থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা-জানুন এখনই
শিশু কিংবা বড় সকলেরই বর্তমান সময়ে একটি হরমোন জনিত অন্যতম সমস্যার নাম হচ্ছে
থাইরয়েডের সমস্যা। থাইরয়েড গ্রন্থির মধ্যে হরমোনের অভাব কিংবা হরমোনের অধিক্য
এই দুটি সৃষ্টি করতে পারে শিশুর দেহের মারাত্মক রোগ, দেহের অন্যান্য
অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মতোই থাইরয়েড গ্রন্থি তো হতে পারে ক্যান্সার। যদিও এখনো সেই
রকম ভাবে থাইরয়েড গ্রন্থের ক্যান্সারের ব্যাপকতা নেই বললেই চলে।
বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা গবেষকদের মতে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লক্ষ শিশুর মধ্যে ১
জন শিশুর থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়ে। আপনাদের সামনে আমি এখন তুলে ধরব শিশুদের
থাইরয়েড ক্যানসার হয়েছে কিনা সেটি আপনারা কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন সেই সম্পর্কে
বিস্তারিতভাবে এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা সম্পর্কেও বিস্তারিত আলোচনা করব
চলো তাহলে আর্টিকেলটি শুরু করা যাক-
পোস্ট সূচিপত্রঃ থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ ও চিকিৎসা-জানুন এখনই
শিশুদের থাইরয়েড ক্যান্সারের লক্ষণ
থাইরয়েড ক্যান্সারের মূলত এখন পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট অথবা বিশেষ উপসর্গ দেখা যায়নি। অনেক সময় দেখা গিয়েছে দেহের অন্যান্য কোন সমস্যার কারণে যখন ল্যাবরেটরি কোন পরীক্ষা করা হয় তখন থাইরয়েড ক্যান্সারও ধরা পড়ে। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞরা থাইরয়েড ক্যান্সারের কিছু সম্ভাব্য লক্ষণ বের করেছে, সেগুলো হলো-
- ঘাড়ে ব্যাথা হীন কিছু ফোঁড়ার মতো গোটা ওঠা।
- গলার স্বর পাল্টে যাওয়া বা গলা বসে যাওয়া।
- ঢোক গিলতে কষ্ট হয়।
- শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়।
এই সকল লক্ষণ গুলো হচ্ছে শুকনো থাইরয়েড এর লক্ষণ হিসেবে পরিচিত এবং গলায়
থাইরয়েডের লক্ষণ হিসেবেও তাই এই লক্ষণগুলো যখন আপনারা আপনাদের দেহে দেখতে পাবেন
বা আপনাদের শিশুর মত দেখতে পাবেন। তখন অবশ্যই আপনারা জরুরিভাবে ডাক্তারের পরামর্শ
গ্রহণ করবেন।
থাইরয়েড ক্যান্সার কাদের বেশি হয়?
থাইরয়েড ক্যান্সার কাদের বেশি হয় এ সম্পর্কে অনেক মানুষই জানতে চাই আসলে
থাইরয়েড ক্যানসার যেকোনো বয়সের মানুষেরই হতে পারে তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতো
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের থাইরয়েড ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
১৪-১৮ বছর বয়সের কিশোর কিশোরীদের মধ্যে যারা ক্যান্সার আক্রান্ত হয় তাদের মধ্যে
বেশির ভাগে থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকে। বাংলাদেশের থাইরয়েড
ক্যান্সারে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। শিশুদের যে সকল
ধরনের ক্যান্সার হয়ে থাকে তার মধ্যে ১. ৫ শতাংশ থাকে থাইরয়েড
ক্যান্সার।
থাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়া লক্ষণ
থাইরয়েডে যখন অতিরিক্ত হরমোন বেড়ে যায়। তখন কিন্তু বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দেয় আর
এই সকল লক্ষণ গুলো যদি আপনাদের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। তাহলে আর সময় নষ্ট না করে
অবশ্যই আপনারা একটি ভালো চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন এবং সব থেকে ভালো হবে যদি আপনারা
একটি চেকআপ করিয়ে নেন। এতে করে আপনারা বুঝতে পারবেন যে থাইরয়েডে কোন ধরনের
সমস্যা হয়েছে কিনা। থাইরয়েডে হরমোন বেড়ে যায় লক্ষণ গুলো হচ্ছে-
- হঠাৎ করে ওজন কমতে শুরু করা।
- শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে ঘাম হওয়া বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে।
- হঠাৎ করে বুক ধরফর শুরু হওয়া।
- হজমের সমস্যার কারণে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা হতে পারে।
- মনের মধ্যে অস্থিরতা ভাব এবং ঠিকমতো ঘুম হয় না।
- চোখ ফুলে মনে হয় যে বেরিয়ে আসবে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি হওয়া।
এগুলো থাইরয়েড হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাব্য লক্ষণ। এই লক্ষণগুলোর মধ্যে যদি আপনার শরীরে এক বা একাধিক লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে দ্রুত একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা কি
থাইরয়েড ক্যান্সার ধরা পড়লেও অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। সময়মতো সঠিক পরীক্ষা, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা শুরু করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফলভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং অনেক রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- মূলত থাইরয়েড ক্যান্সার যদি ধরা পড়ে তাহলে সার্জারি করে ক্যান্সার আক্রান্ত জায়গাটি কেটে ফেলতে হয়। কিন্তু ক্যান্সার যদি শরীরে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের আলোকরশ্মি ব্যবহার করা অথবা আয়োডিনের মাধ্যমে এই ক্যান্সার কোর্সগুলোকে ধ্বংস করা হয়।
