কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
আজকের এই আর্টিকেলে আমরা কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা করবো এবং পাশাপাশি কাদের জন্য এটি খাওয়া উপকারী এবং কাদের এটি খাওয়া থেকে
বিরত থাকতে হবে সে সকল বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করবো।
আমরা অনেকেই ড্রাই ফুড হিসেবে কিসমিস পছন্দ করি এছাড়া এটি পোলাও, পায়েস সহ
বিভিন্ন মিষ্টি তৈরি করে ব্যবহৃত হয়। পুষ্টিবিদদের মতে কিসমিস আমাদের জন্য অনেক
উপকারী তবে উপকারিতা থাকলেও এটির রয়েছে কিছু অপকারিতার দিক তো চলুন জেনে নেই
বিস্তারিত।
পোস্ট সূচীপত্রঃ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
- কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
-
কিসমিস কী এবং কিভাবে এটা তৈরি হয়
-
কিসমিস কী কাজে ব্যবহার করা হয়
-
নিয়মিত কিসমিস খেলে কি হয়
-
হজমে সহায়তা এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে কিসমিসের ভূমিকা
-
গ্যাস্ট্রিক এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে কিসমিসের ভূমিকা
-
দৃষ্টিশক্তি উন্নতি এবং ওজন বৃদ্ধিতে কিসমিসের উপকারিতা
-
কিসমিস খাওয়ার কিছু অপকারিতা
-
যাদের কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে
- শেষ কথাঃ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
এখন আমরা কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা
করবো। কিসমিস আমাদের কাছে অতি পরিচিত একটি ড্রাই ফুড। এটি আমরা সাধারণত
পোলাও, পায়েশ এবং বিভিন্ন মিষ্টি বানাতে ব্যবহার করে থাকি। মূলত আঙ্গুর ফল কে
শুকিয়ে কিসমিস তৈরি করা হয় এবং কিসমিস গ্লুকোজের একটি অসাধারণ উৎস যা
আমাদের শরীরকে শক্তি যোগাতে খুব সাহায্য করে। তবে এই কিসমিস খাওয়ার যেমন
রয়েছে উপকারিতা তেমনি রয়েছে এর কিছু অপকারী দিক। আজকের এই আর্টিকালে আমরা
কিসমিস কাদের জন্য খাওয়া উচিত এবং কাদের খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এই সকল
বিষয় নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করবো।
কোনো জিনিস খাওয়ার পূর্বে আমাদের অবশ্যই তার উপকারী এবং অপকারী উভয় দিক
বিবেচনা করে তারপর খাওয়া উচিত। কিসমিস ও এর ব্যতিক্রম নয় কিসমিসের যেমন
উপকারিতা রয়েছে তেমনি রয়েছে কিছু অপকারিতা। কিসমিস খেতে মিষ্টি জাতীয় এবং
এটি গ্লুকোজের একটি ভরপুর উৎস হওয়ায় এটি দেহে শক্তি যোগাতে খুব সাহায্য
করে পাশাপাশি ওজন বৃদ্ধিতে, গ্যাস্টিক ও ক্যান্সার প্রতিরোধে এবং রক্তস্বল্পতা
দূর করতে কিসমিসের ভূমিকা অনেক। তবে যাদের ডায়াবেটিস অথবা অ্যালার্জির
সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি বিপদ ডেকে আনতে পারে।
কিসমিস কী এবং কিভাবে এটা তৈরি হয়
কিসমিস মূলত হল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ড্রাই ফুড সাধারণত আঙ্গুর ফলকে শুকিয়ে
কিসমিস বানানো হয়। কিসমিস কে মূলত শুকনো আঙ্গুর বলা হয়। কিসমিসের
ইংরেজি নাম Raisins এবং এটি খেতে মিষ্টি স্বাদের সাধারণত পোলাও, পায়েশ এবং
যেকোনো ধরনের মিষ্টি বানাতে এই কিসমিস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। অনেকেই ওজন
বাড়াতে এবং গ্লুকোজ এর চাহিদা পূরণ করতে নিয়মিত কিসমিস খেয়ে থাকে।
মিষ্টি স্বাদের এ খাবারটি অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে
গ্লুকোজ, আইরন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সহ বিভিন্ন
সব উপাদান।
আরো পড়ুনঃ বিটরুট খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
সাধারণত আঙ্গুল ফলকে প্রক্রিয়াজাত করে অথবা প্রাকৃতিকভাবে শুকানোর মাধ্যমে
কিসমিস তৈরি করা হয়। কিসমিস খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী সাধারণত
আঙ্গুর গাছ থেকে আঙ্গুর পাড়ার পর সেটাকে পরিষ্কার করে শুকাতে দেওয়া
হয়। অনেক সময় আবার এটাকে তাড়াতাড়ি শুকানোর জন্য পটাশিয়াম কার্বনেট এর দ্রবণে
ডুবানো হয়। যার ফলে আঙ্গুরের মোম জাতীয় আবরণ ভেঙ্গে গিয়ে দ্রুত পানি শুকায়।
আঙ্গুরকে সাধারণত তীব্র রোদে অথবা ডিহাইড্রেটরের মাধ্যমে যান্ত্রিকভাবে শুকানো
হয়। আঙ্গুর গুলো শুকিয়ে কিসমিস হয়ে গেলে সেগুলো বাজারে বিক্রির জন্য পাঠিয়ে
দেওয়া হয়।
