গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন

গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন গুলো আমাদের ফলো করতে হবে। অনেকে আছে ব্যবসা করতে চায় কিন্তু তার কাছে পুঁজি নাই। একটা প্রচালিত বাক্য আছে আমার স্বাদ আছে কিন্তু সাধ্য নাই। যারা গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করবেন ভাবছেন আর্টিকেলটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
গার্মেন্টস-ব্যবসা-শুরু-করার-গাইড-লাইন
গার্মেন্টস ব্যবসা কিভাবে শুরু করতে হবে বা কি কি করা লাগবে, কত টাকা লাগবে, পণ্য কোথায় থেকে নিবেন ইত্যাদির বিষয়ে এই আর্টিকেলে তা সম্পূর্ণ আলোচনা করব। চলুন তাহলে নিচে আমরা জেনে নিন কিভাবে গার্মেন্টস ব্যবসার শুরু করার যায় তার গাইডলাইন সম্পর্কে। 

পেজ সূচিপত্রঃ গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন

গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন

বাংলাদেশের গার্মেন্টস খাত শুধু রপ্তানি নয় দেশি বাজারেও অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং লাভজনক একটি ব্যবসা। তবে বাংলাদেশে অন্যতম সম্ভাবনাময় ও লাভজনক খাত হলো গার্মেন্টস ব্যবসা। কারণ গার্মেন্টস ব্যবসা হচ্ছে একটি লাভজনক ব্যবসা। যে কেউ চাইলে কম পুঁজিতে লাভবান ব্যবসাটা শুরু করতে পারে। তবে ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে একটা সঠিক পরিকল্পনা করতে হবে।গার্মেন্টস ব্যবসা হল পোশাক ও বস্ত্র তৈরি এবং বিক্রয় একটি লাভজনক প্রক্রিয়া। এই ব্যবসা মূলত পোশাক শিল্পের অংশ, যেখানে পণ্য উৎপাদন এবং সরাসরি গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা হয়। আপনি অল্প পুঁজিতে ছোট করে মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে পারেন। যেখানে অল্প পুঁজি এমন কম সংখ্যার মেশিন দিয়ে বাড়িতে পণ্য তৈরি করে বিক্রি করতে পারা যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসার সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে চাহিদা বেশি। দেশ-বিদেশ সব জায়গায় পোশাকের চাহিদা রয়েছে। ছোট থেকে বড় সব ধরনের মানুষেরই পোশাকে চাহিদা রয়েছে। কারণ পোশাক হচ্ছে আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গার্মেন্টস ব্যবসার শুরু করার জন্য আমাদের কিছু উপায় অবলম্বন করতে হবে। যেগুলো না জানলে ব্যবসা করা সম্ভব না। যেমন প্রশিক্ষণ গ্রহণ, পণ্য বিক্রি করার উপায়, কাস্টমারদের আকর্ষণ করা, প্রাথমিক বিনিয়োগ এবং মার্কেটিং এ উপায় গুলো অবশ্যই জানতে হবে। আর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহার। কারণ বর্তমানে যে কোন কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার জানাটা অনেক জরুরী।

গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন সাথে আমাদের আর কি কি করতে হবে বা কি নিয়ম মানতে হবে তা এ আর্টিকেলের মাধ্যমে জানব। কিভাবে একজন নতুন ব্যবসায়িক উদ্যোক্তা তার মেধা ও শ্রম দিয়ে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে সফলতা অর্জন করতে পারে। চলুন তাহলে নিজে সেগুলো সম্পর্কে জেনে নিন।