- থাইরয়েড গ্রন্থটি একেবারে নষ্ট হয়ে গেলে নিয়ম করে সারা জীবন বাইরে থেকে থাইরয়েড হরমোন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
সবথেকে ভালো বিষয় হচ্ছে যদি সময় মত সঠিক চিকিৎসা দেয়া হয় তাহলে শিশু কিংবা
যেকোনো বয়সের আক্রান্ত বৃদ্ধিরাই সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
অন্যান্য ক্যান্সার এর তুলনায় থাইরয়েড ক্যান্সার দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে না
এজন্য চিকিৎসা গ্রহণের জন্য অনেকটাই সময় পাওয়া যায় সুশীল চিকিৎসা গ্রহণ করলে
এই সকল রোগ থেকে সহজেই ফিরে আসা যায়।
থাইরয়েড থেকে বাঁচার উপায় ও সতর্কতা
আপনাদের মধ্যে অনেকেই জানতে চান, থাইরয়েডের জন্য কী কী খাবার উপকারী। আজকের আলোচনায় আমরা জানব কোন খাবারগুলো থাইরয়েডের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এবং সুস্থ থাকতে কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিত। থাইরয়েডের সমস্যা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নিয়মিত থাইরয়েডের জন্য উপকারী পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এবার চলুন, সেই খাবারগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
- সব সময় আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। আয়োডিন থাইরয়েড গ্রন্থিকে ভালো রাখে।
- জিংক সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। জিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে থাইরয়েড গ্রন্থিতে হরমোন তৈরিতে সহযোগিতা হয়
- প্রতিদিন খাবারে কি সমৃদ্ধ খাবার রাখবেন
- ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা বৃদ্ধি হয় তাই ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গুলো খাওয়ার চেষ্টা করবেন
- ম্যাগনেসিয়াম থাইরয়েডের হরমোন তরিকা সহযোগিতা করে, তাই ম্যাগনেসিয়াম জাতীয় খাবার, সবুজ শাকসবজি বাদাম ইত্যাদি।
এই খাবারগুলো নিয়মিত সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করলে থাইরয়েডের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েড-সম্পর্কিত সমস্যার ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও জরুরি। মনে রাখবেন, থাইরয়েডের কিছু রোগের জটিলতা বাড়তে পারে, তাই লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। নিজে সচেতন থাকুন এবং অন্যদেরও সচেতন হতে উৎসাহিত করুন।
থাইরয়েডের স্বাভাবিক মাত্রা কত-থাইরয়েড নরমাল কত
অনেকেই জানতে চান, থাইরয়েডের স্বাভাবিক মাত্রা কত বা থাইরয়েডের রিপোর্ট নরমাল বলতে কী বোঝায়। আজকের এই অংশে আমরা থাইরয়েডের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব, যাতে আপনারা বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারেন।
- সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে থাইরয়েডের TSH (Thyroid-Stimulating Hormone)-এর স্বাভাবিক মাত্রা ০.৪–৪.০ mIU/L ধরা হয়।
প্রথমটি হলো হাইপোথাইরয়েডিজম (Hypothyroidism) বা থাইরয়েড হরমোনের স্বল্পতা। যখন থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের তুলনায় কম পরিমাণে হরমোন তৈরি করে, তখন শরীরে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন অতিরিক্ত ক্লান্তি, ওজন বেড়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠান্ডা বেশি লাগা এবং কাজে অনীহা। এই অবস্থাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলা হয়।
দ্বিতীয়টি হলো হাইপারথাইরয়েডিজম (Hyperthyroidism) বা থাইরয়েড হরমোনের অধিক্য। যখন থাইরয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণে হরমোন তৈরি করে, তখন হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, হাত কাঁপা এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়।
থাইরয়েডের স্বাভাবিক মাত্রা সম্পর্কে জানতে হলে সাধারণত TSH (Thyroid-Stimulating Hormone) পরীক্ষার ফলাফল দেখা হয়। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে TSH-এর স্বাভাবিক মাত্রা ০.৪–৪.০ mIU/L ধরা হয়। তবে পরীক্ষাগারভেদে এই মানে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে। তাই রিপোর্টের সঠিক ব্যাখ্যার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আশা করি, এখন আপনারা থাইরয়েডের স্বাভাবিক মাত্রা, হাইপোথাইরয়েডিজম এবং হাইপারথাইরয়েডিজম সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।
লেখক এর শেষ কথা
আশা করি, এই আর্টিকেলটি পড়ে থাইরয়েড সম্পর্কে আপনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা হয়েছে এবং এটি আপনার জন্য উপকারী হয়েছে। যদি লেখাটি ভালো লেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করুন, যাতে তারাও উপকৃত হতে পারেন।
এছাড়াও স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, চাকরি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নির্ভরযোগ্য তথ্য পেতে নিয়মিত আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ আমাদের কমেন্টের মাধ্যমে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url