দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় জেনে নিই

প্রবাসে বা বিদেশে ঘুরতে যাওয়া মানেই লাখ লাখ টাকার খেলা। নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি যে, দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় সম্পর্কে সঠিক গাইডলাইন জানা থাকলে মধ্যবিত্ত বাজেটের মধ্যেও চমৎকারভাবে বিদেশ ভ্রমণ করা সম্ভব। 
দেশের-বাইরে-কম-খরচে-ভ্রমণের-উপায়-জেনে-নিই.webp
নতুন দেশের সংস্কৃতি, খাবার এবং দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার আনন্দ আমাদের জীবনের অভিজ্ঞতাকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ এবং পরিপক্ক করে তোলে বলে আমি মনে করি। আমাদের নিজেদের দেখা এবং জানা সব তথ্য নিয়ে নিচে একটি বিস্তারিত পোস্ট সূচিপত্র দেওয়া হলো যা আপনাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণকে অনেক বেশি সহজ, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী করতে সাহায্য করবে।

পোস্ট সূচিপত্রঃ দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায়

দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায়

আমাদের দেশের অনেক ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনেই বিদেশে ঘোরার তীব্র ইচ্ছে থাকে কিন্তু অতিরিক্ত খরচের ভয়ে অনেকেই তাদের স্বপ্নকে মনের ভেতর চেপে রাখেন। আমি যখন প্রথমবার দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় নিয়ে পড়াশোনা এবং নিজের ট্যুর প্ল্যানিং করছিলাম, তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে, একটু বুদ্ধি খাটালে খুব অল্প টাকাতেই দেশের বাইরে ঘুরে আসা যায়। আমরা যারা প্রকৃতির নতুন রূপ এবং ভিন্ন দেশের ইতিহাস জানতে পছন্দ করি, তাদের জন্য সঠিক পরিকল্পনা করা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। আমাদের এই ভ্রমণের প্রতিটি সুন্দর মুহূর্ত আমাদের জীবনকে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি দান করেছে যা আজ আপনাদের সাথে শেয়ার করছি।

বিদেশে সাশ্রয়ী উপায়ে ঘোরার মূল চাবিকাঠি হলো অপ্রয়োজনীয় আরাম-আয়েশ এবং লোকদেখানো বিলাসিতা সম্পূর্ণ পরিহার করা। আমরা যদি বড় বড় ফাইভ স্টার হোটেলের বদলে সাধারণ মানুষের কটেজ বা লোকাল হোস্টেলে থাকি, তবে আমাদের বাজেটের একটা বিশাল বড় অংশ বেঁচে যায়। এছাড়াও ভ্রমণের স্থান নির্বাচন, যাতায়াতের মাধ্যম এবং খাবারের ক্ষেত্রে আমাদের যথেষ্ট সচেতন ও সাশ্রয়ী হতে হবে। সঠিক পরিকল্পনা এবং সঠিক গাইডলাইন মেনে চললে খুব কম খরচেও একটি দারুণ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক ট্যুর সম্পন্ন করা সম্ভব যা আমরা নিজেরা করে দেখিয়েছি।

সাশ্রয়ী বাজেট ফ্রেন্ডলি দেশ নির্বাচন করার কৌশল

দেশের বাইরে ভ্রমণের প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো এমন একটি দেশ বেছে নেওয়া যেখানকার কারেন্সি বা মুদ্রার মান আমাদের টাকার কাছাকাছি অথবা ভ্রমণ খরচ তুলনামূলক কম। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম এবং মালয়েশিয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত বাজেট ফ্রেন্ডলি দেশ। এই দেশগুলোতে যাতায়াত খরচ যেমন কম, তেমনি থাকার হোটেল এবং খাবারের খরচও সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের মধ্যে থাকে যা আমাদের বাজেট ধরে রাখতে সাহায্য করে। নিজের পকেটের অবস্থা বুঝে সঠিক দেশ নির্বাচন করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব।  
যেমন ভারতের কলকাতা, দার্জিলিং, বা মেঘালয় আমরা খুব কম খরচে সড়কপথে বা ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারি যা আমাদের বিমান ভাড়ার বিশাল খরচ বাঁচিয়ে দেয়। আবার নেপাল বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে আমাদের টাকার মান বেশ ভালো হওয়ায় সেখানে গিয়ে খুব কম খরচে রাজকীয়ভাবে ঘুরে আসা সম্ভব। আমরা যদি শুরুতেই ইউরোপ বা আমেরিকার মতো দামি দেশগুলো টার্গেট করি, তবে আমাদের মধ্যবিত্ত বাজেট কোনোভাবেই মিলবে না। তাই দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় হিসেবে এশিয়ার এই সুন্দর ও সাশ্রয়ী দেশগুলোকে আমাদের ভ্রমণ তালিকার শীর্ষে রাখা উচিত বলে আমি মনে করি।

