ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার সঠিক গাইড লাইন

ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার কথা ভাবছেন? ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি খুবই চিন্তিত? আসলে কি ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার যায়। এখন আমরা এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

ভিডিও-এডিটিং-কাজ-করে-ক্যারিয়ার-শুরু-করার-সঠিক-গাইড-লাইন

ভিডিও এডিটিং আসলে একটি আনন্দের পেশা। ভিডিও এডিটিং কাজে আপনি যদি দক্ষ হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার মনের মত ক্রিয়েটিভ কাজ করে খুব সহজে অর্থ উপার্জন করে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। তাই আপনার ক্রিয়েটিভ বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে সৃজনশীল ক্যারিয়ার শুরু করুন আজই! 

পেজ সূচিপত্রঃ ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার সঠিক গাইড লাইন 

ভিডিও এডিটিং কি? 

কোন ভিডিও ফুটেজ আপনার পছন্দমতো এডিট করে সবাই সামনে একটি গল্প আকারে ফুটিয়ে তোলাকে ভিডিও এডিটিং বলে। ভিডিও এডিটিংয়ের মাধ্যমে যেকোন বিষয়ের মূল বিষয় বস্তু বুঝতে পারা যায়। কোন বিষয়ের স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ভিডিও এডিটিং।  

আমরা যখন ভিডিও মাধ্যমে কোন দৃশ্য ধারণ করি তখন প্রথম অবস্থায় এলোমেলো বা অগোছালো থাকে। একজন এডিটরের কাজ হচ্ছে সেই ফুটেজ গুলোকে এক সাথে মিল করে তাতে বিভিন্ন কালার কারেকশন করে সুন্দরভাবে আউটপুট তৈরি করা। শেষ কথা হলো কোন ভিডিও এডিটর সফটওয়্যারের মাধ্যমে মোবাইল বা ক্যামেরা দ্বারা ধারণকৃত ভিডিও পরিমার্জিত করে দর্শকদের দেখার ব্যবস্থা করার পদ্ধতিকে ভিডিও এডিটিং বলে। 

ভিডিও এডিটিং আসলে কি একটি পেশা?  

আধুনিক ডিজিটাল যুগে ভিডিও যোগাযোগের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে উঠছে। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। যার ফলে ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটক কিংবা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন আমরা অসংখ্য ভিডিও দেখতে পাই। একবারও কি ভেবে দেখেছেন এই ভিডিও গুলো পিছনে ভিডিও এডিটিংয়ের হাত রয়েছে। 

তাই ভিডিও এডিটিং আসলে একটি পেশা। এই পেশাকে কাজে লাগিয়ে জীবনে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। দিন দিন ভিডিও এডিটিং কাজের চাহিদা বেড়েই চলেছে। এটি একটি লাভজনক ও জনপ্রিয় পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছে অনেকই। অতীতে ভিডিও এডিটিংকে সবাই শখ হিসাবে ব্যবহার করতো। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়া এটি একটি স্বীকৃত পেশা হিসাবে পরিচিত। বর্তমানে বিভিন্ন চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ইউটিউব ভিডিও এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য ভিডিও এডিটিং অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। 


বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানিতে বা ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিতে ভিডিও এডিটিং ফুল-টাইম কাজ করে এডিটর হিসাবে ক্যারিয়ার গড়ে তুলছে। কারণ ভিডিও কন্টেন্টের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে যেমন- শিক্ষা থেকে বিনোদন, ব্যবসা থেকে বিজ্ঞাপন এখন সব জাগায় ভিডিও দরকার। তাই দক্ষ ভিডিও এডিটরা ফ্রিল্যান্স প্ল্যাটফর্মে কাজ করে ডলার আয় করছে। আপনি যত বেশি এই কাজে দক্ষ হবেন এবং আপনার সৃজনশীল চিন্তাধারা কাজে লাগিয়ে কাজ করবেন আপনার তত বেশি হবে। সুতরাং আমরা ভিডিও এডিটিং কে একটি পেশা হিসাবে অবহিত করতে পারি। 

ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ 

বর্তমান সময়ে শুধু ঘরে বসে বাংলা গল্প লিখ আয় তা নয়, মানুষকে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে ভিডিও কন্টেন্ট। ইউটিউব, ফেসবুক, টিকটকে সর্বদা ভিডিও দেখতে পাওয়া যায়। এই ভিডিও কে সবার কাছে আকর্ষণীয় ও মানসম্পন্ন করে তোলার পেছনে সবচেয়ে কার্যকরী ভূমিকা রাখে ভিডিও এডিটর। তাই ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার সুযোগ রয়েছে।  
ভিডিও-এডিটিং-কাজ-করে-ক্যারিয়ার-শুরু-করার-সঠিক-গাইড-লাইন
ভিডিও এডিটিং শুধু একটি টেকনিক্যাল স্কিল নয়, এতে আপনার সৃজনশীল চিন্তাধারা ফুটে তোলার সুযোগ রয়েছে। একটি সাধারণ ফুটেজ কে নিজের সৃজনশীল চিন্তাধারা দিয়ে দর্শকের কাছে আকর্ষনীয় করে উপস্থাপন করা হচ্ছে এডিটরের প্রধান কাজ। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন, চলচ্চিত্র, অনলাইন কোর্সে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ভিডিও এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও জন্য এডিটরদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। চলুন তাহলে কোথায় কোথায় ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন- 
  • বর্তমান সময়ে আপনি Upwork, Fiverr বা Freelancer.com এর মতো ফ্রিল্যান্সিয়াল প্ল্যাটফর্ম গুলোতে কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। ঘরে বসে প্রতি মাসে লক্ষ টাকা আয় করার সুযোগ রয়েছে। এখানে প্রতিদিন শত শত ভিডিও এডিটিং প্রজেক্ট পোস্ট হয়। ফেসবুক, ইউটিউব এবং ব্যবসায়ী সবাই এখন ভিডিও বানিয়ে ব্যবসা করছে। এসব ভিডিও এডিটিং করার জন্য এডিটরের প্রয়োজন তাই এসব জায়গায় কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন।  
  • বিভিন্ন বিজ্ঞাপন সংস্থা বা ওয়েব সিরিজে, টিভি চ্যানেল, ফিল্ম স্টুডিও তে ভিডিও এডিটরদের চাহিদা অনেক। আপনার দক্ষতা কাজে লাগিয়ে এখানে কাজ করে আয় করার সুযোগ রয়েছে। এসব জায়গায় কাজ করলে শুধু টাকা আয় করতে পারবেন এমনটা নয় পাশাপাশি বড় বড় প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাবেন।  
  • বর্তমান সময়ে ব্যবসা করে টিকে থাকতে হলে ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়া সম্ভব নয়। ডিজিটাল মার্কেটিং মানে হচ্ছে ভিডিও কন্টেন্ট তৈরি ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি বৃদ্ধি করা। এখনকার সময়ে ডিজিটাল মার্কেটিং কি? ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা কেমন তা বলে শেষ করা যাবে না। এসব ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ভিডিও এডিটিং কাজ করার জন্য এডিটরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।  
  • এছাড়া আপনি চাইলে নিজে একটা ইউটিউব চ্যানেল বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজে ভিডিও এডিটিং কাজ করে নিজেই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হতে পারেন। এখন অনেকেই নিজের ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও এডিটিং করে মাসে লক্ষ টাকা আয় করছে এবং অনেকেই এটা ক্যারিয়ার হিসাবে বেছে নিয়েছে। 
  • আপনি চাইলে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে বা প্রাইভেট সেন্টারে ভিডিও এডিটিং কাজ করে টাকা আয় করতে পারেন। সবাই এখন অনলাইন কোর্স বা ই-লার্নিং কন্টেন্ট তৈরি করার জন্য ভিডিও এডিটরদের চাহিদা দিয়ে থাকে। আসলে ভিডিও এডিটিং করে ক্যারিয়ার শুরু করার অনেক উপায় আছে। বর্তমান সময়ে যেকোন অনুষ্ঠানে ভিডিও ছাড়া চলে না। সবাই এখন যেকোন অনুষ্ঠানে ভিডিও কে বেশি প্রাধান্য দেই। তাই এসব অনুষ্ঠানের ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। 
পরিশেষে একটা কথা বলতে হয় যে, ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার অনেক সুযোগ রয়েছে। আপনার সৃজনশীল চিন্তাধারা এবং ধৈর্য কে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে নিজের একটা আলাদা অবস্থায় তৈরি করতে পারেন। এই কাজের সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো - এই কাজের জন্য আপনাকে বড় কোন ডিগ্রি অর্জন করার প্রয়োজন নেই। ভিডিও এডিটিং কাজের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হচ্ছে আপনার ধৈর্য এবং আপনার সৃজনশীন চিন্তা ধারা। 