কোন ধরনের গার্মেন্টস ব্যবসা করবেন নির্ধারণ করুন

গার্মেন্টস ব্যবসার শুরু করার সেরা মাধ্যম হচ্ছে আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করবেন সেটা আপনাকে আগে নির্ধারণ করতে হবে। এজন্য আপনাকে চিন্তা করতে হবে এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। কারণ একটি পরিকল্পনা পারে আপনার ব্যবসাকে সফলতার দিকে নিয়ে যেতে। এজন্য আপনাকে নির্ধারণ করতে হবে আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করতে চান। চলুন নিচে সেগুলোর সম্পর্কে জানি।
  • মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা: আপনি চাইলে কম পুঁজিতে বা কম মেশিন নিয়ে বাড়িতে বসে মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে পারেন। কিন্তু তার আগে আপনাকে মিনি গার্মেন্টস সম্পর্কে জানতে হবে। এ ব্যবসার ধরন হচ্ছে আপনি নিজে বা অন্যদের ডিজাইন অনুযায়ী পোশাক তৈরি করে দিবেন। এর জন্য নিজেই কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং এবং ছোট একটি ইউনিট চালান এর মত কাজ। মিনি গার্মেন্টস ব্যবসা করতে বাড়ি বা বাড়ির পাশের দোকান দিয়ে করা যায়।
  • রিটেল ব্যবসা: রিটেল ব্যবসা হচ্ছে আপনি সরাসরি আপনার প্রোডাক্টটা কাস্টমারের কাছে বিক্রি করছেন। এক কথায় বলা হয় সরাসরি গ্রাহকের কাছে পণ্য বিক্রি করা। আমরা প্রায় দেখে থাকি একটা মুদি দোকান আছে যেখানে মানুষ তাদের দৈনিন্দন বাজার করছে। আবার কসমেটিক দোকানে গিয়ে মেয়েরা কসমেটিক কিনছে। বলতে পারেন রিটেল ব্যবসা হল খুচরা বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকের হাতে পণ্য পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা।
  • অনলাইন ব্যবসা: বর্তমানে অনলাইন ব্যবসার চাহিদা অনেক জনপ্রিয়। কারণ বর্তমানে মানুষ অনলাইন ব্যবসার প্রতি বেশি আকৃষ্টিত হচ্ছে। ব্যবসাকে বড় করার জন্য আপনি অনলাইন পোশাক বিক্রি করতে পারেন। বর্তমানে অনলাইন ব্যবসা হচ্ছে একটি জনপ্রিয় ব্যবসা। 
  • ওয়ান টু ওয়ান মার্কেটিং: অল্প কিছু পণ্য কিনে নির্দিষ্ট কিছু ক্লাইন্ট এর কাছে সরাসরি বিক্রি করা আর এটা হচ্ছে ওয়ান টু ওয়ান মার্কেটিং। এর মাধ্যমে আপনি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

বাজার ও কাস্টমারের চাহিদা বিশ্লেষণ করুন

গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই আপনাকে বাজার ও কাস্টমারের চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। আপনি যদি ধারণায় না পান তাহলে কিভাবে ব্যবসা করবেন। তাই প্রথমে আপনাকে বাজার বিশ্লেষণ করতে হবে এবং কাস্টমার কি ধরনের পোশাক পছন্দ করে সেটা আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে। বাজার ও কাস্টমারের চাহিদা বিশ্লেষণ করার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম ফলো করতে হবে।
  • বাজার চিহ্নিতকর: গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে বাজার চিহ্নিতকরণ। আপনাকে এটা দেখতে হবে আপনার ব্যবসার জন্য সঠিক গ্রাহক কারা এটা চিহ্নিত করা অত্যন্ত জরুরী। এর মধ্যে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে যেমন বয়স, লিঙ্গ, আয়, পেশা, শিক্ষা এবং অবস্থান সম্পর্কে। আর সে সাথে কাস্টমারের আগ্রহ, জীবনধারা মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিত্ব। তারা কোন ধরনের পোশাক কেনার অভ্যাস, পছন্দের ব্যান্ড এবং ফ্যাশন প্রতি কেমন আগ্রহ রয়েছে তা ভালোভাবে জানতে হবে।
  • গ্রাহকের চাহিদা বোঝা: বর্তমানে গ্রাহকরা কি ধরনের পোশাক খুঁজছে তার ওপর নজর রাখতে হবে। শুধুমাত্র ভালো পণ্য থাকলেই বিক্রি হবে না আপনাকে গ্রাহকের চাহিদা ও পূরণ করতে হবে। এবং ভালো মানসম্পন্ন পণ্য বিক্রি করতে হবে। ব্যবসা সফলতার আরেকটি মাধ্যম হচ্ছে ব্র্যান্ড। কাস্টমাররা কোন ধরনের ব্যান্ডের প্রতি আগ্রহ তা আপনাকে বুঝতে হবে এবং আপনার ব্যবসায় সেটা যোগ করতে হবে।
  • বাজার ও গ্রাহকের চাহিদা পূরণের কৌশল: আপনাকে বাজারে সাথে সাথে গ্রাহকের চাহিদা পূরণের কৌশল জানতে হবে। কাস্টমারের লক্ষ্য নির্দেশন করে পণ্যের ডিজাইন, আকার এবং স্টাইল নির্বাচন করতে হবে। কাস্টমারের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্যের সেবা দিয়ে উন্নত করতে হবে।