অফ-সিজনে বিমানের টিকিট বুকিং করার সুবিধা

আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে আমাদের বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশটি ব্যয় হয় বিমানের টিকিট কাটার পেছনে যা অনেক সময় আমাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমি আমার ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি যে, পর্যটন মৌসুম বা সিজন চলাকালীন বিমানের টিকিটের দাম আকাশচুম্বী থাকে যা আমাদের বাজেটকে নষ্ট করে দেয়। তাই আমরা যদি অফ-সিজনে বা কোনো উৎসবের ঠিক আগে বা পরে টিকিট বুক করি, তবে খুব কম দামে টিকিট পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও ছুটির দিন যেমন শুক্র ও শনিবার এড়িয়ে সপ্তাহের মাঝের দিনগুলোতে ফ্লাইটের টিকিট কাটলে অনেক টাকা সাশ্রয় হয় যা আমাদের বাজেটকে সফল করতে সাহায্য করে। 
অফ-সিজনে-বিমানের-টিকিট-বুকিং-করার-সুবিধা.webp
টিকিট কাটার সময় আমাদের অবশ্যই ভ্রমণের অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগে বুকিং করার চেষ্টা করা উচিত কারণ শেষ মুহূর্তে টিকিটের দাম অনেক বেড়ে যায়। আমরা আমাদের টিকিট কাটার জন্য বিভিন্ন ফ্লাইটের দাম তুলনা করার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ব্যবহার করি যা আমাদের সবচেয়ে কম দামের টিকিট খুঁজে পেতে সাহায্য করে। কোনো নির্দিষ্ট ডিরেক্ট ফ্লাইটের চেয়ে কানেক্টিং ফ্লাইট বা ট্রানজিট ফ্লাইট গুলোতে টিকিটের দাম কিছুটা কম থাকে, যা একটু সময় সাপেক্ষ হলেও খরচ কমাতে দারুণ কাজ করে। এই ছোটখাটো বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে যাতায়াত খরচ অনেক নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। 

অন-অ্যারাইভাল বা ফ্রি ভিসা দেশের তালিকা

ভিসা প্রসেসিং এর ঝামেলা এবং এর পেছনে থাকা বড় অঙ্কের ফি অনেক সময় আমাদের বিদেশ ভ্রমণের আনন্দকে কিছুটা ম্লান করে দেয়। আমরা যদি দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় হিসেবে এমন কিছু দেশ বেছে নিই, যেখানে আমাদের দেশের পাসপোর্টের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ফ্রি ভিসা দেওয়া হয়, তবে আমাদের অনেক টাকা এবং সময় বেঁচে যায়। যেমন নেপাল, মালদ্বীপ, বা এশিয়ার বেশ কিছু দেশে আমাদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা রয়েছে, যেখানে কোনো আগাম ভিসা ফি ছাড়াই সরাসরি চলে যাওয়া যায়। এর ফলে ভিসা রিজেক্ট হওয়ার কোনো ভয় বা দুশ্চিন্তা থাকে না। 

অন-অ্যারাইভাল ভিসার দেশগুলোতে যাওয়ার আগে আমাদের পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস থাকা এবং রিটার্ন এয়ার টিকিট ও হোটেলের বুকিং কপি সাথে রাখা বাধ্যতামূলক। আমি যখন এই ধরনের দেশে গিয়েছিলাম, তখন ইমিগ্রেশন অফিসাররা শুধু আমাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং খরচের জন্য পর্যাপ্ত ডলার এন্ডোর্সমেন্ট আছে কিনা তা যাচাই করেছিলেন। সঠিক কাগজপত্র সাথে থাকলে খুব সহজেই এয়ারপোর্টে নেমেই ভিসা স্ট্যাম্পিং করিয়ে নেওয়া যায় যা আমাদের পুরো প্রক্রিয়াকে অনেক বেশি মসৃণ ও সাশ্রয়ী করে তোলে। ঝামেলার ভিসা প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই দেশগুলো ভ্রমণ করা আমাদের জন্য বেশ লাভজনক।

