মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া উপায় - জেনে নিন
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়ার উপায় সম্পর্কে জানতে চান? বর্তমান সময়ে
এখন আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে অনলাইনে ঘরে বসে লোন পেতে পারেন। তাই আমরা এখন
এই সম্পর্কে আলোচনা করবো।
আমরা সবাই জানি লোন পাওয়ার জন্য কোন ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা বা এনজিও নিকটস্থ
শাখায় গিয়ে যোগাযোগ করতে হয়। বর্তমান সময়ে চাইলে আপনি অনলাইনে লোনের জন্য
মোবাইলের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। চলুল সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচলা
করি।
পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া উপায় - জেনে নিন
অনলাইন মোবাইল লোন কি?
অনলাইন মোবাইল লোন হচ্ছে এমন একটি লোন ব্যবস্থা যা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যে কোন
স্থান থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সহজে লোন সেবা গ্রহণ করা যায় তাকে অনলাইন
মোবাইল লোন বলে। এই অনলাইন মোবাইল লোন পরবর্তীতে পরিশোধ করার জন্য মোবাইলে
ব্যবহ্রত ব্যাংক একাউন্ট নম্বর বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসাব নম্বরের নির্ধারিত
সময়ের মধ্যে লোন পরিশোধ করতে হয়।
অনলাইন মোবাইল লোন পাওয়ার জন্য আপনাকে সাধারণত ব্যাংকে যাওয়া লাগে না। ঘরে বসে
কার্যক্রম সম্পূর্ণ করা যায়। এই লোনের জামিনের কোন প্রয়োজন নেই এর প্রক্রিয়া খুবই
সহজ। লোন পাওয়া জন্য ব্যক্তিগত কাগজপত্র খুব কম লাগে। লোনের জন্য পুরো প্রক্রিয়া
আপনি ঘরে বসে মোবাইল দিয়ে সম্পূর্ণ করতে পারবেন। এটি মূলত একটি Instant Digital
Micro Loan ব্যবস্থা, যা অর্থের চাহিদা মেটাতে দ্রুত কাজ করে।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া উপায়
আপনি যদি মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া উপায় সম্পর্কে জানতে খুবই আগ্রহী
হয়ে থাকেন? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য। বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার
অনেকগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সবাই এখন যোগাযোগ ও বিভিন্ন কাজের জন্য মোবাইল ব্যবহার
করছে। এই মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন নেওয়া জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আপনাদের সুবিধার্থে বিভিন্ন ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলো তাৎক্ষণিক লোনের
ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আপনি কোন ব্যাংকের শাখায় না গিয়ে এবং আপনার কাগজপত্র
প্রিন্ট কপি জমা না দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পেয়ে যেতে পারেন। বাংলাদেশের
বিভিন্ন ফিনান্সিয়াল কোম্পানি ও ব্যাংকগুলো আপনাদের কথা চিন্তা করে মোবাইল দিয়ে
ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে।
আমরা অনেকেই এই বিষয়ে জানি না যে মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে লোন পাওয়া যায়। যে সকল
ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল কোম্পানিগুলো অনলাইনে লোন দিয়ে থাকে তা হলো:
- মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন বিকাশ
- মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন ব্যাংক এশিয়া
- মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন ডাচ-বাংলা
- মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন ব্র্যাক ব্যাংক
- মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন ঢাকা ব্যাংক
এছাড়া আরো অনেক ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল কোম্পানি আছে যেমন - Nagad, Bkash, City
Bank App, Upay Loan ইত্যাদি। উপরের উল্লেখিত ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল কোম্পানি
থেকে আপনি অনলাইনে লোন নিতে পারবেন। লোন নেওয়া আগে এসব ব্যাংক বা ফিনান্সিয়াল
কোম্পানি তাদের হেল্প নাম্বারে কল দিয়ে বিস্তারিত জেনে নিতে পারেন।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে বিকাশে লোন
বাংলাদেশে বর্তমান সময়ে যতগুলো মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে সবার
উপরে বিকাশ লিমিটেড কোম্পানি অবস্থান করছে। একটা বিষয় খেয়াল করে দেখুন আপনার
পরিবারের লোকজন বা বাড়ির আশেপাশে প্রায় সকলের কম বেশি একটি করে বিকাশ একাউন্ট
রয়েছে। বিকাশ একাউন্ট সম্পর্কে মোটামুটি সবার ধারণা রয়েছে।
তাই আপনি যদি একজন বিকাশ গ্রাহক হয়ে থাকেন? তাহলে মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইন লোন
পেতে পারেন। তার জন্য আপনাকে কোন ঝামেলার সম্মুখীন হতে হবে না। আপনার ব্যক্তিগত
কোন কাগজপত্রের ডকুমেন্ট বা কর্মকর্তার সাথে অথবা তাদের অফিসে যোগাযোগ করতে হবে
না। শুধু কিছু নিয়মনীতি জানলে আপনি খুব সহজে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পেতে পারেন। সে
সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই-
- প্রথমে বিকাশ অ্যাপ ইনস্টল করুন - প্রথমে আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। আপনার মোবাইলে Google Play Store বা Apple App Store থেকে ইনস্টল করে নিবেন।
- লগ ইন করুন বা নতুন একাউন্ট খুলুন - আপনার যদি একাউন্ট খোলা থাকে তাহলে লগ ইন করুন। যদি একাউন্ট খোলা না থেকে তাহলে আপনার প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে একাউন্ট খুলে নিতে পারেন। আপনি অ্যাপ ছাড়া বা অ্যাপ দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারেন।
- বিকাশে লোন অফার চেক করুন - আপনার বিকাশ অ্যাপে লোন অফার দেখতে পারবেন। বিকাশে যদি লেনদেন ভালো হয়ে থাকে তাহলে আপনার জন্য একটি লোন অফার থাকবে।
- ক্লিক করুন লোন আবেদনে - আপনি বিকাশ অ্যাপে "লোন" (Loan) সেকশনে গিয়ে আপনার লোন অফারে ক্লিক করুন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সাবমিট করুন।
- লোনের পরিমাণ এবং সময়কাল নির্বাচন করুন - বিকাশ থেকে কত টাকা লোন চান? এবং কত সময়ের চান, তা আপনাকে নির্বাচন করতে হবে। বিকাশ অ্যাপে লোনের বিভিন্ন অপশন দেওয়া থাকে।
- আবেদন অ্যাপ্রুভাল এবং একাউন্টে টাকা জমা - আপনার লোনের আবেদন যাচাই করার পরে, যদি আপনি লোনের যোগ্য হয়ে থাকেন, তবে লোন অনুমোদন করা হবে এবং লোনের টাকা আপনার একাউন্ট দ্রুত জমা হবে।
- লোনের বিবরণ - লোনের পরিমান ৫০০-২০,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়। লোনের মেয়াদ ৩-৬ মাস, সুদের হার বাৎসরিক ৯%, লোন পরিশোধের বিলম্ব ফি বাৎসরিক ২%, লোন প্রসেসিং ফি ০.৫৭৫% (০.৫% + ভ্যাট), লোন পরিশোধের ধরন মাসিক।
- লোনের টাকা পরিশোধ - লোন পাওয়ার পরে আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। বিকাশ অ্যাপ থেকে আপনাকে নিয়মিত টাকা পরিশোধের জন্য অবহিত করবে।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইলে ব্যাংক এশিয়া লোন
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোনের জন্য এখন ব্যাংক এশিয়া আবেদন করতে পারবেন। ব্যাংক
এশিয়ায় যদি আপনার একাউন্ট থাকে ব্যাংক এশিয়ার স্মার্ট মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার
