারণত ফোনের
মতো কিন্তু অনেক বড় হয়ে থাকে এটিতে সম্পূর্ণটাই স্ক্রিন এবং টাচ
করে কাজ করতে হয় বলে এটি সম্পূর্ণ সিল থাকে তাই এটিকে খুলে নতুন কোনো
পার্টস যুক্ত করার কোনো সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি ল্যাপটপ বা
কম্পিউটারের পার্টস বাজারে কিনতে পাওয়া যায় কিন্তু নোটবুকের
পার্টস গুলো বাজারে আলাদাভাবে কিনতে পাওয়া যায় না। তাই নোটবুক
কেনার পরে সেটাকে আপগ্রেড করা যায় না।
ল্যাপটপের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
ল্যাপটপের সুবিধাগুলো হলো ল্যাপটপ একটি কম্প্যাক্ট ডিভাইস হাওয়ায়
যেকোনো জায়গায় এটাকে বহন করা যায় এবং এটি ব্যবহার করতে তেমন কোনো
ঝামেলা পোহাতে হয় না। আমরা চাইলে এটিকে যেকোনো জায়গায় যেকোনভাবে
ব্যবহার করতে পারি পাশাপাশি ল্যাপটপের সাথে ব্যাটারি থাকায় আমরা চাইলে
ল্যাপটপ নিয়ে বিছানায় শুয়ে বা বসেও কাজ করতে পারি এবং কারেন্ট চলে
গেলেও আমাদের ল্যাপটপটি সাথে সাথে বন্ধ হবে না।
এবার আসা যাক এর কিছু অসুবিধার দিক নিয়ে ল্যাপটপের সর্বপ্রথম অসুবিধা
হলো এটির দাম ডেস্কটপ বা কম্পিউটারের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে থাকে।
পাশাপাশি এটি কম্প্যাক্ট ডিভাইস হওয়ায় কম্পিউটারের সকল জিনিস এখানে
কম্প্যাক্ট ভাবে যুক্ত করা থাকে সে কারণে কম্পিউটারের মতো কর্মদক্ষতা
পাওয়া যায় না এবং ভারী কাজের ক্ষেত্রে ল্যাপটপ খুব একটা উপকার দিতে
পারে না। ল্যাপটপের নানা ধরনের জিনিস প্রায় নষ্ট হয়ে থাকে যেমন
ল্যাপটপের কিবোর্ড। আবার নষ্ট হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করতেও অধিক দাম দিতে
হয় এছাড়াও এর সবথেকে বড় অসুবিধা হলো প্রয়োজন মতো যেকোনো পার্টস
আপগ্রেড করা যায় না।
নোটবুকের কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা
এবার আসা যাক নোটবুকের কিছু অসুবিধার দিক নিয়ে নোটবুকের বেশ কিছু
অসুবিধা রয়েছে যার মধ্যে প্রথম অসুবিধা হলো এটি কম্পিউটার বা
ল্যাপটপের তুলনায় অধিক দামি হয়ে থাকে এবং কোনো পার্টস নষ্ট হয়ে গেলে
বা ভেঙ্গে গেলে তা পরিবর্তন করতেও অধিক দাম দিতে হয়। এছাড়াও এটিতে
ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের মতো সহজে আপগ্রেড করার সুবিধা থাকে না এবং
ভারী কাজের জন্য এটি একদমই উপযুক্ত নয়। নোটবুকে ভারী কাজ করা যায়
না এবং সাধারণত ডিজাইন বা টুকটাক কাজ করা যায় মূলত অধিক
দাম এবং পারফরমেন্স কম হওয়ায় অনেকেই নোটবুক কিনতে খুব একটা পছন্দ
করে না।
কোনটি কাদের জন্য কেনা উচিত
ল্যাপটপ নাকি নোটবুক কোনটি কেনা উচিত সেটি আসলে আমাদের এক এক জনার
কাজের উপর নির্ভর করে আমরা যারা সাধারণত ভারী কাজ করতে চাই তাদের
জন্য ল্যাপটপ উপযুক্ত একটি ডিভাইস কারণ ল্যাপটপ সাধারণত
নোটবুকের তুলনায় সাধারণত অধিক কর্মদক্ষতা সম্পন্ন হওয়ায় যেকোনো
ধরনের ভারী কাজ খুব সহজে করা যায় এবং এটির কুলিং সিস্টেম ভালো হওয়ায়
ভারী কাজের সময় চাপ পড়ে না। তাই গ্রাফিক্স অথবা ভিডিও এডিটিং এর মতো
ভারী কাজ করতে চাইলে ল্যাপটপ কেনা উচিত।
অন্যদিকে যারা খুব একটা ভারি কাজ করবে না বিছানায় শুয়ে শুয়ে অথবা
বাইরে খুব সহজেই বহন করতে চাই তারা নোটবুক কিনতে পারে। নোটবুকে তারা
গ্রাফিক্স ডিজাইন এর পাশাপাশি যেকোনো ধরনের টুকটাক কাজ খুব সহজে করতে
পারবে। ডিজাইনের বিভিন্ন কাজ বা বিভিন্ন তথ্য নোট করা এবং টুকটাক
কাজের করার জন্য নোটবুক একটি উপযুক্ত ডিভাইস। যারা ল্যাপটপের মতো বড়
এবং ভারী জিনিসের ঝামেলা চান না তারা কম্প্যাক্ট ডিভাইস হিসেবে
নোটবুক কিনতে পারে। তবে নোটবুক কেনার ক্ষেত্রে অবশ্যই কি কাজের
জন্য কিনছি তা মাথায় রাখতে হবে।
শেষ কথাঃ ল্যাপটপ আর নোটবুকের পার্থক্য
উপরের এই আর্টিকেলে আমরা এতক্ষণ ল্যাপটপ আর নোটবুকের
পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম এবং কোনটি কাদের জন্য কেনা
উচিত সে সম্পর্কে একটি বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করলাম।
ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে আসলে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে এদের যেমন
যন্ত্রাংশের পার্থক্য রয়েছে তেমনি পারফরম্যান্সেরও পার্থক্য রয়েছে।
ল্যাপটপে যেমন ভারী কাজ করা যায় নোটবুক সেগুলো করা যায় না।তাই যারা
ভারী কাজ করতে চাই তাদের জন্য ল্যাপটপ এবং যারা ডিজাইন অথবা
টুকটাক কাজ করতে চাই তাদের নোটবুক কিনা নেওয়া উচিত।
আমার মতে ল্যাপটপ এবং নোটবুকের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে
কাজের পার্থক্যের পাশাপাশি তাদের যন্ত্রাংশ, পারফরমেন্স এবং দামের
পার্থক্য রয়েছে। ল্যাপটপে সাধারণত কম্পিউটারের সকল ভারী কাজ
করা যায় আবার ল্যাপটপের প্রসেসর, হার্ডডিস্ক, গ্রাফিক্স কার্ড ইত্যাদি
অনেক শক্তিশালী হয়ে থাকে। অন্যদিকে নোটবুকে কম শক্তি
সম্পূর্ণ প্রসেসর থাকায় এদের ব্যাটারি ব্যাকআপ বেশি হয় এবং
এটিতে ডিজাইনসহ টুকটাক কাজ ছাড়া খুব বেশি ভারী কাজ করা যায়
না। তাই এই সকল বিষয় মাথায় রেখে আমাদের নিজেদের কাজের ধরণ
অনুযায়ী কোন ডিভাইস আমাদের জন্য উপযুক্ত সেটি বিবেচনা করে তারপর
আমাদের কেন উচিত।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url