বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে
বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো। পাশাপাশি কাদের জন্য এই সবজিটি খাওয়া উপকারী এবং
কাদের এই সবজি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে সে সকল বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করবো।
বর্তমানে আমরা অনেকে নানা ধরনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টিতে
ভরপুর হওয়ায় বিটরুটকে সুপারফোর্ড হিসেবে বিবেচনা করি এবং তরকারি, সালাদ বা
জুস হিসাবে এটি খেয়ে থাকি। উপকারিতা থাকলেও এটির রয়েছে কিছু অপকারিতার দিক
তো চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।
পোস্ট সূচীপত্রঃ বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- বিটরুট আসলে কেমন ধরনের সবজি
- বিটরুটের কী কী পুষ্টিগণ রয়েছে
-
রক্তচাপ এবং রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে বিটরুটের ভূমিকা
-
ত্বকের যত্নে এবং ওজন কমাতে বিটরুটের উপকারিতা
-
হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এর ভূমিকা
- বিটরুট যেভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
-
বিটরুটের খাওয়ার কিছু অপকারিতা
- যাদের বিটরুট খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে
- শেষ কথাঃ বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
এখন আমরা বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত
আলোচনা করবো এবং কাদের জন্য বিটরুট খাওয়া উপকারী এবং কাদের এই সবজি
খাওয়া থেকে সতর্ক থাকতে হবে সে সকল বিষয়ে একটি সম্পূর্ণ দিক নির্দেশনা
দেওয়ার চেষ্টা করবো। বিটরুট নামের এই লাল রংয়ের সবজিটি সাধারণত
আমাদের বাজারে মানুষ কিনতে চান না কারণ অনেকেই এর উপকারিতা সম্পর্কে
সঠিকভাবে জানে না।বিটরুট সাধারণত শীতকালে একটু বেশি দেখা
যায়। নানা ধরনের ঔষধি গুনাগুন এবং স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকার
জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সুপার ফুড। তবে
বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা থাকলেও এর রয়েছে কিছু অপকারিতার দিক।
পৃথিবীতে কোনো জিনিস শুধুই ভালো এমন আসলে হয় না প্রতিটা জিনিসের ভালো
এবং মন্দ উভয় দিক থাকে। সেক্ষেত্রে আমাদের সে জিনিসগুলো সম্পর্কে
বিস্তারিত জানতে হবে এবং এটি আমাদের জন্য উপকারী না অপকারী সেটি বিবেচনা
করার পরে আমাদের তা গ্রহণ করতে হবে বিটরুটও এর ব্যতিক্রম
নয়। সাধারণত যারা নিম্ন
রক্তচাপ, অ্যালার্জি, ত্বকে ফুসকুড়ি, চুলকানি,
জ্বালাপোড়া এবং কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভুগছেন তাদের এই বিটরুট খাওয়া
থেকে বিরত থাকা উচিত কারণ এটি তাদের ক্ষেত্রে উপকারিতার চেয়ে
অপকারিতা বয়ে নিয়ে আসবে।
বিটরুট আসলে কেমন ধরনের সবজি
এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক বিটরুট আসলে কি এবং কেমন ধরনের সবজি সে
সম্পর্কে। বিটরুট হলো মূলত মাটির নিচে জন্মানো মূল জাতীয় একটি
সবজি। বিটরুটের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Beta vulgaris এবং এটি
সাধারণ মানুষের কাছে সাধারণত বিট নামের অধিক পরিচিত। এটি দেখতে
অনেকটা শালগমের মতো এবং এটির পাতা এবং মূল দুটি অংশই খাওয়া
যায় প্রাচীনকাল থেকে সাধারণত বিভিন্ন ওষুধ বানাতে এবং খাদ্য হিসেবে
এটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
এই সবজিটি দেখতে উজ্জ্বল লাল বা বেগুনি বর্ণের হয়ে থাকে।
বিটরুটের এই উজ্জ্বল লাল বা বেগুনি রং হওয়ার পিছনে মূলত একটি
বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রঞ্জক ভূমিকা রাখে যার নাম
হলো বিটালায়িন।বিটরুটে ক্যালোরি কম থাকলেও নানা ধরনের পুষ্টি উপাদানে
ভরপুর একটি সবজি এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ এটি সুপার ফড হিসেবে