করে ৬ মাস মেয়াদী ন্যানো লোনের জন্য আবেদন করে যাবে। এই লোনের পরিমাণ হতে
পারে ৫০০-৫,০০০ টাকা পর্যন্ত। আপনার লোনের আবেদন গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই
আপনার ফাইনান্সিয়াল স্টেটমেন্ট পাশাপাশি মেটা ডাটা পর্যালোচনা করা হবে।
ব্যাংকে আপনার লেনদেনের উপর অর্থাৎ ক্রেডিট স্কোরিং এর আপনার লোনের পরিমাণ
নির্ভর করবে। এই লোনের সকল কার্যক্রম আপনি মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনের
মাধ্যমে সম্পন্ন করতে পারবেন। ব্যাংক এশিয়া অ্যাপে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
লোনের আবেদন করা যাবে।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে ডাচ-বাংলা ব্যাংকে লোন
বাংলাদেশে বেসরকারি যতগুলো ব্যাংক রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডাচ-বাংলা।
ডাচ-বাংলা ব্যাংক মোটামুটি সবাই ব্যবহার করে থাকে। বিশেষ করে প্রাইভেট
কোম্পানিতে যারা চাকুরি করে তাদের প্রায় সবার ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট রয়েছে।
কারণ কোম্পানির বেতন প্রায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া হয়।
তাই আপনার যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট থাকে নিয়মিত লেনদেন করে থাকেন তাহলে
আপনি লোন পেতে পারেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহকের সংখ্যা অনেক বেশি। ডাচ-বাংলা
ব্যাংক হচ্ছে একটি অনলাইন ব্যাংক। এর লেনদেন সবকিছু অনলাইনের মাধ্যমে হয়। আপনি
যদি ডাচ-বাংলা ব্যাংকের গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে খুব সহজে মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে
অনলাইনে লোন সংগ্রহ করতে পারবেন। তাই এখন আমরা জানবো কিভাবে মোবাইল দিয়ে ঘরে
বসে অনলাইনে লোন নেওয়া যায় সে সম্পর্কে বিস্তারিত-
- মোবাইলে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের অ্যাপ ডাউনলোড করুন - সর্ব প্রথম আপনার মোবাইলে ডাচ- বাংলা ব্যাংক অ্যাপ ডাউনলোড করুন। এটি আপনার মোবাইলে Google Play Store বা Apple App Store এ পাওয়া যাবে।
- লগ ইন করুন বা একাউন্ট খুলুন - আপনার যদি একাউন্ট খোলা থাকে তাহলে লগ ইন করুন আর যদি একাউন্ট খোলা না থাকে তাহলে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট দিয়ে খুব সহজে একাউন্ট খুলতে পারেন। ডাচ-বাংলা ব্যাংকে একাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া খুব সহজ, যে কেউ একাউন্ট খুলতে পারে।
- লোনে জন্য আপনি আবেদন করুন - অ্যাপে প্রবেশ করার পর "লোন" (Loan) সেশকনে গিয়ে লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন। সেখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের লোনের অফার দেখতে পাবেন (যেমন, ব্যক্তিগত লোন, ব্যবসায়িক লোন ইত্যাদি)। আপনার কোন ধরনের লোন দরকার তা নির্বাচন করুন।
- লোনের আবেদন ফর্ম পূরণ করুন - লোনের আবেদন ফর্ম পূরণ করার সময় আপনার নাম, স্থায়ী ঠিকানা, আয়ের পরিমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। কিছু কিছু লোনের ক্ষেত্রে আপনার আয়ের প্রমাণ এবং অন্যান্য কিছু নথিপত্র প্রয়োজন হতে পারে। যেমন - ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্লিপ ইত্যাদি।
- লোনের পরিমাণ এবং পরিশোধের সময় নির্বাচন করুন - আপনি কত টাকা লোন নিতে চান এবং কতদিনের মধ্যে তা পরিশোধ করতে চাই, তা নির্বাচন করুন। ডাচ-বাংলা ব্যাংক আপনাকে লোনের জন্য সুদের হার পাশাপাশি অন্যান্য শর্তাবলী সম্পর্কে সকল তথ্য প্রদান করবে।
