প্রস্রাবের ধরণ দেখে বুঝুন কিডনি কতটা সুস্থ? - জানুন বিস্তারিত

প্রস্রাবের ধরন দেখে বুঝতে পারবেন আপনার কিডনি কতটা সুস্থ? দিন দিন কিডনি ড্যামেজ হয়ে যাচ্ছে না তো? আপনার প্রতিদিনের কার্যকলাপের মধ্য থেকে কিভাবে বুঝবেন আপনার কিডনি সুস্থ আছে কিনা বা কোন সমস্যা হচ্ছে কিনা।
kidny-problem
চলুন আজকে আমি আপনাদেরকে সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়ে দেব - বর্তমান সময়ে কিডনি বিকল এবং কিডনির বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ইদানিং বেড়েই চলেছে। বর্তমান সময়ে দেখা যায় অধিকতর মানুষের কিডনির সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

প্রস্রাবের ধরন দেখে বুঝুন কিডনি কতটা সুস্থ - জানুন বিস্তারিত 

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিটি মানুষের ওজন অনুযায়ী তার প্রস্রাব নির্ধারিত থাকে। তাই আপনি যদি দেখেন আপনার স্বাভাবিক এর তুলনায় কম পরিমাণে সারাদিন এ প্রসাব হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই এটি একটি চিন্তার বিষয়। আবার অনেক সময় দেখা যায় প্রসাবে জ্বালাপোড়া সমস্যা তৈরি হয় হঠাৎ করে। এগুলো কিডনি ড্যামেজ হওয়ার লক্ষণ গুলোর মধ্যেও একটি হতে পারে। 

কিডনি আমাদের দেহের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটা অংশ বলা যায়। কারণ এই কিডনির মাধ্যমে আপনার দেহে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকারক ও দূষিত পদার্থ প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে। বর্তমান সময়ে অধিকাংশ মানুষের মধ্যে বেশিরভাগ যে সমস্যাটি দেখা যাচ্ছে সেটি হচ্ছে কিডনি নষ্ট হওয়া বা কিডনি অকেজো হয়ে পড়া। আপনি যদি সঠিক সময়ে কিডনির চিকিৎসা করতে না পারেন তাহলে আপনার মৃত্যু অনিবার্য।

প্রস্রাব কম হলে কি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন?

প্রস্রাবের পরিমাণ কম হচ্ছে বলেই যে সেটি আপনার কিডনি ড্যামেজের লক্ষণ এমনটি নয়। তবে হ্যাঁ, প্রতিদিন যদি একটু একটু করে আপনার প্রস্তাবের পরিমাণ কমতে থাকে তাহলে অবশ্যই এটি চিন্তার বিষয় আপনাকে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে আপনার কিডনির সুস্থ আছে। যদি অস্বাভাবিকভাবে প্রতিনিয়ত প্রস্রাবের পরিমাণ কমে আসে তাহলে কখনোই ঘরে বসে থাকবেন না।   

এবং যদি দেখেন প্রস্রাবের পরিমাণ কমে আসা সঙ্গে সঙ্গে আপনার প্রসাব জলা সমস্যা ও সৃষ্টি হচ্ছে। তাহলে তো একদমই ঘরে বসে থাকা উচিত নয় কারণ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে আসা কিডনি ড্যামেজের অন্যতম লক্ষণের একটি।  

কিডনি ড্যামেজ হওয়ার  লক্ষণ সমূহ 

কিডনি ড্যামেজ হওয়ার লক্ষণ গুলো সাধারণত প্রথম অবস্থায় প্রকাশ পায় না। কিন্তু  পরবর্তীতে ধীরে ধীরে এই লক্ষণগুলো প্রকাশিত হয়। চলুন জেনে আসি কোন লক্ষণ গুলো দেখে আপনারা বুঝবেন - 
  • কোন পরিশ্রম ছাড়াই শরীরের মধ্যে দুর্বল ভাব চলে আসা।
  • হঠাৎ করে খিদে ভাব কমে যাওয়া অথবা ওজন কমে যাওয়া।
  • শরীরে পানি জমে যাওয়া পা ফুলে ওঠা ইত্যাদি।
  • মূত্রের রং পরিবর্তন হয়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া করা।
  • প্রস্রাবের মধ্যে রক্ত বের হওয়া।
  • এগুলো মূলত কিছু বিশেষ লক্ষণ যার মাধ্যমে অবশ্যই আপনাদেরকে সতর্ক হতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ যত দ্রুত সম্ভব নিতে হবে।

কিডনি ডেমেজ হওয়ার প্রধান কারণ গুলো কি?

যেহেতু এখন কিডনি ড্যামেজ এর সমস্যাটি বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই আমাদের সকলের উচিত আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্য কে রক্ষা করা এবং দেহের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কিডনিকে বাঁচাতে হলে আমাদেরকে বেশ কিছু অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। চলুন তাহলে আমরা জেনে আসি ঠিক কি কারনে কিডনির ড্যামেজ হওয়ার মতো বড় সমস্যা হতে পারে -

সঠিকভাবে আমাদেরকে সঠিক নিয়ম অনুযায়ী খাওয়া দাওয়া করতে হবে। বেশি বেশি পানি পান করার চেষ্টা করবেন, ধূমপান মাদকদ্রব্য এগুলো থেকে একদমই দূরে থাকতে হবে। 
কিডনি ডেমেজ হওয়ার কারণঃ
  • উচ্চ রক্তচাপ থাকার কারণে কিডনি ডেমেজ হতে পারে।
  • ডায়াবেটিস থাকার কারণে যথা শরীরের রক্তে অতিরিক্ত শর্করা পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়া কারণে কিডনির ফিল্টারিং ইউনিকগুলো ক্ষতি হয়। এর জন্য কিডনি ড্যামেজ হতে পারে।
  • কিডনি সংক্রমণের কারণে কিডনির যে কার্যকারিতা আছে তা নষ্ট হতে পারে। 
  • জেনেটিক রোগ বা ব্যাধির কারণে কিডনি বিকল হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। 
  • রেনাল ভেইন থ্রম্বোসিস যা কিডনির প্রধান শিরায় রক্ত জমাট বাঁধার কারণে কিডনিতে রক্তের দেখা দিতে পারে এজন্য কিডনি ড্যামেজ হতে পারে ইত্যাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url