খেয়ে থাকে। এটি মানুষ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে, ওজন কমাতে, শক্তি এবং কর্ম
ক্ষমতা বাড়াতে সাধারণত খেয়ে থাকে।
বিটরুটের কী কী পুষ্টিগণ রয়েছে
বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা জানার পূর্বে আমাদের জানতে হবে
বিটরুটে কী কী উপাদান থাকে সেগুলো সম্পর্কে। আমরা যদি বিটরুটে
থাকা উপাদানগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে না জানতে পারি তাহলে এটি কাদের জন্য
উপকারী এবং কাদের জন্য অপকারী সেটি আমরা সঠিকভাবে বুঝতে পারবো না।
তাই বিটরুটে থাকা বিভিন্ন পুষ্টিগুণ সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই
ভালোভাবে জানতে হবে। বিটরুটে সাধারণত নানা ধরনের পুষ্টি উপাদান
থাকে এবং এটি একটি কম ক্যালরিযুক্ত সবজি। এতে সাধারণত ফলেট,
ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম, আয়রন এবং ভিটামিন সি এর মতো কিছু
চমৎকার পুষ্টি উপাদান রয়েছে।
বিটরুটকে সুপারফুড বলার অন্যতম কারণ হলো এর চমৎকার সব পুষ্টি
উপাদান। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, সি এবং বি৯ এটি ফলেট এবং
ভিটামিন বি ৯ এর একটি চমৎকার উৎস এটি কোষের বৃদ্ধিতে সাহায্য
করে। এছাড়াও বিটরুটে আয়রন, পটাশিয়াম এবং ফাইবার
থাকে যা আমাদের রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খুবই
সাহায্য করে পাশাপাশি এটি আমাদের হজম প্রক্রিয়া এবং অন্ত্রের
স্বাস্থ্য ভালো রাখে। এছাড়াও
এটিতে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিটাইন ও নাইট্রেট থাকে যা
আমাদের কোষের ক্ষতি রোধ করতে এবং লিভারের স্বাস্থ্য উন্নতি করতে সাহায্য
করে পাশাপাশি এটি নাইট্রিক অক্সাইডের চাহিদা পূরণ করে রক্তনালীকে
ভালো রাখে।
রক্তচাপ এবং রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে বিটরুটের ভূমিকা
বিটরুট রক্তচাপ এবং রক্তস্বল্পতা নিয়ন্ত্রণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা পালন করে। বিটরুটে উচ্চমাত্রায় এবং অধিক পরিমাণে নাইট্রেট
থাকে এই নাইট্রেট গুলো সাধারণত নাইট্রিক অক্সাইডে রূপান্তরিত
হয়ে আমাদের দেহের রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে। এটি
আমাদের দেহের রক্তসঞ্চালন কে সহজ করে এবং রক্ত প্রবাহ উন্নত
করে যার ফলে আমাদের দেহের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ থাকে। যারা উচ্চ
রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য বিটরুট একটি উপকারী সবজি হতে
পারে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিটরুট রক্তসল্পতা দূর করতেও খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং ভিটামিন
বি৯ থাকে যা রক্তের হিমোগ্লোবিন বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি
ফলেট রক্ত কোষ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই আমরা নিয়মিত বিটরুটের জুস
খেলে আমাদের দেহের রক্তস্বল্পতা এবং ক্লান্তিবোধ দূর হবে এছাড়াও আমাদের
মধ্যে যারা নিয়মিত প্রচুর খেলাধুলা করে তাদের নিয়মিত বিটরুট
খাওয়া উচিত।
ত্বকের যত্নে বিটরুটের উপকারিতা
বিটরুট ত্বকের যত্নেও চমৎকার ভূমিকা পালন করে। এটি আমাদের
ত্বকের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক-উভয় দিকের যত্ন করে। সাধারণত
আমরা বিটরুট নিয়ে সেটি ফেসপ্যাক বানিয়ে আমাদের ত্বকে ব্যবহার
করতে পারি। এভাবে বিটরুটের ফেসপ্যাক বানিয়ে আমাদের ত্বকে ব্যবহার
করার ফলে একটি প্রাকৃতিক ব্লাশ বা আভা আমাদের ফেসে লক্ষ্য করা
যাবে। এছাড়াও এটি ত্বকের যেকোনো ধরনের ডার্ক স্পট এবং ব্রনের দাগ
কমাতে সাহায্য করে। ত্বকের পাশাপাশি এটি ঠোঁটের জন্যও
উপকারী এটি ঠোঁটে ব্যবহার করার ফলে ঠোঁট নরম এবং গোলাপি হয়।