ব্যবসার জন্য বাজেট পরিকল্পনা করুন

ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড এবং বাজেট সম্পর্কে আপনাকে ভাবতে হবে। ব্যবসার জন্য আপনাকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণে বাজেট নির্ধারণ করতে হবে। যেমন ২০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লক্ষ উপরেও যেতে পারেন। কারণ দুনিয়াতে টাকা ছাড়া কোন কিছু সম্ভব না। আগে আপনার কাছে টাকা থাকতে হবে পরে আপনাকে চিন্তা করতে হবে। তাই ব্যবসা শুরু করার আগে বাজেট নির্ধারণ করুন। 
গার্মেন্টস-ব্যবসা-শুরু-করার-গাইড-লাইন
ব্যবসার জন্য আপনার কি কি কাজে টাকা ব্যয় করতে হবে তা একটি তালিকা তৈরি করুন। প্রথমে ব্যবসার জন্য একটি ভালো নাম ঠিক করে নিবন্ধন করতে হবে। তার জন্য আপনার একটা খরচ আছে। আবার ব্যবসার জন্য একটি উপযুক্ত অফিস বা কারখানা নির্বাচন এবং তা স্থাপনের জন্য খরচ নির্ধারণ করতে হবে। আপনাকে এটাও চিন্তা করতে হবে আপনি নিজে কাজ করবেন না মানুষকে দিয়ে কাজ করাবেন। নিজে কাজ করলে খরচটা একটু কম পড়বে। যেমন সেলাই মেশিন, কাটিং মেশিন এবং অন্যান্য প্রয়োজনে মেশিন কেনার জন্য একটা বাজেট দরকার। এর সাথে অন্যান্য সরঞ্জাম লাগবে হ্যাঙ্গার, ইস্ত্রি এবং প্যাকেজিং সামগ্রী ইত্যাদি কেনার জন্য টাকা লাগবে। এজন্য আপনাকে সব বাজেট ধরে একটা অ্যামাউন্ট ঠিক করতে হবে ব্যবসা শুরু করার জন্য।

ট্রেড লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করুন

ব্যবসা শুরু করতে হলে অবশ্যই আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স এর প্রয়োজন। ট্রেড লাইসেন্স করতে হলে আপনাকে কিছু নিয়ম নীতি মানতে হবে। এজন্য আপনাকে আরো অন্যান্য কাগজপত্র তৈরি করতে হবে। কারণ এ লাইসেন্স থাকলে আপনি বৈধ ভাবে ব্যবস্থা করতে পারবেন। এতে আপনার কোন সমস্যা হবে না। ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনার ট্রেড লাইসেন্স থাকা জরুরী। শুধুমাত্র গার্মেন্টস ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স লাগবে এরকম না আপনি যেকোন ব্যবসা করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স লাগবে। যেকোনো ব্যবসার মতো গার্মেন্টস ব্যবসার ক্ষেত্রে আইনগত কাগজপত্র তৈরি জরুরী। ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করার জন্য যেসব কাগজপত্র লাগবে তা হল।
  • গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার জন্য আপনার স্থানীয় সিটি কর্পোরেশন এবং পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।
  • ব্যবসার জন্য নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে।
  • ব্যবসার মুখ্য মালিকের পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
  • নিজের দোকান বা কারখানা ভাড়া করা হয় তাহলে ভাড়া চুক্তিপত্রের ফটোকপি।
  • হোল্ডিং ট্যাক্স ও ইউটিলিটি বিলের কপি
  • ফ্যাক্টরি বা শিল্প কারখানা হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।
  • যদি ব্যবসাটি পার্টনারশিপ হয় তবে ২০০০ টাকার জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অংশীদারির চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে।
  • ব্যবসার জন্য ভ্যাট নিবন্ধন সম্পন করতে হবে।
  • নির্ধারিত ফ্রি পরিশোধের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে।
  • আবেদনকারী ও অংশীদারের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি।
  • টিআইএন সার্টিফিকেট, ব্যবসায়িক ব্যাংক একাউন্ট এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন।