ভিডিও এডিটিং কাজ করার জন্য সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা 

ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য এডিটিং সফটওয়্যার সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। প্রতিটি এডিটিং সফটওয়্যারের আলাদা আলাদা কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যদিও সফটওয়্যারের কিছু কিছু কমন টুল থাকে যা ব্যবহারের জন্য আপনি আলাদা আলাদা সফটওয়্যারে ব্যবহার করতে পারবেন। 


আপনি যদি প্রফেশনাল ভাবে ভিডিও এডিটিং কাজ করতে চাই তাহলে আপনাকে কোন এন্টারপ্রাইজ ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার সম্পর্কে অভিজ্ঞ হতে হবে। আপনি কেমন এডিটিং কাজ করবেন তা নির্ভর করবে কোন কোন টুল এবং ফিচার সম্পর্কে অভিজ্ঞ। ভিডিও এডিটিং মানে শুধু ফুটেজ কাট করে কিছু মিউজিক এড করে দিলেই এডিটিং হয় না। তার জন্য সফটওয়্যার দ্বারা কিছু টুল ব্যবহার করে ক্রিয়েটিভ আউটপুট তৈরি করাই হচ্ছে এডিটিং এর আসল উদ্দেশ্য।  

ভিডিও এডিটিং কাজের জন্য জনপ্রিয় কিছু সাইটের তালিকা 

১। Canva
  • সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিও, যে কোন প্রেজেন্টেশন এবং সকল প্রোমো ভিডিও তৈরির জন্য একদম পারফেক্ট।
  • অনলাইন যে কোন ভিডিও এডিটিং এবং গ্রাফিক্স ডিজাইন কাজের জন্য খুবই জনপ্রিয়।
  • প্রিফাব টেমপ্লট এবং খুব সহজ ইন্টারফেস। 
২। InVideo
  • ডিজিটাল মার্কেটিং ভিডিও, ইউটিউব ভিডিও বা সোশ্যাল মিডিয়া কাজের জন্য খুব ভালো।
  • খুব সহজ ইউজার ইন্টারফেস এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পাশাপাশি ট্রানজিশন ব্যবহার করা যায়।
  • প্রফেশলান মানের ভিডিও তৈরির জন্য ট্রেমপ্লেটের বিশাল সমাহার। 
৩। Kapwing
  • সহজে ভিডিও কাট, ট্রিম, সাবটাইটেল, টেক্সট এবং ইফেক্ট ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।
  • যে কোন ভিডিও কে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন ফরম্যাটে এক্সপোর্ট করার সুবিধা।
  • নতুনদের জন্য একদম উপযুক্ত। 
৪। Clipchamp
  • যে কোন ছোট প্রজেক্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানানোর জন্য একদম উপযুক্ত।
  • মাইক্রোসফটের সাথে সংযুক্ত, অনলাইন ভিডিও এডিটিং জন্য বিভিন্ন টুল রয়েছে।
  • টেমপ্লেট, স্টক ভিডিও এবং ভিডিও এক্সপোর্ট ফিচার খুব সহজ। 
৫। FlexClip
  • দ্রুত এবং সহজ যে কোন ভিডিও বানানোন জন্য এটি খুবই চমৎকার।
  • একদম নতুনদের জন্য ভিডিও প্রজেক্টের জন্য খুবই উপযুক্ত।
  • ট্রিম, টেক্সট, কাট, মিউজিক এবং গ্রাফিক্স সহজে এড করা যায়। 
৬। Biteable
  • ছোট ব্যবসা বা মার্কেটিং ভিডিও বানানোর জন্য এটি জনপ্রিয়।