- আবেদন অ্যাপ্রুভাল এবং একাউন্টে টাকা জমা - আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আপনার আবেদন যাচাই-বাচাই করবে। আপনি যদি লোনের জন্য যোগ্য হন, তাহলে আপনার লোন অনুমোদন হবে। এরপরে লোনের টাকা আপনার একাউন্টে জমা করে দিবে।
- লোনের টাকা পরিশোধ - লোন পাওয়ার পর আপনাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লোন পরিশোধ করতে হবে। লোন পরিশোধের জন্য এবং অন্যান্য বিষয়ে সবকিছু অ্যাপের মাধ্যমে জানিয়ে দিবে।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে ব্র্যাক ব্যাংকে লোন
বর্তমান সময়ে আপনি এখন মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোনের জন্য আবেদন
করতে পারবেন ব্র্যাক ব্যাংকে। ব্র্যাক ব্যাংক এখন অনলাইনে লোন প্রদান করে
থাকে। ব্র্যাক ব্যাংকে যদি আপনার একটা একাউন্ট থাকে তাহলে ব্যাংকে যাওয়া
দরকার নেই। আপনি মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পেতে পারেন।
অনলাইনে লোনের জন্য বর্তমানে অনেক নতুন গ্রাহক ব্র্যাক ব্যাংক এর
"সুবিধা" অ্যাপ ব্যবহার করে। লোনের সকল কার্যক্রম আবেদন থেকে শুরু করে
বিতরণের সকল প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়। দেশের যেকোন প্রান্ত
থেকে এই ডিজিটাল লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ব্র্যাক ব্যাংক ৩-১৮ মাস
মেয়াদে এর লোন প্রদান করে থাকে। এই লোনের জন্য বার্ষিক সুদের হার দাঁড়াবে
৯%। ব্র্যাক ব্যাংকে আপনার লেনদেন এবং অন্যান্য কার্যক্রমের উপর
ভিত্তি করে ব্র্যাক ব্যাংক "সুবিধা" অ্যাপে ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত লোন
পাওয়া যায়।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে ঢাকা ব্যাংকে লোন
বাংলাদেশে বেসরকারী ব্যাংকগুলো মধ্যে ঢাকা ব্যাংক হচ্ছে বৃহৎ এবং গুনগত দিক
দিয়ে মান সম্পন্ন একটি ব্যাংক। ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড ব্যাংক গ্রাহকদের
সর্বোচ্চ কাস্টমার সাপোর্টের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। তাই আপনি এখান থেকে কম
পরিমাণ সুদে বিভিন্ন অনলাইন লোন সুবিধা পাবেন। আপনি যদি ঢাকা ব্যাংকের একজন
নিয়মিত গ্রাহক হয়ে থাকেন তাহলে আপনি খুব সহজে মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে
লোন নিতে পারবেন। তাহলে চলুন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করি-
- ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রেজিস্টার করুন - আপনাকে প্রথমে ঢাকা ব্যাংকের ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে রেজিস্টার করতে হবে। এই কাজটি আপনি ঢাকা ব্যাংক eRin অ্যাপ বা ব্যাংকের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট থেকে এটি করতে পারবেন।
- একাউন্ট খুলন বা লগ ইন করুন - আপনার যদি একাউন্ট খোলা থাকে তাহলে লগ ইন করুন। যদি আপনার একাউন্ট খোলা না থেকে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা অন্যান্য ডকুমেন্ট দিয়ে একাউন্ট খুলতে পারেন।
- লোনের জন্য আবেদন করুন - ঢাকা ব্যাংকে যদি আপনার একাউন্ট একটিভ থাকে, তাহলে অনলাইন লোন আবেদন সেকশনে গিয়ে আবেদন করতে পারবেন। আপনি অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে গিয়ে "লোন" (Loan) সেকশন নির্বাচন করুন এবং আপনি যে ধরণের লোন চান (যেমন, ব্যক্তিগত লোন, গাড়ি লোন, হোম লোন ইত্যাদি) তা নির্বাচন করুন।