বিটরুট ত্বকের পাশাপাশি আমাদের দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে ভূমিকা
রাখে। আমরা যদি বিট সিদ্ধ করি তাহলে প্রায় ১০০ গ্রাম সিদ্ধ বিটে ৪৪
ক্যালরি, ১ দশমিক ৭ গ্রাম প্রোটিন, ০ দশমিক ২ গ্রাম ফ্যাট ও ২ গ্রাম
ফাইবার পাওয়া যাবে। যেহেতু সিদ্ধ বিটে ক্যালরি একদম খুবই কম তাই এটা খেলে
আমরা পুষ্টি পেলেও আমাদের কোনো প্রকার ওজন বাড়বে না। সুতরাং
যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন তারা নিয়মিত সিদ্ধ বিট খেতে পারেন।
পাশাপাশি যারা প্রচুর খেলাধুলা করেন তাদের অতিরিক্ত শক্তির জন্য এটি একটি
ভালো উৎস হতে পারে।
হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে এর ভূমিকা
বিটরুট আমাদের হৃদপিণ্ড এবং মস্তিষ্ক উভয়ের স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আমরা আগেই আলোচনা করেছি বিটরুট খাওয়ার হলে
আমাদের শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকার
সাথে হৃদপিণ্ড সুস্থ থাকার বিষয়টি খুবই গভীরভাবে জড়িত। বিটরুট
খাওয়ার ফলে আমাদের উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে যা আমাদের হার্ট
অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায় পাশাপাশি এটি হোমোসিস্টাইনের
মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রেখে যেকোনো ধরণের হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য
করে।
হৃদপিণ্ডের পাশাপাশি এটি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো
রাখে। মানুষের বয়স দিন দিন যত বাড়ে তাদের মস্তিষ্ক এবং
স্মৃতিশক্তি তত দুর্বল হয়ে পড়ে কিন্তু নিয়মিত বিটরুট
খেলে আমাদের মস্তিষ্ক শক্তিশালী এবং স্মৃতিশক্তি বেড়ে যাবে।
কারণ বিটরুট খেলে মস্তিষ্কে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি হয় ফলে
আমাদের স্মৃতিশক্তি কয়েকগুন বেড়ে যায়। পাশাপাশি এটি মনোযোগ এবং
সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।
বিটরুট যেভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
সর্বোপরি বিটরুট আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে খুবই
সাহায্য করে। বিটরুটে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা
আমাদের দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে।সাধারণত
বেশিরভাগ রোগের কারণ হলো প্রদাহ। শরীরে প্রতিদিনের নানা সমস্যা সেরা
না উঠলে একসময় এটি মারাত্মক রোগে রূপান্তরিত
হয়। বিটরুটে অ্যান্টি–ইনফ্ল্যামেটরি থাকে যা আমাদের
শরীরকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করে।
বিটরুটে বিশেষ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রঞ্জক থাকে যার নাম
হলো বিটালায়িন। এই বিটালায়িন একটি নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ প্রদাহরোধী
উপাদান। ফলে আমাদের বিভিন্ন রোগবালাই এবং প্রদাহ থেকে মুক্তি পেতে
চাইলে বেশি বেশি বিটরুট খাওয়া উচিত। পাশাপাশি এটি অন্ত্রে ভালো
ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি করে রোগবালাইের সাথে লড়াই করতে সাহায্য
করে। এছাড়াও আমরা যদি শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ টক্সিন বের করতে
চাই তাহলে বিটরুটের জুস খাওয়া উচিত।
বিটরুটের খাওয়ার কিছু অপকারিতা
বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিক নিয়ে আমরা আলোচনা
করলেও উপরে এতক্ষন আমরা কেবল বিটরুট খাওয়ার উপকারিতার দিকগুলো নিয়েই
আলোচনা করেছি তো এখন আমরা এর কিছু অপকারিতার দিক নিয়ে কথা বলবো।
অতিরিক্ত বিটরুট খাওয়ার ফলে আমাদের কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে
পারে কারণ বিটরুটে অক্সালেট নামক একটি যৌগের পরিমাণ বেশি
থাকে।পাশাপাশি বিটরুট রক্তচাপ কমায় এবং এটি অতিরিক্ত খেলে রক্তচাপের