  • বিশেষভাবে অ্যানিমেশন এবং প্রোফেশনাল ভিডিও তৈরি জন্য উপযুক্ত।
  • নতুন টেমপ্লেট এড এবং দ্রুত ভিডিও বানানো যায়। 
৭। WeVideo
  • সহজ ইন্টারফেস এবং বিভিন্ন ডিভাইসে ব্যবহার করা যায় খুব সহজে।
  • ক্লাউড ভিত্তিক ভিডিও এডিটিং করা যায়।
  • নতুন ইউটিউবার, শিক্ষার্থী এবং সকল ছোট ব্যবসার জন্য একদম উপযুক্ত। 

ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কেমন? 

বর্তমান ইন্টারনেটের যুগে একজন দক্ষ ও সৃজনশীল চিন্তার ভিডিও এডিটরের প্রচুর চাহিদা রয়েছে।  এখানে অনেক কাজ আছে যা একার পক্ষে কোন মতেই সম্ভব নয়। এক দক্ষ ভিডিও এডিটরের অনলাইন প্লাটফর্মে ভালো বেতনের চাকুরি এবং পাশাপাশি বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে স্বাধীনভাবে ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
ভিডিও-এডিটিং-কাজ-করে-ক্যারিয়ার-শুরু-করার-সঠিক-গাইড-লাইন
অনেকেই এখন সোশ্যাল মিডিয়া বিভিন্ন প্লাটফর্মে ভিডিও মার্কেটিং কাজ করে অনেক টাকা আয় করছে। অনলাইন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে জিরো থেকে মাসে ৩০ হাজার টাকা বা আরো বেশি ইনকাম করছে। সোশ্যাল মিডিয়া Youtube, Facebook, instagram, twitter, Linkdin - এর প্লাটফর্মে ভিডিও কন্টেন্ট বানিয়ে অনেকেই সফলতা একবারে শীর্ষে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যৎ এর চাহিদা আরো বাড়বে কিন্তু কমবে না।  

প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ করে ক্যারিয়ার গড়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। এর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। বাংলাদেশে প্রায় ৪৯ টি টিভি চ্যানেল আছে, যেখানে অনলাইন ফোর্টাল আছে এখানে এডিটরের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ডিজিটাল মার্কেটিং এর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিজ্ঞাপনের ধরণ। ছোট-বড় ব্যবসায়িকেরা সবাই এখন পণ্য সম্পর্কে গ্রাহকের কাছে আকৃষ্ট করার ভিডিও তৈরি করছে। এর ফলে ভিডিও এডিটরে চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়ছে। 

ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার FAQ প্রশ্ন উত্তর। 

প্রশ্ন ১: ভিডিও এডিটিং কাজ করে কি ক্যারিয়ার শুরু করা যায়? 
উত্তর: হ্যাঁ! ভিডিও এডিটিং কাজ করে সত্যিই ক্যারিয়ার শুরু করা সম্ভব। কারণ বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব, অনলাইন মার্কেটিং এবং বিভিন্ন কর্পোরেট ভিডিওর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তাই এই চাহিদা কে কাজে লাগিয়ে ভিডিও এডিটিং কাজ করে অনেকেই সফলতা অর্জন করছে।  