বিলাসবহুল হোটেলের বিকল্প হিসেবে হোস্টেল বা হোমস্টে

বিদেশে গিয়ে রাত কাটানোর জন্য দামী হোটেলের পেছনে টাকা অপচয় করা সোলো ট্রাভেলার বা বাজেট ট্রাভেলারদের জন্য মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয় বলে আমি বিশ্বাস করি। আমি আমার বিদেশ ভ্রমণের সময় লাক্সারি হোটেলের বদলে ব্যাকপ্যাকার্স হোস্টেল (Backpackers Hostel) বা স্থানীয় মানুষের হোমস্টে (Homestay) বেছে নিই, যেখানে থাকার খরচ হোটেলের তুলনায় চার ভাগের এক ভাগ। হোস্টেলগুলোতে অন্যান্য দেশের ভ্রমণকারীদের সাথে রুম শেয়ার করে থাকার চমৎকার সুযোগ থাকে, যা আমাদের খরচ কমানোর পাশাপাশি নতুন বন্ধু তৈরিতে সাহায্য করে। এখানকার পরিবেশ সাধারণত অত্যন্ত নিরাপদ, ফ্রেন্ডলি ও চমৎকার হয়ে থাকে।
হোস্টেল বা হোমস্টেগুলোতে নিজস্ব রান্নাঘর বা কিচেন সুবিধা থাকে, যেখানে আমরা বাজার থেকে জিনিসপত্র কিনে নিজেদের খাবার নিজেরা রান্না করে নিতে পারি। এর ফলে বাইরের দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়ার খরচ এক ধাক্কায় অনেক কমে যায় যা আমাদের বাজেট ট্যুরকে সফল করতে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল। আমরা যদি পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করি, তবে পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট বা কটেজ ভাড়া নেওয়া হোটেলের আলাদা আলাদা রুম নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক হয়। থাকার জায়গায় কিছুটা স্যাক্রিফাইজ করলে আমরা আমাদের জমানো টাকা অন্যান্য দর্শনীয় স্থান ঘোরার পেছনে ব্যবহার করতে পারি।

লোকাল ট্রান্সপোর্ট ও গণপরিবহন ব্যবহারের নিয়ম

অচেনা দেশে গিয়ে যাতায়াতের জন্য প্রাইভেট ট্যাক্সি বা ক্যাব ভাড়া করা আমাদের পকেটের ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত এনে দেয় যা এড়িয়ে চলা অত্যন্ত জরুরি। আমি যখনই দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় খুঁজি, তখন সেখানকার লোকাল বাস, মেট্রো রেল, বা সাবওয়ে ট্রেন ব্যবহার করার নিয়মগুলো আগে থেকেই ইন্টারনেট থেকে ভালো করে শিখে নিই। এই গণপরিবহনগুলো অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক, সময়োপযোগী এবং এগুলোর ভাড়া ট্যাক্সির তুলনায় অবিশ্বাস্য রকমের কম হয়ে থাকে। লোকাল মানুষের সাথে বাসে বা ট্রেনে যাতায়াত করলে সেই দেশের আসল জীবনযাত্রাকে খুব কাছ থেকে অনুভব করা যায়।

অনেক দেশে পর্যটকদের জন্য ওয়ান ডে পাস বা উইকলি ট্রাভেল কার্ডের সুবিধা থাকে, যা কিনলে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আনলিমিটেড বার বাস ও ট্রেনে যাতায়াত করা যায়। আমরা ভিয়েতনাম এবং থাইল্যান্ডে ভ্রমণের সময় তাদের লোকাল রাইড শেয়ারিং অ্যাপ যেমন গ্র্যাব (Grab) ব্যবহার করেছিলাম, যা সাধারণ ট্যাক্সির চেয়ে অনেক সাশ্রয়ী এবং এতে ভাড়ার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়। পায়ে হেঁটে ছোটখাটো দূরত্ব পার হওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো, তেমনি এটি আমাদের যাতায়াত খরচকে একদম শূন্যে নামিয়ে আনে। গণপরিবহনের সঠিক ব্যবহারই পারে আমাদের আন্তর্জাতিক ট্যুরকে বাজেট ফ্রেন্ডলি করতে।