পণ্য নেওয়ার জন্য সঠিক উৎস খুঁজুন

গার্মেন্টস ব্যবসা করার আগে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হচ্ছে সঠিক পণ্য উৎস খুজা। কারণ ব্যবসা করতে হলে তো অবশ্যই লাভের হিসাব করতে হবে। এজন্য আপনাকে যেখান থেকে পণ্য নেবেন সেটা যেন বিশ্বাসযোগ্য এবং প্রোডাক্ট এর মান গত দিক যেন ভালো হয়। এ বিষয়টা কথা ভাবতে হবে। তার জন্য আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে পণ্য নেয়ার জন্য সঠিক উৎস। যেমন কোথায় থেকে আপনি মাল নিলে আপনার ব্যবসার জন্য লাভবান হবে।
একজন বিশ্বাসযোগ্য সাপ্লায়ার বা তাদের সাথে যোগাযোগের ব্যবসা যদি ভালো না থাকে তাহলে ব্যবসা করা সম্ভব না। গার্মেন্টস ব্যবসার জন্য কোন সংগ্রহের সঠিক উৎস হলো প্রাইকারী বাজার এর মত অনলাইন মার্কেটপ্লেস এবং যে কারখানাগুলো পণ্য তৈরি করে তাদের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করা। আপনি চাইলে ব্যবসাকে লাভবান করার জন্য এই তিনটি মাধ্যম থেকে পণ্য নিতে পারেন।
  • পাইকারি বাজার: আপনার এলাকার পাইকারি মার্কেট গুলো ঘুরে দেখুন যেখানে কম দামে ভালো মানের পণ্য পাওয়া যায় সেখান থেকে আপনি ব্যবসার জন্য পণ্য নিতে পারেন। যেমন টঙ্গী, বাবুরহাট, চকবাজার এমন নিউ মার্কেট এখান থেকে আপনি কম দামে পণ্য নিতে পারেন।
  • অনলাইন মার্কেটপ্লেস: টেক্সট বাজার এটি বাংলাদেশ একটি বিশ্বাসযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। যেখানে আপনি গার্মেন্টস পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারবেন। এটি সরাসরি যারা পোশাক তৈরি করে পাইকারি বিক্রেতা এবং খুচরা বিক্রেতার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। তবে বর্তমানে অনেক অনলাইন প্লাটফর্মে রয়েছে যেখানে পোশাকের বাজার তৈরি হয়েছে এবং নতুন উদ্যাত্তাও যুক্ত হয়েছে।
  • আন্তর্জাতিক মার্কেট: আপনি দেশি পণ্যের সাথে সাথে বিদেশি পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে পারবেন। বর্তমানে মানুষ চীন এবং ভারত আরো অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য নিয়ে এসে ব্যবসা করছে। বিশ্বের প্রধান টেক্সটাইল কেন্দ্রগুলোর দিকে নজর রাখুন। এই জায়গাগুলো থেকে ভালো মানের ও কম মূল্যের পণ্য সংগ্রহ করা সম্ভব।

দোকান বা অনলাইন শপ তৈরি করুন

গার্মেন্টস ব্যবসা করার জন্য আপনাকে একটা দোকান বা অনলাইন শপ তৈরি করতে হবে। কারণ একটা নির্দিষ্ট জায়গা ছাড়া ব্যবসা সম্ভব না। দোকান বা অনলাইন শপ যেটাই বলেন না কেন এটি ব্যবসার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য আপনাকে একটা নির্দিষ্ট স্থান নির্বাচন করতে হবে। এমন জায়গায় আপনাকে দোকানটা দিতে হবে যেখানে মানুষের আসা-যাওয়া থাকে। দোকানের লোকেশন, সাজসজ্জা, দোকানের নাম এবং ডিসপ্লে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনি যদি অনলাইনে পোশাক ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই আপনাকে কিছু উপায় ব্যবহার করতে হবে। এজন্য আপনাকে আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগাতে হবে। অনলাইনে ব্যবসা শুরু করলে ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম, ওয়েবসাইট বা অনলাইন মার্কেটপ্লেস ব্যবহার করতে হবে। এগুলোতে পণ্যের ছবির বিবরণ পোস্ট করতে হবে। ছবিগুলো এমনভাবে পোস্ট করবেন যাতে করে কাস্টমারের কাছে আকর্ষণীয় ও প্রফেশনাল মনে হয়। সেই সাথে পণ্যের ভিডিও আপলোড করবেন।