কিসমিস কী কাজে ব্যবহার করা হয়
কিসমিস কি কি কাজে ব্যবহৃত হয় এটা আসলে বলে শেষ করা যাবে না এটি অত্যন্ত
পুষ্টিকর একটি ড্রাই ফুড হওয়ায় মানুষ বিভিন্নভাবে এটি খেয়ে থাকে। সাধারণত
পোলাও, পায়েশ এবং বিভিন্ন মিষ্টি বানাতে কিসমিস ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও অনেকে
কাঁচা কিসমিস খেয়ে থাকে। এটি গ্লুকোজের একটি অসাধারণ উৎস হওয়ায় এটি খেলে
ওজন বাড়ে। তাই যারা ওজন বাড়াতে চায় তারা নিয়মিত কিসমিস খায়। আবার কিসমিসে
রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
কিসমিস সাধারণত অনেক মানুষ আবার পানিতে ভিজিয়ে খায় পানিতে ভিজিয়ে কিসমিস খাওয়া
অনেক উপকারী। সারারাত কিসমিস পানিতে ভিজিয়ে পরের দিন সকালে খেলে এটি
শরীরকে ডিটক্স করতে এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি পানির
সাথে সাথে মানুষ এটি দুধে ভিজিয়েও খায়। এগুলো ছাড়াও কিসমিস মূলত ব্যবহার
করা হয় রান্নাই। বিভিন্ন ধরনের রান্নাই কিসমিসের ব্যবহার রয়েছে যেমন সেমাই,
মিষ্টি, পায়েস, ফিরনি, বিভিন্ন ধরনের ডেজার্ট বা পিঠাতেও এটি ব্যবহার
করা হয়। ডেজার্ট আইটেম ছাড়াও বিরিয়ানি, রোস্ট, পোলাও ইত্যাদি সব খাবারে
কিসমিসের ব্যবহার রয়েছে।
নিয়মিত কিসমিস খেলে কি হয়
কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার জন্য আমাদের আগে জানতে
হবে নিয়মিত কিসমিস খেলে আমাদের কি হয়। এটা কি আমাদের স্বাস্থ্যের উপকারে
আসে নাকি আরও অপকার বয়ে নিয়ে আসে তা আগে আমাদের সঠিকভাবে জানতে
হবে। আমরা ইতিমধ্যে বলেছি কিসমিসে ভরপুর ফাইবার, আয়রন সহ বিভিন্ন
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা আমাদের শরীরের স্বাস্থ্যকে উন্নত করতে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে কিসমিস খাওয়ার ফলে ডায়াবেটিস অথবা
অ্যালার্জি রোগীদের কিছু সমস্যাও হতে পারে।
সাধারণত যারা মোটা হতে চায় এবং শরীরকে ডিটক্স রাখতে চায় তাদের নিয়মিত কিসমিস
খাওয়া উচিত। রাতে পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে রেখে পরদিন সকালে খেলে এটি শরীরের
বেশ উপকারে আসে এবং যারা ওজন বানাতে চায় তারা নিয়মিত কিসমিস খেলে তাদের ওজন
খুবই তাড়াতাড়ি বাড়ে। পাশাপাশি এটি গ্যাস্টিকের সমস্যা কমাতে এবং হজম
শক্তি বৃদ্ধি করতে খুবই উপকারী। এছাড়াও রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং আমাদের
শরীরে মরণঘাতী রোগ ক্যান্সার প্রতিরোধে কিসমিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই
আমাদের সকলকে নিয়মিত কিসমিস খাওয়া উচিত।
হজমে সহায়তা এবং রক্তস্বল্পতা দূর করতে কিসমিসের ভূমিকা
কিসমিস খাওয়ার ফলে আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং রক্তস্বল্পতা দূর
হয়। কিসমিস মূলত ফাইবার এবং আয়রনের একটি প্রাকৃতিক উৎস। কিসমিসে প্রচুর
পরিমাণে আয়রন ও ফাইবার থাকার ফলে এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে এবং আমাদের হজম
শক্তি বৃদ্ধি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে
ফাইবার থাকে যা আমাদের পেট পরিষ্কার করে এবং যেকোনো ধরনের হজমজনিত সমস্যা সমাধান
করে। হজমের সমস্যা দূর করার জন্য রাতে পানিতে কিসমিস ভিজিয়ে সকালে
খালি পেটে খেলে কিসমিসে থাকা ফাইবার আমাদের পেট পরিষ্কার করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য
জনিত সমস্যা দূর করে।
পাশাপাশি কিসমিস প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকায় এটি রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য
করে এবং হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে খুবই কার্যকারী ভূমিকা পালন করে।
হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতার মতো
সমস্যা দূর হয়। পাশাপাশি কিসমিসে কপার এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স থাকায়
এটি আমাদের রক্তে লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। তাই
আমাদের নিয়মিত কিসমিস খাওয়া উচিত নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার ফলে আমাদের রক্ত
সঞ্চালন বৃদ্ধি পাবে এবং রক্তস্বল্পতা জনিত সমস্যা থাকবে না।
গ্যাস্ট্রিক এবং ক্যান্সার প্রতিরোধে কিসমিসের ভূমিকা