প্রশ্ন ২: ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ কোন সফটওয়্যার দিয়ে করবো? Free / Paid? 
উত্তর: যদি প্রফেশনাল ভাবে এই প্লাটফর্মে কাজ করতে চান? তাহলে অবশ্যই Paid সফটওয়্যার দিয়ে কাজ করতে হবে। এর কারণ Paid সফটওয়্যার দিয়ে যে মানের কাজ করে Free গুলো ওই মানের কাজ করে না। তবে অনুশীলনের জন্য Free সফটওয়্যার ব্যবহার করতে পারেন। 

প্রশ্ন ৩: ভিডিও এডিটিং সাইট বলেতে কি বুঝি এবং কেন ব্যবহার করা হয়?   
উত্তর: ভিডিও এডিটিং সাইট বলতে অনলাইনের এমন প্ল্যাটফর্ম কে বুঝায় যেখানে আপনি সরাসরি ব্রাউজার থেকে ভিডিও এডিট করতে পারেন। নতুন এবং অভিজ্ঞ সবাই ব্যবহার করতে পারে কোন ঝামেলা ছাড়াই। ব্যবহার করার কারণ এখানে প্রোফেশনাল, ইউটিউব, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যক্তিগত যে কোন ধরনের ভিডিও বানানো সহজ।  

প্রশ্ন ৪: কোন সফটওয়্যার দিয়ে ভিডিও এডিটিং শুরু করবেন? 
উত্তর: ভিডিও এডিটিং কাজ শুরু করার জন্য যে সফটওয়্যার সম্পর্কে বেশি ধারণ আছে তা নিয়ে শুরু করতে পারেন। তবে যারা নতুন CapCut, VN বা Filmora দিয়ে শুরু করলে দ্রুত এবং সহজে শিখতে পারবে। আর যারা অভিজ্ঞ Premiere Pro বা Da Vinci Resolve- ব্যবহার করতে পারেন।  

প্রশ্ন ৫: ভিডিও এডিটিং কাজের জন্য কোন সাইটগুলো ফ্রি এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য?
উত্তর: ভিডিও এডিটিং কাজের জন্য ফ্রি সাইটগুলো হচ্ছে - Canva, FlexClip, Kapwing, Shotcut বা DaVinci Resolve (বেসিক ভার্সন)। এই গুলো নতুনদের জন্য একদম সহজ হবে। এগুলো দিয়ে খুব সহজে ভিডিও কাট, ট্রিম, টেক্সট, ট্রানজিশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যোগ করা যায়। 

ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার নিয়ে আমার নিজস্ব মতামত

আজকের এই আর্টিকেলে মাধ্যমে ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার সঠিক গাইড লাইন সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া হয়েছে। কিভাবে ভিডিও এডিটিং কাজ করে খুব সহজে ক্যারিয়ার শুরু করতে পারেন। কিভাবে একজন প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর হবেন? যারা একদম নতুন তারা কিভাবে কাজ শুরু করবেন পাশাপাশি ফ্রি এবং পেইড এডিটিং সফটওয়্যার সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলেছি। 

বর্তমান সময়ে ভিডিও এডিটিং ক্যারিয়ার শুধু একটি চাকুরি নয়, এটি একটি সৃজনশীল যাত্রা। যারা এই কাজে নিয়মিত চর্চা করবে, নতুন নতুন ট্রেন্ড শিখবে পাশাপাশি কাজের প্রতি যত্নশীল হবে তারাই জীবনে সফলতা অর্জন করতে পারবে। জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য কিছু ব্যতিক্রম চিন্তা ধারা করা দরকার। তাই আপনার দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে ভিডিও এডিটিং কাজ করে ক্যারিয়ার শুরু করার এখনই উপযুক্ত সময়। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url