দক্ষ কর্মী ও ব্যবসার ব্যবস্থাপনা গঠন করুন

গার্মেন্টস ব্যবসা করতে হলে আপনাকে এমন একজন দক্ষ কর্মী নিতে হবে যা আপনার ব্যবসার জন্য সঠিক হয়। কারণ একজন দক্ষ কর্মী ভালো বিক্রয়, সুন্দর কাস্টমার সার্ভিস ও ব্যবসা পরিচালনায় সাহায্য করে। এজন্য আপনাকে বাজার ঘুরে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে ব্যবসার কাজে নিয়োগ দিতে হবে। ব্যবসার জন্য একটি সুসংগঠিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করতে হবে যেখানে আর্থিক পরিকল্পনা, স্টক ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক সেবার উপর জোর দিতে হবে।
গার্মেন্টস-ব্যবসা-শুরু-করার-গাইড-লাইন
পোশাক শিল্পে বর্তমানে কি ধরনের দক্ষতা প্রয়োজন তা বাজার গবেষণা করে আপনাকে বের করতে হবে। যে আপনার পোশাক বিক্রয়ের জন্য কেমন কর্মীর প্রয়োজন। দক্ষ কর্মী ও ব্যবসার ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করার জন্য দক্ষ অভিজ্ঞ কর্মীদের বিশেষ করে যারা টেক্সটাইল ও পোশাক শিল্পের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তাদের খুঁজে আপনাকে বের করতে হবে।

অনলাইন ও অফলাইন মার্কেটিং কৌশল শিখুন

গার্মেন্টস ব্যবসা করার জন্য অনলাইন ও অফলাইন মার্কেটিং কৌশল শিখতে হবে। কারণ যদি আপনি মার্কেটিং কৌশল না জানেন তাহলে কিভাবে কাস্টমারদের হ্যান্ডেল করবেন বা আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি করবেন কিভাবে। এজন্য ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই আপনাকে মার্কেটিং কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে। এজন্য আপনাকে প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে।
এখন ভাবছেন মার্কেটিং না করলে কি হবে। আসলে ভালো পণ্য থাকলে ব্যবসা হবে না যদি সে পণ্যটা সম্পর্কে মানুষ না জানে তাহলে কিভাবে কাস্টমার আসবে আপনার কাছে। তাই সঠিক মার্কেটিং এর দরকার ব্যবসার জন্য। ফেসবুকে এড রান করুন, ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করুন, অফার দিন এবং ভিডিও রিভিউ প্রকাশ করুন। আপনি যদি লোকাল দোকানের জন্য মার্কেটিং করতে চান তাহলে মাইকিং করে আপনার প্রোডাক্ট এর কথা মানুষকে জানাতে পারেন। অফলাইন মার্কেটিং যেমন ফ্লায়ার, পোস্টার, দোকানের সামনে ব্যানার এবং টেমপ্লেট বিতরণ। এগুলো করলে আপনার ব্যবসার জন্য অনেকটাই কার্যকর হবে।

শেষ কথা গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন

ব্যবসার শুরু করা সহজ কিন্তু টিকিয়ে রাখা অনেক কঠিন। তাই গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার গাইড লাইন আগে আপনাকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। এবং তার সাথে আপনাকে ধৈর্যশীল হতে হবে। কারণ সফলতায় একদিনে আসে না সফলতা নিতে হলে ধৈর্য, শ্রম এবং মেধা দিয়ে কাজ করতে হবে। প্রথমে আপনার ব্যবসা ক্ষতি হতে পারে কিন্তু আপনি যদি ধৈর্য সহকারে কাজ করে যান অবশ্যই একদিন সফলতা অর্জন করতে পারবেন।

এ আর্টিকেলে গার্মেন্টস ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন তার বিস্তারিত গাইডলাইন সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আপনি যদি গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করতে চান তাহলে প্রত্যেকটা ধাপগুলো অনুসরণ করুন এবং ধৈর্যের সাথে কাজ করুন। এ আর্টিকেল পড়ে আপনার যদি ভালো লাগে তাহলে কমেন্ট বক্সে জানান। আর এরকম তথ্য পেতে ওয়েবসাইটটি ভিজিট করুন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url