রেস্তোরাঁর বদলে স্ট্রিট ফুড ও লোকাল খাবার

বিদেশে গিয়ে বড় বড় ট্যুরিস্ট রেস্তোরাঁগুলোতে খাবার অর্ডার করলে ভ্যাট এবং সার্ভিস চার্জ মিলিয়ে বিশাল বড় একটি বিল চলে আসে যা আমাদের বাজেট নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। তাই আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলব, বিদেশের স্ট্রিট ফুড বা রাস্তার ধারের খাবারগুলো যেমন সুস্বাদু, তেমনি এগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও নতুন সংস্কৃতির স্বাদ পাওয়ার সেরা মাধ্যম। আমরা যখন ব্যাংকক বা কুয়ালালামপুরে ছিলাম, তখন নাইট মার্কেট বা রাতের বাজারগুলো থেকে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী খাবার খেয়েছিলাম যা আমাদের পকেটের জন্য বেশ আরামদায়ক ছিল। লোকাল মানুষের ভিড় দেখে দোকান নির্বাচন করা ফ্রেশ খাবার পাওয়ার সেরা ট্রিকস।

সকালের নাস্তার জন্য হোস্টেলের ফ্রি ব্রেকফাস্টের সুবিধা নেওয়া অথবা সুপারশপ থেকে ব্রেড, মিল্ক বা ফলমূল কিনে নেওয়া আমাদের খরচ অনেক বাঁচিয়ে দেয়। আমরা খাবার অর্ডার করার আগেই সবসময় মেনুর দাম এবং ট্যাক্স কত আসবে তা ভালো করে নিশ্চিত করে নিতাম যাতে বিল দেওয়ার সময় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়। দলগতভাবে ভ্রমণ করলে খাবারের মিল সিস্টেম করা বা বড় ডিশ শেয়ার করে খাওয়া অনেক সহজ হয় এবং এতে অপচয় কম হওয়ার পাশাপাশি খরচও অনেক কমে আসে। ভিন্ন দেশের আসল স্বাদ নেওয়ার জন্য বেশি টাকা খরচ করার কোনো প্রয়োজন নেই।

ইন্টারন্যাশনাল কারেন্সি কার্ড ও মানি এক্সচেঞ্জ টিপস

বিদেশে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি না জানলে ব্যাংক চার্জ এবং মানি এক্সচেঞ্জের লসের কারণে আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়ে যেতে পারে। আমি আমার বিদেশ যাত্রার আগে আমাদের দেশের ব্যাংক থেকে একটি ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে ডলার এন্ডোর্স করিয়ে নিই, যা দিয়ে যেকোনো দেশে খুব সহজে ও সঠিক রেটে পেমেন্ট করা যায়। ক্যাশ টাকা বহনের চেয়ে কার্ড ব্যবহার করা অনেক বেশি নিরাপদ এবং এতে টাকা চুরি বা হারিয়ে যাওয়ার কোনো ভয় থাকে না। তবে জরুরি খরচের জন্য কিছুটা লোকাল ক্যাশ কারেন্সি সবসময় সাথে রাখা ভালো।
ইন্টারন্যাশনাল-কারেন্সি-কার্ড-ও-মানি-এক্সচেঞ্জ-টিপস.webp
এয়ারপোর্টের ভেতরের মানি এক্সচেঞ্জ বুথগুলোতে সাধারণত এক্সচেঞ্জ রেট বা ডলারের দাম সবচেয়ে খারাপ পাওয়া যায়, তাই সেখানে খুব বেশি টাকা চেঞ্জ করা উচিত নয়। আমি এয়ারপোর্ট থেকে শুধু মেইন শহরে যাওয়ার মতো লোকাল টাকা চেঞ্জ করে নিই এবং বাকি টাকা শহরের ভেতরের লোকাল এক্সচেঞ্জ মার্কেট থেকে চেঞ্জ করি যেখানে ভালো রেট পাওয়া যায়। এছাড়াও বর্তমান সময়ে ডিজিটাল পেমেন্ট মাধ্যমগুলো বিশ্বব্যাপী অনেক জনপ্রিয় ও মানসম্মত হয়ে উঠেছে যা আমাদের ট্রাভেলকে অনেক সহজ করে দেয়। আর্থিক লেনদেনে সচেতন থাকলে আমাদের বাজেট শতভাগ সফল করা সম্ভব।