কিসমিস আমাদের শরীরে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে এবং ক্যান্সারের মতো রোগ
প্রতিরোধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিসমিসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার
থাকে এটা আমাদের পেটকে পরিষ্কার রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে পেট পরিষ্কার
রাখার ফলে যেকোনো ধরনের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা আমাদের হয় না। পাশাপাশি কিসমিসে থাকে
টারটারিক এসিড যা আমাদের পেটকে ঠান্ডা রাখে এবং গ্যাস জনিত সমস্যা দূর করে।
এছাড়াও কিসমিসে থাকা প্রাকৃতিক অ্যালকালাইন
উপাদান পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড নিয়ন্ত্রণ করে এবং আমাদের গ্যাস্ট্রিক
সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যার দূর করার পাশাপাশি কিসমিস ক্যান্সার প্রতিরোধে খুবই
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিসমিসে থাকা বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের
শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে এবং পাকস্থলী অথবা কোলন
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কিসমিসে থাকা ফেনোলিক এবং পলিফেনল নামক
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আমাদের শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়
এবং ক্যাটেচিন নামক উপাদান আমাদের শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা
করে। মূলত এই সকল উপাদান থাকার কারণে কিসমিস আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
দৃষ্টিশক্তি উন্নতি এবং ওজন বৃদ্ধিতে কিসমিসের উপকারিতা
কিসমিসের আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে যেমন কিসমিস দৃষ্টিশক্তি উন্নতি করতে এবং ওজন
বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। যারা ওজন বৃদ্ধি করতে চায় তারা নিয়মিত কিসমিস খেলে
তাদের ওজন খুবই তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি পাবে। কিসমিস সাধারণত রাতে ভিজিয়ে সকালে
খেলে কিসমিসে থাকা উচ্চ ফাইবার এবং ক্যালরি আমাদের শরীরের ওজন বৃদ্ধিতে
সাহায্য করে। এছাড়াও কিসমিসে প্রচুর গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ থাকে যা আমাদের ওজন
বৃদ্ধিতে খুবই কার্যকরী। ওজন বৃদ্ধির জন্য আমাদের রাতে দুধের সাথে কিসমিস ভিজিয়ে
সকালে খালি পেটে খাওয়া উচিত।
ওজন বৃদ্ধির পাশাপাশি কিসমিসের আরও একটি উপকারিতা হলো
এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কিসমিসে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন থাকে। এই ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুলো
আমাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সাধারণত কিসমিসে থাকা
ভিটামিন এ, বিটা ক্যারোটিন চোখের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে।
এছাড়াও কিসমিসে থাকা পলিফেনলিক ফাইটোনুট্রিয়েন্টস দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে
সাহায্য করে। তাই নিয়মিত কিসমিস খেলে বয়সজনিত চোখের সমস্যা, রাতকানা এবং
চোখে ছানি পরা ইত্যাদি সমস্যা দূর হয়।
কিসমিস খাওয়ার কিছু অপকারিতা
আমরা যেহেতু কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা উভয় দিক নিয়ে আলোচনা
করছি। তাই আমাদের উপকারিতার পাশাপাশি অপকারিতার দিকেও নজর দিতে হবে। তো এবার
চলুন কিসমিস খাওয়ার কিছু অপকারিতার দিক নিয়ে আলোচনা করা যাক। কিসমিস একটি
অত্যন্ত পুষ্টিকর ড্রাই ফুড হলেও অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে আমাদের শরীরে নানা
ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে যেমন ডায়াবেটিস, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি,
অ্যালার্জি, শ্বাসকষ্ট, গ্যাস ইত্যাদি। তাই কিসমিস খাওয়ার পূর্বে আমাদের
অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
কিসমিস উচ্চ ক্যালরি সম্পন্ন হওয়ায় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে গ্লুকোজ
থাকে। তাই এটি অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে গিয়ে