- লোনের আবেদন ফর্ম পূরণ করুন - লোনের জন্য আপনার আয়ের উৎস, আর্থিক তথ্য, যোগাযোগের ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে পূরণ করতে হবে। লোনের জন্য আপনার আয়ের প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং অন্যান্য নথিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিন - লোনের জন্য আপনার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (যেমন, জাতীয় পরিচয়পত্র, আয়ের প্রমাণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্লিপ ইত্যাদি) আপলোড করতে হবে।
- শর্ত নির্বাচন এবং লোনের পরিমাণ নির্বাচন করুন - আপনি কত টাকা লোন নিতে চান এবং কিভাবে লোন পরিশোধ করবেন, তা নির্বাচন করুন। এই সময় আপনি লোনের সময়সীমা এবং সুদের হার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে পারবেন।
- আবেদন অ্যাপ্রুভাল এবং একাউন্টে টাকা জমা - আপনার আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পর, ব্যাংক আপনার আবেদন যাচাই-বাচাই করবে। আপনার সকল তথ্য যদি সঠিক থাকে তাহলে আপনার একাউন্টে টাকা হয়ে যাবে।
- লোনের বিবরণ - লোনের পরিমাণ ১,০০০-৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত, লোনের মেয়াদ ৩-৬ মাস, সুদের হার ৯%, লোন পরিশোধের বিলম্ব ফি ২%, লোন প্রসেসিং ফি ০.৫০% ( +১৫%) ভ্যাট, লোন পরিশোধের ধরন - মাসিক।
- লোনের শর্তাবলী এবং সময়মত পরিশোধ করুন - লোন পাওয়ার পর আপনাকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তা পরিশোধ করতে হবে। এবং আপনার পেমেন্টের সকল তথ্য মেসেজে দেখতে পাবেন।
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ
আমরা অনেকেই জানি না যে বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর ডিজিটাল ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা থেকে আপনি সর্বনিম্ন
৫০০-৫০,০০০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোন পেতে পারেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব
১০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে এই ঋণ প্রদান হবে। এই লোনের মেয়াদ ৬ মাস মেয়াদী
হয়ে থাকে।
বাংলাদেশ ব্যাংক এর এই লোন পাওয়া যাবে ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে। এই
ক্ষুদ্রঋণ মূলত বিকাশ, নগদ ইত্যাদি সেবার মাধ্যমে প্রদান করে হবে। দেশের
তফসিল ব্যাংকগুলো এই ঋণ বিতরণ করবে। মূলত যেসব ব্যাংক বা এমএফএস বাংলাদেশ
ব্যাংক এই লোন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করবে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর অনলাইন পোর্টাল
বা অ্যাপ ব্যবহার করে লোন পাওয়া যাবে।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া সুবিধা
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া উপায় সম্পর্কে জানতে পেরেছি, এখন সুবিধা
সম্পর্কে আলোচনা করবো। সাধারণত কোন কাজ করার উদ্দেশ্য আমরা লোনের জন্য আবেদন
করে থাকি। তাই সঠিক সময়ের মধ্যে যদি লোন পেয়ে থাকি তাহলে আমাদের অনেক
উপকার হবে।
অন্য দিকে লোনের জন্য যদি ব্যাংকে গিয়ে কাগজপত্র নিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাঘুরি
করা লাগে তাহলে আমাদের অনেক সমস্যা মধ্যে পড়তে হয়। তাই আমরা এখন অনলাইনে লোন
পাওয়া সুবিধা সম্পর্কে আলোচনা করবো।
- দ্রুত সময়ে মধ্যে আবেদন - আপনার হাতে থাকা মোবাইল দিয়ে খুব সহজে লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সাবমিট করতে পারা যায়।
- লোনের জন্য শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই - লোনের জন্য আপনাকে কোন শাখায় যাওয়া লাগে না। আপনি ঘরে বসে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষ করতে পারেন।