বেশি কমে যেতে পারে।এছাড়াও বিটরুটে প্রাকৃতিক শর্করা বেশি থাকায়
ডায়াবেটিস রোগীদের না খাওয়ায় উচিত।
এছাড়াও অতিরিক্ত বিট খাওয়ার ফলে মল বা মূত্রের রঙ লাল বা বেগুনি
হয়ে যেতে পারে এটি অবশ্য কোনো ক্ষতিকর কিছু না। যদিও
এটি বিরল তবে অল্প কিছু মানুষের ক্ষেত্রে বিটরুট খাওয়ার ফলে
অ্যালার্জি হতে পারে। তাই যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদের এই
সবজিটি খাওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়া
উচিত।
যাদের বিটরুট খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে
উপরে আমরা একটু আগেই বিট খাওয়ার কিছু অপকারিতার দিক সম্পর্কে
আলোচনা করলাম যেখানে আমরা কিছু অপকারী দিক আলোচনা করার পাশাপাশি
কাদের খাওয়া যাবেনা সেগুলো হালকা ভাবে আলোচনা করেছি। এই ধাপে আমরা এ
বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবো।
- প্রথমত যাদের নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা আছে তাদের ক্ষেত্রে বিটরুট খাওয়া যাবে না কারণ বিটরুট রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে এবং এটি খাওয়ার ফলে রক্তচাপ অতিরিক্ত কমে যেতে পারে।
- আবার অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা হলে এটি খাওয়া উচিত না।
- প্রচুর ফাইবার থাকায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিপাক ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে
- অস্টিওপোরোসিস রোগে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির বিটরুট না খাওয়াই উচিত
- লিভার এবং কিডনি রোগীদের বিশেষ কিছু ওষুধের সাথে বিট না খাওয়াই উচিত
- যারা ডায়াবেটিসে বুঝছেন তাদের বিট খাওয়া যাবে না কারণ এটিতে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ অনেক বেশি থাকে।
উপরোক্ত এইসব রোগীদের বিট না খাওয়াই উচিত এবং খেলেও তা ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে তারপর খেতে হবে।
শেষ কথাঃ বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
উপরে এতক্ষণ এই আর্টিকেলে আমরা বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
নিয়ে নানা আলোচনা করলাম এবং পাশাপাশি কাদের ক্ষেত্রে বিটরুট খাওয়া
উপকারী এবংকাদের বিটরুট খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে সে সম্পর্কে একটি
স্পষ্ট ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করলাম। মূলত বিটরুট একটি অত্যন্ত
উপকারী সবজি এবং সুপার ফুড হাওয়ায় এটি খাওয়ার নানান উপকারিতা
রয়েছে যেমন এটি রক্তস্বল্পতা দূর করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, ওজন
কমানো এবং ত্বকের যত্নে ভূমিকা রাখে পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড সুস্থ ও রোগ
প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ইত্যাদি কাজে ভূমিকা রাখে তবে উপকারী দিক
থাকলেও কিছু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এটি অপকার বয়ে আনতে পারে।
আরো পড়ুনঃ উলট কম্বলের ডাটার উপকারিতা ও অপকারিতা
আমার মতে বিটরুট একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর সবজি এবং সুপার ফুড যা আমাদের
শরীরের জন্য খুবই উপকারী এবং পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরে
গুরুত্বপূর্ণ কিছু ভূমিকা পালন করে। তাই আমাদের অবশ্যই নিয়মিত এটি
খাওয়া উচিত আমরা এটি সালাদ, জুস কিংবা সিদ্ধ করে খেতে পারি। তবে
পৃথিবীতে কোনো জিনিসই শুধুই ভালো এমন হয় না প্রতিটা ভালো জিনিসের কিছু
না কিছু খারাপ দিক থাকেই বিটরুটেরও তেমন কিছু অপকারী দিক রয়েছস।
তাই এটি খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই আমাদের শারীরিক অবস্থা বুঝে এবং ডাক্তারি
পরামর্শ মেনে তারপর খাওয়া উচিত।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url