ডায়াবেটিসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও নিয়মিত কিসমিস খাওয়ার ফলে ওজন
অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে পাশাপাশি কিসমিসে অতিরিক্ত ফাইবার বা আঁশ থাকায় এটি
খাওয়ার ফলে গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। তাই যাদের অতিরিক্ত গ্যাস রয়েছে তাদের এটি
খাওয়া উচিত না। আবার অনেকের অ্যালার্জির সমস্যা থাকে তাদেরও কিসমিস খাওয়ার
আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। সর্বোপরি কিসমিসে তেমন কোনো অপকারিতা না থাকলেও
এটি খাওয়ার পূর্বে কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে আমাদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ
নিয়ে তারপর খাওয়া উচিত।
যাদের কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে
আমরা যেহেতু এতক্ষণ কিসমিস খাওয়ার কিছু অপকারিতর দিক নিয়ে আলোচনা করলাম। তাই সে
ক্ষেত্রে কাদের কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত তা আমাদের জানা দরকার। মূলত
যাদের ডায়াবেটিসের সমস্যা রয়েছে তাদের কিসমিস খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়া উচিত। কারণ কিসমিসে অতিরিক্ত ক্যালরি এবং প্রাকৃতিক
চিনি থাকায় এটি খেলে রক্তের শর্করার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীর
পাশাপাশি যারা দাঁতের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট অথবা গ্যাসের সমস্যায় ভুগে তাদেরও
কিসমিস খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
কিসমিসে অতিরিক্ত ফাইবার থাকে ফলে যাদের অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তাদের
ক্ষেত্রে এটি একটি সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই এসব ক্ষেত্রে কিসমিস খাওয়া থেকে
বিরত থাকা উচিত। পাশাপাশি অনেকের নানা খাদ্যে অ্যালার্জি থাকে তাই কিসমিস খাওয়ার
পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়া উচিত। অ্যালার্জি এবং গ্যাসের
সমস্যার পাশাপাশি অনেকের দাঁতের সমস্যা এবং শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা থাকে কিসমিস
খেলে যে আঠালো ভাব সৃষ্টি হয়। সেটা অনেকের দাঁতের এনামেল নষ্ট করে ক্ষত
সৃষ্টির কারণ হতে পারে। তাই যাদের উপরোক্ত সমস্যা গুলো আছে তাদের কিসমিস খাওয়া
থেকে বিরত থাকা উচিত এবং খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে তারপর
খাওয়া উচিত।
শেষ কথাঃ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
উপরের এই আর্টিকেলে আমরা এতক্ষণ কিসমিস খাওয়ার উপকারিতা ও
অপকারিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করলাম এবং কিসমিস কাদের জন্য উপকারী এবং
কাদের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে সে সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা
করলাম। মূলত কিসমিস একটি জনপ্রিয় ড্রাই ফুড এবং এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর আমরা
প্রায় বিভিন্ন খাদ্য বিশেষ করে মিষ্টির সাথে এটি খেয়ে থাকি। এটি খাওয়ার ফলে
যেমন হজম শক্তি বৃদ্ধি হয়, ক্যান্সার প্রতিরোধ হয়, রক্তস্বল্পতা রোধ হয় এবং
দৃষ্টিশক্তি উন্নত হয় তেমনি অতিরিক্ত খেলে ডায়াবেটিস অথবা অ্যালার্জির মতো
সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
আমার মতে প্রতিটা জিনিসেরই উপকার এবং অপকার উভয় দিক থাকে। তাই খাওয়ার
পূর্বে আমাদের অবশ্যই নিজেদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তারপর খাওয়া উচিত।
কিসমিস একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ড্রাই ফুড এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, আয়রন ,
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কপার এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স সহ নানা ধরনের ভিটামিন রয়েছে।
তাই আমাদের অবশ্যই নিয়মিত কিসমিস খাওয়া উচিত তবে যাদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে
যেমন ডায়াবেটিস অথবা অ্যালার্জি তাদের কিসমিস খাওয়ার পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের
পরামর্শ নিয়ে তারপর খাওয়া উচিত।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url