- সুদের হার অনেক কম - অনলাইনে সুদের হার কিছু টা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, যা আপনার জন্য বেশ সুবিধাজনক।
- দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন - অনলাইনে লোনের আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদিত হয়। লোনের টাকা আপনার একাউন্টে দ্রুত জমা হয়।
- কাগজ পত্রে প্রয়োজনীয়তা অনেক কম - অনলাইনে লোনের জন্য সাধারণত কাগজপত্রে প্রয়োজন কম লাগে। যা আপনার জন্য অনেক সহজ হয় পাশাপাশি সময় বাঁচে।
- লোনের বিভিন্ন অপশন থাকে - অনলাইনে লোনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মগুলি বিভিন্ন ধরনের লোনের অফার করে। তাই আপনি প্রয়োজন অনুযায়ী লোনের অপশন নির্বাচন করতে পারেন।
- 24/7 সাপোর্ট - অনলাইনে লোনের আবেদন করার সবচেয়ে সুবিধা হচ্ছে এখানে কোন নির্দিষ্ট সময় নেই, তাই আপনি যেকোন সময়ে লোনের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মোবাইল দিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে লোন পাওয়া উপায় সম্পর্কে কিছু FAQ প্রশ্নউত্তর।
প্রশ্ন ১। মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোনের জন্য বাংলাদেশে কত সময় লাগে?
উত্তর: মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোনের জন্য অধিকাংশ অ্যাপে ২৪-৭২ ঘন্টার
মধ্যে অনুমোদিত হয়।
প্রশ্ন ২। বাংলাদেশে অনলাইন (MFS) ফিচার যুক্ত লোন সেবা অ্যাপগুলোর নাম
কি?
উত্তর: Bkash, Nagad, Citytouch, HiCash, BRAC Bank Astha, Brac Agami,
Dhaka Credit, BoBaCash.
প্রশ্ন ৩। অনলাইনে লোনের সুদের হার কত?
উত্তর: অনলাইনে লোনের সুদের হার অ্যাপভেদে ১০-২৫% বার্ষিক, তবে
ইনস্ট্যান্ট লোনে মাসিক ২-৪% হতে পারে।
প্রশ্ন ৪। অনলাইনে কোন জামানত ছাড়া কি লোন পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বেশিরভাগ মোবাইলে অনলাইনে লোন জামানত ছাড়াই পাওয়া
যায়।
প্রশ্ন ৫। সময়মত লোন পরিশোধ না করলে কি হতে পারে?
উত্তর: সময়মত লোন পরিশোধ না করলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় এর
পাশাপাশি আপনার ক্রেডিট স্কোরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রশ্ন ৬। অনলাইন লোন কি নিরাপদ?
উত্তর: শুধুমাত্র পরিচিত এবং রেজিস্টার্ড অ্যাপ ব্যবহার করে লোন নিলে এটি
নিরাপদ। এছাড়া অচেনা লোভনীয় অ্যাপ ব্যবহার করলে এটি ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রশ্ন ৭। অনলাইনে লোন নেওয়ার জন্য কি কি ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়?
উত্তর: অনলাইনে লোনের জন্য কিছু ডকুমেন্টের প্রয়োজন হয় যেমন-
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- মোবাইল নম্বর (নিজের নামের রেজিস্টার্ড)
- মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক একাউন্ট
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে আয়ের তথ্য ইত্যাদি।
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন সম্পর্কে আমার মন্তব্য
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে লোন হচ্ছে এটি দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্যকরী সমাধান।
মোবাইল দিয়ে লোন নেওয়ার আগে সঠিক অ্যাপ নির্বাচন, লোনের শর্তাবলী
ভালোভাবে বোঝা এবং লোন পরিশোধের ব্যবস্থা তৈরি করা। আমার মতে খুবই
প্রয়োজন ছাড়া লোনের মধ্যে প্রবেশ না করায় সবচেয়ে ভালো হবে। তাই লোন
নেওয়ার আগে ভালোভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বুদ্ধিমানে কাজ। না হলে
অযথায় বিপদে পড়তে হতে পারে।



রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url