দলগত বা গ্রুপ ট্রাভেলের মাধ্যমে খরচ কমানোর ট্রিকস

আমার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থেকে আমি বলতে পারি যে, একা ভ্রমণের চেয়ে গ্রুপ বা দলগতভাবে ভ্রমণ করলে খরচ অবিশ্বাস্য রকমের কমে যায়। আমরা যখন বন্ধুদের একটি টিম তৈরি করে দেশের বাইরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, তখন হোটেল রুমের ভাড়া থেকে শুরু করে লোকাল গাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ডিসকাউন্ট পেয়েছিলাম। যেকোনো খরচ যখন সবার মাঝে সমানভাবে ভাগ হয়ে যায়, তখন মাথাপিছু ব্যয়ের পরিমাণ আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক কম হয়। একা একা বিদেশ ভ্রমণ করলে এই সুবিধাগুলো পাওয়া কখনোই সম্ভব নয়। 
গ্রুপ ট্রাভেলের আরেকটি বড় সুবিধা হলো কোনো ইমার্জেন্সি বা বিপদের সময় পাশে বিশ্বস্ত মানুষ পাওয়া যায় যা আমাদের মানসিক শক্তি অনেক বাড়িয়ে দেয়। আমরা প্রতিদিনের খরচের হিসাব রাখার জন্য আমাদের গ্রুপের একজন বন্ধুকে দায়িত্ব দিয়েছিলাম যিনি নিখুঁতভাবে সব হিসাব ডায়েরিতে লিখে রাখতেন যাতে আমাদের বাজেটের ওপর একটি ভালো নিয়ন্ত্রণ থাকে। নিজের অপ্রয়োজনীয় ইচ্ছা গুলোকে একটু নিয়ন্ত্রণে রাখলে এবং বন্ধুদের সাথে খরচ ভাগ করে নিলে খুব সীমিত বাজেটের মধ্যেই একটি স্মরণীয় এবং দারুণ বিদেশ ট্যুর শেষ করা সম্ভব যা আমরা নিজেরা করে দেখিয়েছি। 

শেষ কথাঃ দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায়

পরিশেষে বলা যায় যে, দেশের বাইরে গিয়ে নতুন পৃথিবী দেখার স্বপ্ন পূরণ করার জন্য ধনী হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন শুধু সঠিক তথ্য এবং একটি সুশৃঙ্খল ভ্রমণের পরিকল্পনা। আমি আমার নিজের বাস্তব জীবনের আন্তর্জাতিক ট্যুরগুলোর অভিজ্ঞতা থেকে যে বিষয়গুলো উপলব্ধি করেছি এবং দেশের বাইরে কম খরচে ভ্রমণের উপায় সমূহের যে বিবরণ আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম, তা আশা করি আপনাদের পরবর্তী বিদেশ যাত্রাকে অনেক বেশি সহজ ও নিরাপদ করবে। প্রবাসের মাটিতে পথ চলার প্রতিটি পদক্ষেপ আমাদের জীবনের এক একটি নতুন শিক্ষা যা আমাদের মনের সীমানাকে অনেক উদার করে তোলে।  

তবে বিদেশের মাটিতে ঘোরার সময় আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন আমাদের কোনো আচরণের কারণে আমাদের দেশের সম্মান নষ্ট না হয়। সেখানকার আইনকানুন, ট্রাফিক নিয়ম এবং পরিবেশের পরিচ্ছন্নতাকে আমাদের শতভাগ শ্রদ্ধা করতে হবে এবং একজন আদর্শ পর্যটকের পরিচয় দিতে হবে। প্লাস্টিকের বোতল বা ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা থেকে আমাদের নিজেদের কঠোরভাবে বিরত রাখতে হবে। আপনাদের সবার আগামী আন্তর্জাতিক বা বিদেশ ভ্রমণ অত্যন্ত নিরাপদ, সুন্দর এবং সফল হোক এই শুভকামনা জানিয়ে আজ এখানেই ইতি টানছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

রাফিকা আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url